মেইন ম্যেনু

কম কাজে অধিক ফল, কিভাবে?

সারাদিন কাজ করেও কোনোভাবে কাজ শেষ করতে পারেন না। কিন্তু ধরুন, প্রতিদিন কর্মদিবসে বাড় দুই ঘণ্টা করে সময় বেঁচে যায় আপনার।

এমন হলে কেমন লাগবে আপনার? বিজ্ঞানীর এর জন্য ব্যক্তিগত ও পেশাজীবনের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনের কথা বলেন। আসলে এর জন্য আপনাকে কম কাজ করতে হবে। কিন্তু কম করলে কি অফিস চলবে? অবশ্যই চলবে, যদি আপনি কম কাজে বেশি ফলাফল আনার কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে পারেন। এ সম্পর্ক ধারণা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের ধারণা : দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের যে নিয়ম বিশ্বব্যাপী প্রচলিত রয়েছে তা মোটেও ঠিক নয়। দিনে ৮-১২ ঘণ্টা কাজ করলেই যে সব গুছিয়ে আনবেন- এটা একটা মিথ্যা ধারণা। এই মিথের ওপর ভিত্তি করেই চলতে আমাদের কর্মজীবন। বরং এর মাধ্যমে কর্মীরা প্রতিদিন মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে থাকেন। তাদের ক্লান্তি ভর করে। তারা ছুটির দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। সেদিন একটু আরাম করে ঘুমাবেন এই আশায়।

আমেরিকার ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিক্স এক হিসাবে জানায়, আমেরিকানরা দিনে গড়ে ৮.৮ ঘণ্টা কাজ করে। কর্মদিবসের এই সময় নির্ধারণের বিষয়টি সেই শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে চলে আসছে। ‘আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিনোদন, আট ঘণ্টা বিশ্রাম’- এই স্লোগান চালু করেন রবার্ট ওয়েন। কিছু দিন বাদেই ফোর্ড তার ফ্যাক্টরিতে এই নিয়ম চালু করেন। এতে তাদের রেভিনিউ ও কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়তে থাকে এবং শিল্পায়ন একটা উন্নত মানদণ্ডে উন্নীত হয়। শত বছর ধরেই এরই চর্চা চলে আসছে। কিন্তু গত ১০০ বছরে অনেক কিছুই বদলেছে।

কমেই কিন্তু বেশি : বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, কম সময়ের মনোযোগের সঙ্গে কাজ করলে অনেকে বেশি ফলাফল মেলে। এতে করে কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদনশীল থাকতে পারেন। তবে কম কাজে বেশি ফলাফল পেতে আপনাকে একটা উদ্দেশ্যই হাসিল করতে হবে। তা হলো, অপ্রয়োজনীয় কাজের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে এবং এক সময় এর অস্তিত্ব প্রতিদিনের কাজে থাকবে না। এসব ভুয়া কাজ এমন সব কাজ যা আমরা প্রতিদিনই সময় ও মনোযোগ খরচ করে সম্পন্ন করি, কিন্তু তা কোনো কাজে লাগে না। এমন কাজগুলো সম্পর্কে এমনিতেও ধারণা রয়েছে আপনার। কাজের ফাঁকে ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি না করে ১৫ মিনিট ফেসবুকে পড়ে থাকলে সময়টা অপচয় হলো।

প্রতিদিনের ভুয়া কাজ : এমন কাজ আমরা প্রতিদিনই করে থাকি। কিন্তু ছোটখাটো কৌশলেই বড় কিছু সম্পন্ন করা সম্ভব। তাই প্রতিদিনের কাজের তালিকা থেকে অপ্রয়োজনীয় ভুয়া কাজগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এদের তালিকা করে ফেলুন। এদের বিদায় জানানোই প্রথম লক্ষ্য ও কৌশল বলে বিবেচিত হতে পারে। প্রতিদিন যত বেশি বাজে কাজ বাদ দিতে পারবেন, তত দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবেন।

তাই যেকোনো কাজে কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিন। স্মার্ট হতে হবে। আর স্মার্টনেস কয়েকটি বিষয়ের সমার্থক হয়ে ওঠে। এগুলো হলো, নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, অর্জন করা যায় এমন, সংশ্লিষ্ট এবং নির্দিষ্ট সময়। এসবের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য সম্পর্কে সহজেই ধারণা পান কর্মীরা এবং এগুলো অর্জনে সহজে কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে। কম কাজে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এই কৌশগুলো অবলম্বন করতে হবে।

উৎপাদনশীলতা : যখন অপ্রয়োজনীয় কাজ জীবন থেকে বাদ দিতে পারবেন, তখন গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় পুরোদমে নিজের কর্মদক্ষতার প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন। কিছু নিয়মে নিজেকে বেঁধে ফেলতে পারেন। যেমন- অফিসের প্রথম ৯০ মিনিট গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে সময় দেবেন। কিংবা সকালের প্রথম কফি ব্রেক নিলেন ধরুন সাড়ে নয়টায়। সাড়ে ১০টার মধ্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য হাতে নেবেন। প্রতি এক ঘণ্টা পর স্বাস্থ্যকর ব্রেক নিন ৫ মিনিটের। হাঁটাহাঁটি করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন। প্রতিদিনের কর্মতালিকা আগের দিন রাতে ঠিক করে নিন। প্রথম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করবেন বলে মনস্থির করুন। এভাবে কাজ করলে নিঃসন্দেহে কর্মদিবসের এক-দুই ঘণ্টা আপনার হাতে থেকে যাবে।

কিছু কাজ আছে যেখানে ব্রেক নেওয়া যায় না। এমন কাজে মন ঢেলে দিন। কিন্তু যখন মনে হচ্ছে ভালো লাগছে না, তখনই ১০ মিনিটের একটি ব্রেক নিন। এ সময় গান শুনতে পারেন, বাইরে হাঁটতে পারেন কিংবা হালকা আড্ডাও চলতে পারে। হারানো উদ্যম ফিরে আসবে চোখের পলকে। অল্প শ্রমে বড় বড় কাজ শেষ হয়ে আসবে এবং আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে।
সূত্র : নেক্সট ওয়েব






মন্তব্য চালু নেই