মেইন ম্যেনু

কর আইন আরো সহজ করতে বললেন অর্থমন্ত্রী

দেশে প্রচলিত কর আইন আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর কর্মকর্তাদের আইন প্রয়োগকারী না হয়ে আইন মান্যকারী হতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে কোন অবস্থায় করদাতাদের হয়রানি করা চলবে না।

রোববার সচিবালয়ে কর পরামর্শ কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূইঞাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের ১৫ তলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সম্মেলন কক্ষে ৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মকর্তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল ও তথ্য প্রদানে এ পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের ২০১৫-২০১৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য দেওয়া হবে এ সেবা কেন্দ্র থেকে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মকর্তারা আয়কর রিটার্ন দাখিল, এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ ও তথ্য পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকেই কর দিতে গিয়ে মনে করেন আমি আটকে গেলাম। করের আওতায় এসে আটকে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই আয়কর দেন না। তাই আইন করার সময় মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য আয়কর আইনের সেলফ এসেসমেন্ট ধারাটি সংশোধন করা উচিত। এটা করা হলে কেউ কর দিতে অনীহা প্রকাশ করবেন না বলে আমি মনে করি।

এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনগণ যেন বলতে না পারে এনবিআর আমাকে জ্বালাতন করে, তাই আমি কর দেই। করদাতারা সন্মানিত ব্যক্তি কর আদায়কারীদের সে দিকে নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন,পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে করহার খুবই কম। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কর দেন মাত্র ১৭ লাখ এটা লজ্জার বিষয়। নাগরিক অধিকার আদায়েও কর দেওয়া প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ লাখে উন্নীত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ১০ শতাংশকে যদি করের আওতায় আনা যায় তাহলে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা সম্ভব। এটি ধীরে ধীরে হবে। এ জন্য ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমরা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে বেগবান করতে আয়কর মেলা, কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি ইতোমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে অনেক সরকারি কর্মকর্তা করের আওতায় আসবেন। তখন এ সেবা কেন্দ্র তাদের কাজে আসবে। কর সংস্কৃতির বিকাশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, নতুন ধারণা নিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে রাজস্ব আহরণে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশজুড়ে এখন ইন্টারনেট সপ্তাহ চলছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে কোন প্রান্ত থেকে সচিবালয়ে স্থাপিত কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র থেকে কর বিষয়ক তথ্য ও সেবা নিতে পাারবেন।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী আসায় তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।






মন্তব্য চালু নেই