মেইন ম্যেনু

কতটা ধনী ইংল্যান্ডের রানী?

বিশ্বের নারীদের মধ্যে এলিজাবেথ দ্বিতীয় নিঃসন্দেহে একজন প্রভাবশালী নারী। প্রায় ছয় দশক ধরে ইংল্যান্ডের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করে আছেন তিনি। একবিংশ শতাব্দীর এই প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতার সময় যখন প্রায় প্রত্যেকটি দেশই শাসনকাঠামোর দিক দিয়ে ভিন্নতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ইংল্যান্ড এখনও রানী এলিজাবেথকে কেন্দ্র করে শত বছর পুরনো উপনিবেশিক পরিবেশের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। পৃথিবীতে বর্তমান সময়ে যতগুলো দেশে রাজতন্ত্র চালু আছে তারমধ্যে ব্রিটিশ রাজপরিবার সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কারণ দীর্ঘ উপনিবেশিক শাসনের ফলে অধিকাংশ দেশের মানুষের কাছেই ব্রিটিশ রাজপরিবার মানে ভিন্ন এক পারিবারিক কাঠামো।

রানী এলিজাবেথের ধন সম্পদের পরিমান ঠিক কত এনিয়ে জল্পনা কল্পনার কিন্তু শেষ নেই। খোদ ইংল্যান্ডের মানুষদের মধ্যে পর্যন্ত এনিয়ে কানাঘুষা যে একেবারেই নেই তা বলা যাবে না। সম্প্রতি ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রানীর সম্পদের পরিমান উল্লেখ করা হয়। ওই বিবৃতিতে দেখানো হয় যে, রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয়ের সম্পদের পরিমান প্রায় ২৮ কোটি পাউন্ড। এই হিসেব মতে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের ওয়েস্টমিনিস্টারের ডিউক জেরাল্ড গ্রোসভানোরের তুলনায় রানীর সম্পদের পরিমান অনেক কম।

ডিউক জেরাল্ডকে ইংল্যান্ডে বলা হয় প্রোপার্টি ম্যাগনেট হিসেবে। মধ্য লন্ডনের প্রায় অর্ধেক জমিই তার কোম্পানির নামে রয়েছে যা গ্রোসভানোরের এস্টেট নামে পরিচিত। আর এই এস্টেটের মূল্য প্রায় দশ বিলিয়ন পাউন্ড। সম্প্রতি ব্লুমবার্গ ম্যাগাজিনের বিলিওনার ইনডেক্সে এই তথ্য প্রকাশ করে। লন্ডনের সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিউক জেরাল্ডের মতো আরও অনেকেই লাভবান হয়েছেন এবং হচ্ছেন। অষ্টম প্রজন্মে প্রভুত সম্পদের মালিক হওয়া চার্লস কাডোগান হলেন ইংল্যান্ডের প্রথম উচ্চপদস্থ পরিবারগুলোর একটির অন্যতম সদস্য। তথ্যানুযায়ী, তার সম্পদের পরিমান প্রায় পাঁচ বিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়াও মধ্য লন্ডনের মধ্যে এই পরিবারের রয়েছে প্রায় ৯০ একর জমি। অর্থাৎ চার্লস কাডোভান চেলসিয়া থেকে নাইটব্রিজ পর্যন্ত বিশাল জায়গার একছত্র মালিক।

বর্তমান রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন ১৯৫২ সালে। তিনি সিংহাসনে বসার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেররা ইংল্যান্ডে ব্যবসা করতে আসেন এবং তাদের হাত ধরেই অনেকে রাতারাতি বিলিওনার হয়ে যান। এর আগে ইংল্যান্ডের সাবেক রানীর সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ইংল্যান্ডে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে অনেক নিয়মকানুনের ভেতর দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমান রানী ক্ষমতায় বসার পর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বজায় থাকা সাবেক অনেক আইন রহিত করেন, আর এই সুযোগ কাজে লাগায় ইংল্যান্ডের অনেক উচ্চপদস্থ পরিবার যারা দীর্ঘদিন ধরেই রানীর আস্থাভাজন হয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন।

বর্তমানে মাইক্রোসফ্টের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পদের পরিমান প্রায় সাড়ে পঞ্চশ বিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়াও বিশ্বে আরও দশজন স্বনামধন্য ধনী রয়েছেন যাদের অর্থের পরিমান কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। তবে ইংল্যান্ডের এই রানীর প্রদর্শিত সম্পদের পাশাপাশি রয়েছে বিপুল অপ্রদর্শিত সম্পদ। যেমন ধরা যাক, গোটা ইংল্যান্ডের পর্যটন খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের কথাই। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমান পর্যটক স্রেফ ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যাম প্যালেস দেখতেই আসেন। রাজপ্রাসাদের পাশাপাশি যতগুলো ব্রিটিশ জাদুঘর রয়েছে তার সবগুলো থেকে বছরে যা আয় হয় তা সম্পূর্ণ আয়করের আওতামুক্ত এবং সরাসরি রানীর কোষাগারে জমা হয়।

তবে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, বর্তমান রানীর মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের অর্থ উপার্জনে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। এমনও হতে পারে যে, ব্রিটেন আর রাজপরিবারের নিয়ন্ত্রনে নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে যেসব ব্যবসায়িরা রানীর আনুকূল্যে ব্যবসা করছেন তারাই হয়তো আগামী লন্ডনের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। আর তাই যদি হয়, তাহলে ব্রিটেনের রাজপরিবারের অনেক গোপনীয়তাই নিকট ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই