মেইন ম্যেনু

কতো ঝাড়ি খেয়েছি, এখন খুনির সঙ্গে বসতে বলবেন না

বিএনপির জাতীয় ঐক্যমত গড়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যখন জাতির প্রয়োজন ছিল তখন তিনি ( খালেদা) আসেননি। এখন সরকার এমন কোন রাজনৈতিক সঙ্কট পড়েনি বা এমন কোনো রাজনৈতিক দৈন্যতা পড়েনি যে খুনির সঙ্গে বসতে হবে। যার হাতে মানুষ পুড়ে তার সঙ্গে বসার কোন ইচ্ছা আমার নেই। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মেনে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে ‍বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।’

আজ দুপুরে সরকার বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নেদারল্যান্ডস সফরের প্রাপ্তি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি উনাকে (খালেদা জিয়া) ফোন করেছি। কী ধরনের কথা আমাকে শুনতে হয়েছে, ঝাড়ি খেয়েছি। আপনাকে যদি কেউ এভাবে ঝাড়ি দেয় তাহলে কি আপনি তার সাথে কথা বলবেন? আমি নির্বাচনের আগে তাকে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছি। এমনও বলেছিলাম, আপনি যে মন্ত্রণালয় চাবেন তাই দেয়া হবে। উনি কি এসেছিলেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সত্যিকারভাবে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল তখন উনি সাড়া দেননি। উনি নির্বাচন বানচাল করার জন্য শত শত মানুষ হত্যা করেছেন। পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। ওনার সঙ্গে বসতে গেলে তো পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে আমার দেশের সাধারণ মানুষ খুন করে, আর আমি এতদূর পর্যন্ত গেলাম, উনাকে ফোন করলাম। উনি আসেননি। নির্বাচন বর্জন করার জন্য, মানুষকে বাঁধা দেয়া, মানুষ হত্যা করা, খুন করা, স্কুল পোড়ানো, প্রিজাইডিং অফিসার পোড়ানো,  উনি কোন কাজটা না করেছেন। এতেও যখন নির্বাচন বন্ধ হল না তখন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জ্বালাও পোড়া শুরু করলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও আমি অনেক টলারেট করেছি, অনেক সহ্য করেছি, ১৫ আগস্টের ঘটনা, খুনি রশিদকে এমপি বানিয়ে পার্লামেন্টে বসানো, বজলুল হুদাকে পার্লামেন্টে কে বসিয়েছিল? খালেদা জিয়া বসিয়েছিলো। এই আত্মস্বীকৃত খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কে পুরস্কৃত করেছিল? জিয়াউর রহমান করেছিল। যারা আমার বাবা-মাকে হত্যা করেছে, যারা ছোট রাসেলকে হত্যা করেছে। তারপরও রাজনীতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমি উনাকে ফোন করেছি। ’

খালেদা জিয়াকে খুনিদের দোসর উল্লেখ করে বলেন, ‘তারপরও উনি (খালেদা জিয়া) যদি মনে করেন বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিৎ, তা হলে তার সঙ্গে বসার বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। যুদ্ধাপরাধীরা এদেশে মানুষ হত্যা করেছেন মা-বোনদের হত্যা করেছেন।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সমর্থন করলে এবং বিচার মেনে এদের (জামায়াত) সঙ্গ ছাড়লে তখন দেখা যাবে। তবে দয়া করে আমাকে আর ওই খুনির সঙ্গে বসতে অনুরোধ করবেন না। কেননা, বসলেই আমি পোড়া মানুষের গন্ধ পাবো।’

 

 






মন্তব্য চালু নেই