মেইন ম্যেনু

কলকাতায় কিশোরীকে ধর্ষণ করল সেনাবাহিনীর সদস্যরা!

তবে কোথায় নিরাপত্তা নারীর? কে নিরাপত্তা দেবে নারীকে? এমন হাহাকারে বিদীর্ণ হবে বুক, যখন শুনবেন যাদের হাতে দেশের নিরাপত্তার ভার, সেই সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধেই চলন্ত ট্রেনে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ!

কিশোরীটির বাড়ি দমদমে। বাড়ি থেকে পালিয়ে লুধিয়ানায় যাচ্ছিল বছর চৌদ্দোর মেয়েটি। রোববার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া-অমৃতসর এক্সপ্রেসে। সেনাসদস্যদের জন্য সংরক্ষিত কামরাটি ফাঁকাই ছিল। তিন জওয়ান ছাড়া আর কেউ ছিল না সেখানে। রক্ষক যে কত দ্রুত ভক্ষক হয়ে যায়, তার প্রমাণ মিলল একটু পরেই।

অভিযোগ, কামরাতেই মেয়েটিকে মাদক খাইয়ে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে সেনাসদস্যরা। পরে মেয়েটিকে অর্ধচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে রেল পুলিশ। ট্রেন তখন ঝাড়খণ্ডের মধুপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে। রেল পুলিশ এক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত ওই জওয়ান ইস্টার্ন কমান্ডের এক হাবিলদার। নাম মঞ্জরিশ ত্রিপাঠী।

রেল পুলিশ সেনা-কামরার যাত্রীদের ভিডিয়ো তোলার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করেছে নির্যাতিতা। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই সেই দুজন গা-ঢাকা দিয়েছে। মধুপুর স্টেশনের জিআরপি থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে ওই কিশোরী। দেওঘর সদর হাসপাতালে তার মেডিক্যাল টেস্ট করায় রেল পুলিশ। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ধর্ষণ হয়েছে বলেই মনে করছেন। চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।

কীভাবে ঘটনাটি রেল পুলিশের নজরে এলো? রোববার হাওড়া জিআরপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। দমদম এলাকায় মেয়েটির বাড়ির লোকের কাছ থেকে তার পালানোর খবর পেয়ে ওই সংস্থা মেয়েটিকে খুঁজছিল। তাদের সঙ্গে ছিল মেয়েটির ছবিও। তারা এও জানতে পেরেছিল, মেয়েটি অমৃতসর এক্সপ্রেসে উঠেছে। কিন্তু ওই বার্তা যতক্ষণে হাওড়া জিআরপি-র কাছে আসে, ততক্ষণে আসানসোল ছাড়িয়ে গিয়েছে ট্রেন।

হাওড়া রেল পুলিশ তখন ঝাড়খণ্ড পুলিশকে সতর্ক করে। সন্ধে ছ’টা নাগাদ ঝাড়খণ্ডের ডিজি-র কাছ থেকে ফ্যাক্স পায় যশিডি জিআরপি। যৌথ তল্লাশিতে নামে জিআরপি ও আরপিএফ।

মধুপুরে ট্রেনটিকে ৭ মিনিট দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। কামরাগুলি খুঁজতে খুঁজতে তল্লাশির দল এসে পৌঁছায় সংরক্ষিত সেনা কামরার সামনে। দরজা বন্ধ ছিল। খানিকটা ধাক্কাধাক্কি করে দরজা খুলতেই মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি মেয়েকে। এক সেনাসদস্য তার কাছে ছিল। মেয়েটিকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছিল সে। মেয়েটির পুরো জ্ঞান ছিল না। ছবি মিলিয়ে দেখে জিআরপি ওআরপিএফ নিশ্চিত হয়, এই কিশোরীকেই খুঁজছে তারা।

কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না মেয়েটির। অনেকক্ষণ পরে মেয়েটি জানায়, মঞ্জরিশসহ তিন সেনা জওয়ান তাকে মদ খাইয়ে ট্রেনের শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে। এর পরেই মঞ্জরিশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন জওয়ান গণধর্ষণে লিপ্ত হলেও কামরার অন্য সেনারা তখন কী করছিলেন? তাদের ভূমিকাই বা কী ছিল? জিআরপি ও আরপিএফ জানায়, তদন্তে কিছুই বাদ যাবে না।

ঘটনাটির নিন্দা করে কেন্দ্রীয় নগরোন্নন প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘সেনা জওয়ানরা যদি এই ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে থাকে, তা হলে তা চরম লজ্জার। জঘন্য ঘটনা এটা।’

ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে কে গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এ রকম ঘটে থাকলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। সব পেশাতেই খারাপ মানুষ থাকে, সেনাবাহিনীও ব্যতিক্রম নয়।’

রেল পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে, কিশোরীর বাড়ি দমদমে। তার বাবা সরকারি চাকুরে। রোববার রাতে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। কিন্তু ওর মোবাইলটি ছিল বাড়িতেই। সেই ফোন ঘেঁটে পরিবারের লোকেরা অনুমান করেন, ফেসবুকে লুধিয়ানার এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে চলে গিয়েছে তাদের মেয়ে। লুধিয়ানার যুবকটিকে সে চ্যাটে লিখেছে, অমৃতসর এক্সপ্রেসে সে তার কাছে চলে যাবে।

সর্বশেষ খবর অনুয়ায়ী, হাওড়ায় আনা হয়েছে ধর্ষিতা কিশোরীকে। সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ উপাসনা এক্সপ্রেসে করে তাকে হাওড়ায় নিয়ে আসা হয়। ধর্ষিতা কিশোরীর সঙ্গে ধর্ষক সেনাসদস্য মঞ্জরীশ ত্রিপাঠীকেও আনা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) হাওড়া আদালতে মঞ্জরিশকে তোলার কথা রয়েছে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই