মেইন ম্যেনু

কচুয়াখালীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে কোমলমতী শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

ভোলার লালমোহনের চর কচুয়াখালী গ্রামে ২০ বছরেও বিদ্যালয় স্থাপন না করায় পাঁচ শতাধিক শিশু শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত।চরের শিশুরা গরু-ছাগল চড়িয়ে কিংবা নদীতে মাছ ধরে দিন কাটালেও রান্না-বান্নার আর গৃহস্থলীর কাজ করে বেড়ে উঠছে মেয়েরা। শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে কোমলমতী এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে। এর ফলে সরকারের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।তবে কিছু সংখ্যক শিশু জেলার বাইরের পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরহাদী নামক এলাকায় গিয়ে স্কুলেভর্তি হলেও দুরত্ব সমস্যার কারণে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এতে ওই সব শিশুরাও ঝড়ে পড়ছে শিক্ষা জীবন থেকে। সরেজমিন গিয়ে চরবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৪০বছর আগে চরফ্যাশনের নীলকমলের নিকটবর্তী তেঁতুলিয়ার বুক চিরে জেগে উঠে কচুয়াখালী চর। চরটি জন্মের পর থেকে লালমোহনের পশ্চিম চর উমেদের সাথে যুক্ত হয়। এর অপরপ্রান্তে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সীমান্তবর্তী অংশ।

২০ বছর আগে সেখানে বসতি গড়ে উঠলেও গড়ে উঠেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে সেখানকার শিশুরা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেনা।চরের কৃষক আ: রহমান জানান, বিদ্যালয় না থাকায় ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে পড়ালেখা করাতে পারছিনা। আমাদের এখানে একটি স্কুল হলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পেতো।

কৃষকবধূ সাবিনা জানান, আমাদের ছেলে- মেয়েদের পড়াশুনা করাতে পারছিনা। ছেলেরা গরু-মহিষ চড়ায়। তারা পড়ালেখা করার ইচ্ছা করলেও বিদ্যালয়ের অভাবে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেনা।কৃষক আব্বাস বলেন, চর কচুয়াখালিতে স্কুল নেই, পাশ্ববর্তী জেলায় ছেলে- মেয়েদের স্কুলে পাঠাই। কিন্তু প্রতিদিন তারা স্কুলে যেতে পারেনা। অনেক দুর, তাও নদ-নদী পাড়ি দিতে হয়।

স্কুল পড়ুয়া আমেনা বলেন, রোদে পুড়ে, বৃস্টিতে ভিজে স্কুলে যেতে হয়। কোন রাস্তা নেই, খাল বিলের মধ্যে এমনকি ঝোপ-ঝাপের মধ্য দিয়ে ছোট ছোট রাস্তা পার হতে হয়। এতে অনেক, ঝুঁকি রয়েছে। চরের বাসিন্দা ইদ্রিস ও আলফাজ বলেন, ২০ বছর ধরে চরে আছি, সরকার যায়, সরকার আসে। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না। এতো বছরেও একটি স্কুল ঘর দেয়া হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেলো, চরে ৫ হাজার মানুষ বসবাস করে আসছেন। এদের মধ্যে দেড় হাজার বাসিন্দা ভোটার। চরে ৫ শতাধিক শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল যাওয়ায় উপযোগী শিশু। তবে তারা শিক্ষা গ্রহন করতে পারছেনা। চরে একটি রেজিঃ স্কুল থাকলেও সেখানে কোন পড়ালেখা হয়না। নেই শিক্ষক, নেই শিক্ষার্থী। মূল ভূখন্ড থেকে কোন শিক্ষক চরে যেতে চায়না। স্কুলটিতে কৃষকের খর কুটা রাখা হয়।

চর বাসিন্দারা জানান, কচুয়াখালী চর থেকে তেঁতুলিয়া নদী এক ঘন্টা পাড়ি দিয়ে চরফ্যাশনের নীলকমল ইউনিয়নের ঘোষের হাট হয়ে ৩০ কি: মি: পথ অতিক্রম করে পশ্চিম চরউমেদ ইউপি ও ৪০ কি: মি: পথ অতিক্রম করে লালমোহন উপজেলা সদরে যেতে হয়। দুরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সকল সুবিদা থেকে চরবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চরে কোন রাস্তা-ঘাট নেই, কোথায় খাল, কোথায় বিল আবার কোথায় বিস্তৃর্ন ফসলের ক্ষেত।এর মাঝে ছোট ছোট আইল, তা দিয়েই চরাবাসী চলাচলা করেন। মাঝে মধ্যে খালের পানিতে ভিজে পারাপার হতে হয়। অন্যদিকে, শিক্ষা বঞ্চিত শিশুরা কেউ বাবার সাথে নদীদে মাছ শিকার করছে, কেউ গরু-মহিষ চাড়াচ্ছে, কেউবা অন্য এলাকায় গিয়ে শ্রম বিক্রি করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: নিরব হাওলাদার বলেন, চরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা না থাকায় শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত। তবে একটি রেজি: বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে কোন পড়ালেখা হয় না। চরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবী দীর্ঘদিনের।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আইয়ুব আলী হাওলাদারের জানান, আমরা এ ব্যাপারে প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।। ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: ছায়াদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।






মন্তব্য চালু নেই