মেইন ম্যেনু

কলঙ্কের দায় মুক্ত হল সেই ডালিম হোটেল

মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক কলঙ্কের দায় মুক্ত হল ‘ডালিম হোটেল।’ শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লার টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের পেছনে একটি হিন্দু পরিবারের মালিকানাধীন ভবনের নাম ছিল ‘মহামায়া ডালিম ভবন’। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় ভবনের মালিক হিন্দু পরিবারটি ‘মহামায়া ডালিম ভবন’ ছেড়ে পালিয়ে যায়। চট্টগ্রামের আলবদররা ভবনটি দখল করে নাম দেয় ‘ডালিম হোটেল’। এরপর সেখানে নির্যাতন ক্যাম্প পরিচালনা শুরু করে পাকিস্তানি খান সেনাদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়ায় ‘বাঙালি খান’ হিসেবে পরিচিত মীর কাসেম আলী। ‘ডালিম হোটেল’ এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তখন হয়ে উঠেছিল ‘ডেথ ফ্যাক্টরি’।

ডালিম হোটেলে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতনের পদ্ধতি ছিল পৈশাচিক। সেখানে বন্দি কেউ পানি চাইলে টয়লেট থেকে বদনায় করে পানি এনে দেওয়া হত। আবার অনেককে পানির বদলে প্রস্রাব খেতে দেওয়া হত! তিনতলা ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বন্দী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর চলত অমানুষিক নির্যাতন। যা মীর কাসেমের মামলার একাধিক সাক্ষীর জবানীতে বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে।

ডালিম হোটেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসীমউদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যার নির্মমতা ফুটে উঠে মামলায় মীর কাসেমের বিরুদ্ধে প্রমাণ হওয়া ১১ নম্বর অভিযোগে। যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেম মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং পরবর্তীতে আপিল ও রিভিউ রায়ে সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

এই মামলার সাক্ষীদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের ছেলে জসীম ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ওইসময় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় তাকে সবাই কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই চিনত। ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতরের পরের যে কোনো একদিন মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা জসীমকে চট্টগ্রাম শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে আসে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা জসীমকে আটকে রাখে। তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।






মন্তব্য চালু নেই