মেইন ম্যেনু

কলকাতায় মা ও যমজ দুই ছেলে খুন

কলকাতার অভিজাত এলাকায় এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মা ও দুই যমজ ছেলে খুন হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন গৃহকর্তা। এই হত্যারহস্য কলকাতায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

শনিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার ৭৩/১সি পাম অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনের তিন তলার ফ্ল্যাট থেকে গলা কাটা অবস্থায় ওই সিংহলি নারী ও তার দুই কিশোর ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিহত নারীর স্বামী নিল ফনসেকা গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, পাম এভিনিউর ওই তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে তিনটি মৃতদেহ ও এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় শনিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। ৪২ বছরের ওই নারীর নাম জেসিকা ফনসেকা। আর ১৬ বছর বয়সী নিহত যমজ দুই কিশোরের নাম ড্যারেন ও জসুয়া।

ভারতের একটি পত্রিকার অনলাইনে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছর ধরে এই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত নিল ফনসেকাদের এই সিংহলি পরিবার। বছর পঞ্চাশের নিল ফনসেকা পেশায় ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর। তার খুন হওয়া স্ত্রী জেসিকা, যমজ ছেলে ড্যারেন ও জসুয়া ছাড়াও ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন মেয়ে সামান্থা ও শ্যালিকা শাবানা।

সামান্থা ও শাবানার দাবি, ফ্ল্যাটের অন্য একটি ঘরে থাকায় তারা ঘটনার কিছুই জানতে পারেননি। দিন কয়েক ধরে এখানে এসে রয়েছেন নিলের মা শার্লি ফনসেকাও। তিনি মুম্বাইতে থাকেন।

শার্লি পুলিশকে জনান, সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ছেলের ঘরে নক করেও সাড়া পাননি তিনি। এরপর শাবানা এসে আবার দরজায় নক করতে থেকেন। এ সময় গলা কাটা অবস্থায় নিল ফনসেকাই দরজা খোলেন। তার পরই চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। ঘরে ঢুকে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তিনজনের গলাকাটা লাশ।

পুলিশের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফনসেকা জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী দুই ছেলেকে হত্যা করছেন দেখে তিনি বাধা দিতে যান এবং মেরে ফেলেন স্ত্রীকে। স্ত্রীর আঘাতেই আহত হন তিনি।

এই দাবি সত্যি কি না তা নিয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশের অনুমান, এই খুনের ঘটনা ঘটেছে ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে।

পুলিশ কথা বলছে ফনসেকার মেয়ে, শ্যালিকা ও কয়েকজন পরিচিতর সঙ্গেও।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান দেবাশীষ বড়াল বলেন, “প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে পারিবারিক বিবাদের ফলেই এই খুন। ফনসেকা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। তার সঙ্গে খুব বেশিক্ষণ কথা বলা যায়নি। তিনি কিছু সূত্র দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।”

আরও জানা গেছে, ফনসেকার মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন এবং তিনি ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।

রাতে উচ্চমধ্যবিত্ত এই পরিবারটি একটি পার্টিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে দুই ছেলে, মেয়ে, শ্যালিকা ও স্ত্রীসহ নেইল ফনসেকা নিজেদের ফ্ল্যাটেই ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই