মেইন ম্যেনু

কর্মরত অবস্থায় শিশুকে স্তন্যদান নিশ্চিত করতে এক ফটোগ্রাফারের লড়াই

কর্মজীবী নারীরা যেন প্রকাশ্যে তাদের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন তা নিশ্চিত করার দাবি জানাতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের এক উদ্যোগ নিলেন এক মার্কিন ফটোগ্রাফার। ছবির মানুষ, তাই হয়তো দাবির ভাষা হিসেবেই ছবিকে বেছে নিয়েছেন তিনি। টারা রুবি নামের ওই নারী ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে-মার্কিন সেনাবাহিনীর দশজন নারী সদস্য তাদের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন। ছবিটি এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পরেছে। ছবিটি এরইমধ্যে ১০ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে এবং ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে বহু মানুষ সমর্থন জানিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই ছবির ফটোগ্রাফার নিজেও মার্কিন বিমানবাহিনীতে কাজ করেছেন ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। বিবিসিকে রুবি জানান, অফিসে কোন আলাদা জায়গা ছিল না শিশুদের দুধ খাওয়ানোর জন্য। তাই সন্তানকে স্তন্য দানের জন্য তাকেও নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি খালি ঘর খুঁজে বেড়াতাম আমার বাচ্চাকে খোয়ানের জন্য’।

বিবিসি জানায়, ফটোগ্রাফার রুবিকে অনেকেই সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন এই ছবির মাধ্যমে জনসম্মুখে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোটা যে খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় সেটা মানুষের সামনে আনা হয়েছে। তবে সংখ্যায় কম হলেও কেউ কেউ আবার আপত্তি তুলেছেন সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মে থাকা অবস্থায় সেইসব নারীদের ছবিটি তোলা ঠিক হয়নি।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারি লিখেছেন নারীরা তাদের পরিবার ও দেশের জন্য নিজেকে কতটা উজাড় করেন এই ছবি দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

“অনলাইন সাপোর্ট গ্রুপ ব্রেস্টফিডিং ইন কমব্যাট বুটস””এর প্রতিষ্ঠাতা রবিন রোচি পল বলছেন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে সমাজের মধ্যে যে কানাঘুষা আছে সেটা কমাবে এই ছবি। তিনি বলেছেন “ এই ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কাজ করা অন্য নারীরা বুঝতে পারবে আসলে সেনাবাহিনীতে কাজ করেও সন্তানকে মায়ের দুধ খাওয়ানো যায়”।

এই ছবিটি গেল বৃহস্পতিবার প্রথম বারের মত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেওয়া হলে সেটা মুছে ফেলা হয়। পরে রুবি আবারো ছবিটি পোস্ট করেন এবং পরে অনেকেই সমর্থন জানিয়ে শেয়ার করে।

ছবিটি কেন ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এই প্রশ্ন করলে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন “ছবির বিষয়বস্তু আমাদের সমাজের মানকে লঙ্ঘন করতে পারে না। “

যদিও বেশির ভাগ মন্তব্য করা হয়েছে এই ছবিটিকে সমর্থন ও প্রশংসা করে তবে কেও কেও সেনাবাহিনীর পোশাক পরে এই ছবি তোলা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন “ ইউনিফর্ম পরাটা যেকোন দেশের সরাসরি একটি প্রতিচ্ছবি, সেখানে এই ধরনের ছবি অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছে”।






মন্তব্য চালু নেই