মেইন ম্যেনু

কন্যাশিশু জন্ম নিলেই লাগানো হয় ১১১ গাছ

এখনো পর্যন্ত এশিয়ার একটি রক্ষণশীল দেশই বলা যায় ভারতকে। বিশেষ করে লিঙ্গ বৈষম্যের ক্ষেত্রে। দেশটিতে এখানো সবকিছুতে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের প্রাধান্য অনেক বেশি। তবে এই রক্ষণশীলতা আর মেয়েদের প্রতি বৈষম্যের মধ্যেও সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এক উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের একটি গ্রামের লোকেরা।

রাজস্থানের পিপলান্ত্রি গ্রামের মানুষের এই উদ্যোগটিকে বলা যায় একেবারেই অভিনব ও আধুনিক একটি উদ্যোগ। মেয়েদের সম্মানেই এ উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এতে প্রতিটি কন্যাশিশু জন্মগ্রহণের ফলে একদিকে স্থানীয়রা উপকৃত হচ্ছে। অপরদিকে লাভবান হচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী।

নিজেদের কন্যাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং একটি সবুজ পৃথিবী নির্মাণের লক্ষ্যে প্রতিটি কন্যাশিশু জন্মগ্রহণের সাথে সাথে গ্রামটির বাসিন্দারা ১১১টি বৃক্ষ রোপণ করে। এর কারণ তারা নিশ্চিত করতে চায়, জনসংখ্যা বাড়লেই তা পরিবেশের জন্য কোনো হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না।

গ্রামটির লোকজন ইতিমধ্যে এটিকে তাদের একটি ঐতিহ্যে পরিণত করেছে। পরিবেশবান্ধব এই ঐতিহ্যটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ভবিষ্যত নির্মাণ করে চলেছে। এছাড়া প্রতিটি কন্যাশিশু জন্মের সাথে সাথে গ্রামবাসী নিজেদের থেকে ২১ হাজার রুপি এবং ওই শিশুর মা-বাবার কাছ থেকে ১০ হাজার রুপি তুলে থাকে। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যাংকে ২০ বছরের একটি স্থায়ী আমানত হিসেবে রেখে দেয়া হয়।

প্রথাটি প্রথম চালু করেছিলেন স্থানীয় সর্দার শ্যাম সুন্দর পালিওয়াল। অল্প বয়সে নিজের মেয়ে মারা যাওয়ার পর কন্যাশিশুদের সম্মানে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। গত ছয় বছর ধরে গ্রামটিতে চলে আসছে এ পদ্ধতিটি। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে গ্রামটিতে।






মন্তব্য চালু নেই