মেইন ম্যেনু

কবরে লাশ নেই, আছে পলিথিন-সুতলি!

সিলেটের বিশ্বনাথে কবর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করার সময় কবরে লাশ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে কবরে লাশ না থাকলেও কাপড়, পলিথিন এবং সুতলি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৬ মে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাঁজাঞ্চী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের আবদুল মনাফ। দুই দিন পর বাড়ির একটি গোয়াল ঘর থেকে গলায় দড়ি লাগানো, হাঁটু ভাঁজ করা এবং কাঠের তক্তার আড়াল দিয়ে রাখা অবস্থায় তার লাশ খুঁজে পান স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহত মনাফের ভাই বিশ্বনাথ থানায় একটি অপমৃত্যু জিডি দায়ের করেন। তবে গ্রামবাসীক আবদুল মনাফকে হত্যার অভিযোগে গ্রামের উস্তার আলী ও তার ছেলে মিন্টু মিয়াকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

তবে পুলিশ নিহত আবদুল মনাফের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরবর্তীতে আবদুল মনাফকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে তার ভাই আবদুল হাশিম বাদি হয়ে পাঁচজনের নামোল্লেখ ও আরো চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত ২৫ মে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩-এ একটি দরখাস্ত মামলা করেন (বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নম্বর- ১৪১/২০১৫)। ওই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- হরিপুর গ্রামের উস্তার আলীর ছেলে টিটু মিয়া (২৫), তার বাবা উস্তার আলী (৫৫), ভাই মিন্টু মিয়া (২২), লুৎফুর (৩২) ও একই গ্রামের মৃত মজর আলীর ছেলে কবিরুল (৩৫)।

আবদুল হাশিম আদালতে অভিযোগ করেন, তার ভাই আবদুল মনাফের ময়নাতদন্ত না করেই প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। দাফনের সময় মনাফের শরীরে কোনো ময়নাতদন্তের (কাঁটাছেঁড়ার দাগ) পাওয়া যায়নি। সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডা. ইফফাত ফারুকী আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত ও বশীভূত হয়ে কোন ধরনের ময়নাতদন্ত না করেই প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানান। সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২-এর বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তার আবেদন আমলে নিয়ে গত ১৭ জুন পুলিশকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার আদেশ দেন।

এ সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্ত না হওয়ায় ২৬ জুলাই আদালত পুনরায় পুলিশকে ১০ আগস্টের মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার আদেশ দেন।

ওই আদেশের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার আবদুল মনাফের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করতে যায় পুলিশ। এসময় নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমুদ, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদ সিরাজুম মুনির (রাহেল), বিশ্বনাথ থানার এসআই সুমন চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু কবর খুঁড়ে আবদুল মনাফের লাশ পাওয়া যায়নি। লাশের বদলে কবরে একটি কাপড়, পলিথিন ও সুতলি পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে লাশটি পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আমরা আজ কবর খুঁড়ে কোনো লাশ পাইনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমুদ বলেন, লাশ না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবেন।






মন্তব্য চালু নেই