মেইন ম্যেনু

করমর্দনের শাস্তি দোররা!

যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়, দোররা কেন মারা হয়? কোনোরূপ চিন্তার ওয়ার্মআপ ছাড়াই তিনি তা বলে দিতে পারবেন। কেউ বলবেন ব্যভিচার, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন। আবার কেউ বলবেন অন্য কিছু। কিন্তু কেও হয়তো বলবে না যে করমর্দন করলেও দোররার শাস্তি পেতে হয়। আমি কোনো ভীনগ্রহের কথা বলছি না। আমি বলছি এই একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীর এমন এক দেশের কথা যেখানে বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে স্রেফ করমর্দনের অপরাধে আদালত দোররা মারার শাস্তি প্রদান করেছে। দুই ইরানি কবিকে দোররা মারতে যাচ্ছে ইরান।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের একটি আদালত এই দুই কবিকে ৯৯টি দোররা মারার শাস্তি দিয়েছেন একজন আরেকজনের সঙ্গে করমর্দন করার অপরাধে।

আন্তর্জাতিক এক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি আদালতের এরূপ শাস্তি প্রদান মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তা ছাড়াও এই শাস্তি সারা বিশ্বের শিল্প সংস্কৃতির ধারক ও বাহক কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবিসহ সবার জন্যই অপমানজনক। ওই সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন নারী ও অপরজন পুরুষ। নারী কবির নাম ফাতেমা ইখতিসারি এবং পুরুষ কবির নাম মেহেদি মুসাভি।

জানা গেছে, এর আগেও তারা লেখার জন্য একেকজনের এক বছরে করে জেল হয়েছিল। মুক্ত চিন্তার চর্চা ইরানে নিষিদ্ধ। তাই এই ধারার লেখকদের আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি প্রদান করে ইরান। কিন্তু ওই দু’জন কবি এবং লেখককে শুধুমাত্র করমর্দন করার এরূপ কঠিন শাস্তির বিষয়টি এবারই নতুন।

কিছুদিন আগেই সুইডেনে এক কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানে ফাতেমা ইখতিসারি আরেক কবি মেহেদি মুসাভির সঙ্গে করমর্দন করেন। ইরানে কোনো নারী অপরিচিত কারো সঙ্গে করমর্দন করলে তা পরোক্ষভাবে যৌনতার ইঙ্গিত প্রকাশ করে বিধায় এই শাস্তি।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই এ নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনার ঝড়। সারা বিশ্বের কবি সাহিত্যিকগণ এই শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তারা এটিকে শিল্প সংস্কৃতির প্রতি হুমকি এবং অপমানজনক হিসেবে দেখছেন।






মন্তব্য চালু নেই