মেইন ম্যেনু

কলকাতা আইএস যৌনদাসীদের বাজার!

ভারত, বাংলাদেশ, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের যৌনকর্মীদের ‘দাস’ হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এজন্য কলকতায় গড়ে উঠেছে যৌনদাসীদের বিশাল বাজার। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিশাল এক পাচারকারী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে জানতে পেরেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পুলিশ।

জঙ্গি আইএস এবং মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিকদের কাছে যৌনদাসী ‘সরবরাহ’ করার জন্য পাচারকারী সিন্ডিকেটটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছে রমরমা ব্যবসা। দিল্লি, মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকেও এখানে নিয়ে আসা হয় যৌনকর্মীদের। সেখান থেকেই আরো উন্নত জীবন ও আয় রোজগারের লোভ দেখিয়ে যৌনকর্মীদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ও আইএস জঙ্গিদের কাছে। গত কয়েক মাসে কলকাতা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়েছে কয়েক হাজার নারী। আইএস জঙ্গিদের যৌনদাসী হওয়ার জন্য অবশ্য অনককে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বা ফুঁশলিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে দেশের পুলিশ সুত্রের বরাত দিয়ে ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যম সম্প্রতি এমন খবরই দিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ভারতই নয় যৌনদাসী পাচার করা হয়েছে বাংলাদেশ এবং নেপাল থেকেও। এমন কি অভিযোগ উঠেছে যে, এধরনের ব্যবসায় রীতিমতো সাহায্য পাওয়া যায় বিমান ও অভিবাসন দপ্তরের কাছ থেকে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, মূলত কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাইকে কেন্দ্র করে এই নারীপাচার হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ২ নেপালি পরিচারিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে দিল্লির সৌদি আরবীয় দূতাবাসের প্রধান সচিব ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় এক অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী তাকে এক দালালের হাতে বেচে দিয়েছিল তার পরিবার। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ জানতে পারে যে তার মতো আরও অনেক মেয়েকেই মধ্যপ্রাচ্যে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে নেমে দিল্লি বিমানবন্দরে ৬ জন মহিলাকে পুলিশ আটক করে। তাদের দুবাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মূলত দরিদ্র শ্রেণির মহিলাদের কাজের লোভ দেখিয়েই চলছে যৌনদাসী পাচারের এই রমরমা ব্যবসা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে চড়া দামে বিক্রি করা হয় এসব নারীকে। এমন কি আইএস জঙ্গিদের মধ্যেও এসব যৌনদাসীর চাহিদা তৈরি করেছে চক্রটি। সে হিসেবে আইএস অধ্যুষিত অঞ্চলেও পাঠানো হচ্ছে এসব নারীদের।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক সময়ই অভিবাসন দপ্তর বা বিমানবন্দরের কড়াকড়ির জন্য দালালরা মহিলাদের সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে নিয়ে যেতে পারে না। সেক্ষেত্রে তারা অন্য কৌশল নেয়। মহিলাদের ভারত থেকে প্রথমে নিয়ে যাওযা হয় শ্রীলঙ্কা, মরক্কো, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে। সেখানে থেকে মহিলাদের নিয়ে যাওয়া হয় আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব, ইজিপ্ট ও সিরিয়ায়। বর্তমানে যৌনদাসী কেনাবেচার বাজার হিসেবে আফ্রিকার নামও উঠে আসছে। কেনিয়া ও তানজানিয়ার মতো দেশগুলো থেকেও ক্রেতারা এসব যৌনকর্মী বা নারীদের কিনতে আসে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে, ভারত-নেপাল সীমান্তে কাজ করে এমন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো জানিয়েছে- ভারত-নেপাল-বাংলাদেশ, এই তিন দেশ থেকে প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে নারীরা। শিলিগুড়ির বেসরকারী সংস্থা সিআইএনআই-র কর্মকর্তা শেখর দাস দাবি করেন, সবসময় যে জোর করে পাচার হচ্ছে তা নয়। অনেকসময় স্বেচ্ছাতেও চলে যাচ্ছেন এসব নারীরা। আর্থ-সামাজিক অবস্থা তাদের এই পরিণতির জন্য দায়ি। এমনকী, পুলিশ বাধা দিতে গেলে ভুয়া পরিচয় দিয়ে পুলিশকেও বাধা দিচ্ছেন তারা। এরপর বহুবার হাতবদল হয়ে কলকাতা-দিল্লি ঘুরে সৌদি আরবে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে সেইসব নারীরা।






মন্তব্য চালু নেই