মেইন ম্যেনু

মাদরাসায় শিশুর পায়ে শেকল: ‘এ যেন এক মধ্যযুগের বর্বরতা’

শ্রাবণ, মাগুরা থেকে: যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরিলাকুড়ে মাদরাসায় হাফেজি শিক্ষায় বাধ্য করতে আবুজার নামে দশ বছরের এক শিক্ষার্থীকে পায়ে শেকলের সঙ্গে তালা মেরে ভারি কাঠ ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হতো। ওই শিক্ষার্থী নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে রোববার রাতে মাদরাসা থেকে পালিয়ে মাগুরা চলে আসে। মাগুরা সদর থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে শেকল থেকে মুক্ত করে সোমবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। আবুজার জানায়, তার গ্রামের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ইন্দ্রা গ্রামে। ৫ বছর আগে তার বাবা আবদুল আলিম বাঘারপাড়ার সদুল্যাপুর হাফেজিয়া মাদরাসায় ভর্তি করে দেন। কিন্তু হাফেজি শিক্ষায় তার কোনো আগ্রহ নেই। তাই সে বারবার মাদরাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে তার বাবা আবদুল আলিম পায়ের সঙ্গে শেকল বেঁধে ভারি কাঠ ঝুলিয়ে মাদরাসায় রেখে আসে। কিন্তু এতেও শিশুটিকে মাদরাসায় আটকে রাখা যায়নি। মাদরাসার অন্যান্যদের ফাঁকি দিয়ে রোববার বিকেলে সে পালিয়ে যায়। ভারি কাঠের বোঝাসহ শেকলবাঁধা অবস্থায় কয়েক মাইল হেঁটে তারপর একটি বাসে উঠে সে মাগুরা শহরে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার শিশু আবুজার জানায়, হাফেজি পড়তে তার ভালো লাগে না। তারপরও তার বাবা জোর করে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে দিয়েছেন মাদরাসায়। সেখান থেকে পালাবার পর মাকে দেখতে যেতে ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে ফিরে গেলে বাবা মারধর করে আবারো মাদরাসায় শেকল বেঁধে রেখে আসবেন। এ কারণে সে লুকিয়ে ফরিদপুরে খালার বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আবুজার অভিযোগ করে, তাকে তালা মেরে পায়ে শেকল লাগানো ও কাঠ ঝোলানোর ব্যাপারে মাদরাসার হুজুরকে তার বাবা সম্মতি দিয়েছিলেন।সদর থানার ওসি আজমল হুদা জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টায় দিকে পায়ে তালা দিয়ে শেকল ও ভারী কাঠ ঝোলানো অবস্থায় একজন সাংবাদিক তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে সোমবার বিকেলে আবুজারকে তার বাবা আলিমের সঙ্গে করে পুলিশের মাধ্যমে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাঘাপাড়া পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে। অবুজারের বাবা আবদুল আলিম অপকর্মের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মাদরাসা থেকে যাতে না পালাতে পারে, সে জন্য ছেলের পায়ে শেকল বেঁধে তালা ও কাঠ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখছি ভুল হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই