মেইন ম্যেনু

কবিতা লেখার হাতে ‘করুণা চেয়ে’ লিখবেন না হেলাল হাফিজ

একটি মাত্র কাব‌্যগ্রন্থ দিয়েই বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কবি হেলাল হাফিজ অন্ধ হতে চলেছেন।

গ্লুকোমা আক্রান্ত হয়ে একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে ৬৮ বছর বয়সী এই কবির, অন্য চোখটির অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন এখন।

“আমি লেখালেখির লোক, অথচ আমিই কি না অন্ধ হয়ে যাচ্ছি,” নিদারুণ হতাশার সঙ্গে একথা বললেও চিকিৎসার জন‌্য যেচে কারও দ্বারস্ত হতে চান না হেলাল হাফিজ।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবি-সাহিত‌্যিকসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা ব‌্যক্তির সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন।

চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এক বিশেষ সহকারী বিষয়টি জেনে আমাকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত করতে বলেছে; কিন্তু আমি কোনো দরখাস্ত করব না। আমি কারও করুণার পাত্র হতে চাই না।”

“আমি একজন কবি। নিজের জন্য সাহায্য চেয়ে কিছু লিখে আমার সার্বভৌম স্বত্বা ক্ষতিগ্রস্ত করব না,” বলেন নিভৃতচারী এই কবি।
তিনি বলেন, ধীরে ধীরে টাকা জমাচ্ছেন তিনি, যাতে বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে হলেও উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন।

কবি জানান, রাজধানী ধানমন্ডির হারুন আই ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে ইতোমধ‌্যে চিকিৎসক দেখিয়েছেন তিনি।

“দুই ডাক্তারের রিপোর্ট একই। বাম চোখ নিয়ে কিছুই করার নেই, দেশের বাইরে গেলেও বাম চোখ বাঁচানো যাবে না বলে মত দিয়েছেন তারা।”

চিকিৎসকরা বলছেন, কবির বাম চোখটি গ্লুকোমায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডান চোখ তুলনামূলক ভালো হলেও দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

গ্লুকোমা একটি ‘অনিবারণযোগ্য’ রোগ, এতে চোখের উপর চাপ বেড়ে গিয়ে চোখের পিছনের স্নায়ু অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টিক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

হেলাল হাফিজ বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে আমার চোখে ছানি ধরা পড়ে। ধানমন্ডির আল নূর হাসপাতালে চিকিৎসা করাই। কয়েক মাস ভাল দেখতে পারছিলাম; কিন্তু কয়েকমাস আগে বাম চোখে কম দেখতে শুরু করি।

“এক পর্যায়ে বাম চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। তখন ডাক্তার দেখিয়ে গ্লুকোমা হওয়ার কথা জানতে পারি, ততদিনে আমার বাম চোখ ৯৫% নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানায় আমার চিকিৎসক।”

ষাটের দশকের কবি হেলাল হাফিজ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব‌্যগ্রন্থ দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। কবিতা পাঠের আসর ছাপিয়ে মিছিলে-স্লোগানে উচ্চারিত হতে থাকে তার কবিতা।

সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময়ে দেয়ালে দেয়ালেও উৎকীর্ণ হতে থাকে তার কবিতা- ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’।

৮০-এর দশকে প্রকাশিত ওই কাব‌্যগ্রন্থের পর নিজেকে অনেকটা আড়ালে সরিয়ে নেন হেলাল হাফিজ। তার দ্বিতীয় কাব‌্যগ্রন্থ ‘কবিতা ৭১’ বের হয় তার ২৬ বছর পর ২০১২ সালে।

২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান হেলাল হাফিজ। তার আগে খালেকদাদ স্মৃতি পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া এই কবি।






মন্তব্য চালু নেই