মেইন ম্যেনু

কবে মুক্তি পাচ্ছে সৌরভের বায়োপিক?

মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বায়োপিক দিনের আলো দেখতে চলছে। ধোনির জীবনের অনেক অজানা অচেনা গল্প তুলে ধরা হবে ‘এমএস ধোনি— দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে।

মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বায়োপিক দিনের আলো দেখতে চলছে। ধোনির জীবনের অনেক অজানা অচেনা গল্প তুলে ধরা হবে ‘এমএস ধোনি— দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে। সচিন তেন্ডুলকরের জীবন অবলম্বনেও তৈরি হবে ‘সচিন — এ বিলিয়ন ড্রিমস’। মহিলা বক্সার মেরি কম, হকি খেলোয়াড় মীর রঞ্জন নেগিকে নিয়ে সিনেমা হলেও তাঁকে নিয়ে তো এখনও পর্যন্ত হল না কোনও ফিল্ম, থুড়ি বায়োপিক!

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর জীবন অবলম্বনে ছবি তৈরি করার কথা কেন যে মাথায় এল না চিত্রপরিচালকদের, সেই প্রশ্নটাই অনেককে ভাবাচ্ছে। অনেকেরই মনে হচ্ছে, বাংলার মহারাজের জীবন কি যথেষ্ট বর্ণময় নয়? সিনেমার জন্য যথেষ্ট মশলা কি নেই তাঁর জীবনে? সৌরভভক্তদের মনেও এই প্রশ্নগুলোই ঘোরাফেরা করার কথা।

তাঁরা যদি প্রশ্ন তোলেন, ধোনির জীবন নিয়ে যদি বায়োপিক তৈরি হতে পারে, তাহলে সৌরভের জীবন নিয়ে কেন নয়? ধোনি আগেভাগেই ছবির পরিচালককে বলে রেখেছিলেন, তাঁর জার্নিটা যেন তুলে ধরা হয় ফিল্মে। তাঁকে নায়ক হিসেবে যেন তুলে ধরা না-হয়।

সৌরভের ক্রিকেট-জার্নি কোনও অংশে সাদামাটা নয়। তাঁর ক্রিকেটজীবন উত্থান-পতনে পরিপূর্ণ। এই বাদ পড়ছেন তো পরক্ষণেই ফিরে আসছেন জাতীয় দলে। হার মানার বান্দা যে নন তিনি। আমজনতার চোখে, সতীর্থদের কাছে সৌরভ তাই হিরো। দেশের জন্য, দেশজ ক্রিকেটকে শক্ত বুনোটের উপরে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্রেগ চ্যাপেলকে কোচ করে আনছেন। পরের দৃশ্যই হল, চ্যাপেলের ষড়যন্ত্রে জাতীয় দলে জায়গা হারাতে হচ্ছে বেহালার বীরেন রায় রোডের ছেলেটিকে। দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পরেই ফিরে আসার অদম্য লড়াই চালিয়েছেন মহারাজ। রক্তাক্ত হয়েছেন, অপমানিত হয়েছেন কিন্তু লড়াই ছাড়েননি। ফিরে এসেছেন দলে। আবার একদিন কাউকে কিচ্ছু না বলে, কাউকে কিছু বুঝতে না-দিয়ে সৌরভ জানিয়ে দিলেন, ‘‘অনেক হয়েছে। আমি আর খেলব না।’’

তাঁকে নিয়ে সিনেমা করার কথা যদি ভাবেন কোনও চিত্রপরিচালক, তাহলে চিত্রনাট্য নিয়ে ভাবতে হবে না তাঁকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান হয়ে বসে থাকার রসদ থাকবে স্ক্রিপ্টে। সেই ১৯৯২-এ জাতীয় দলের জার্সি পিঠে চাপিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। তার পরে দীর্ঘ চার বছর বাদে দামামা বাজিয়ে নিজের আবির্ভাবের কথা জানিয়েছিলেন সৌরভ। শুরুতেই সেঞ্চুরি। ছোটবেলার ভালবাসা ডোনাকে বিয়ে করেছেন সবাইকে আঁধারে রেখে। একের পর এক মাইলফলক তৈরি করেছেন সৌরভ। ম্যাচ গড়াপেটার অন্ধকার থেকে দেশকে নতুন সকাল দেখিয়েছিলেন। কুড়ি বছর বাদে দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন সৌরভ। আরও কত যে মশলা রয়েছে মহারাজের জীবনে, তার ইয়ত্তা নেই।

তাঁর জীবন নিয়ে তো তৈরি হওয়াই উচিৎ বায়োপিক। কবে হবে তা, সেটাই এখন প্রশ্ন।






মন্তব্য চালু নেই