মেইন ম্যেনু

কলারোয়ার সরসকাটি ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত

সাতক্ষীরা কলারোয়ার জয়নগরে ব্যবসায়ীকে ক্যাম্পে ফেলে চোখ বেঁধে রাতভোর অমানষিক নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার বিকাল ৫টার পর ওই অভিযোগের তদন্ত করেন কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ সফিকুর রহমান। জানাগেছে, কলারোয়া থানার সরসকাটি বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী ওফাপুর গ্রামের মনির উদ্দিন বিশ্বাসরে ছেলে গোলাম রসুল এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই লিটন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে গোলাম রসুল বলেন, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুঃ ৭ টার পর সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই লিটন বিশ্বাস তার দোকান থেকে জোর করে টেনে হেঁচড়ে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। জনৈক ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা সে শোধ না করার অপরাধে চোখ বেঁধে রাত ভোর তার স্ত্রীর সামনে লোহার রড দিয়ে অমানষিক নির্যাতন করে।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার বিকাল ৫ পর টার সময় কলারোয়া থানার ওসি(তদন্ত) শেখ সফিকুর রহমান সরসকাটি বাজারে সরেজমিন এসে স্থানীয় ও ঘটনার সাথে জড়িতদের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই অনুষ্ঠানে গোলাম রসুলের ঘর মালিক সরসকাটি বাজাররে তেল ব্যবসায়ী সোহাগ জানায়, ঘটনার রাত আনুঃ ৮টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি গোলাম রসুলকে ১৭’শ টাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে ক্যাম্পে ডেকে নেয়।

পুলিশ ও পাওনাদার আর্টিস মনিরের কাছে আমি ওই টাকার জামিন হলে পরপরই রসুল ক্যাম্প থেকে দোকানে আসে এবং ওই রাতে সে দোকানে ছিলো। উপজেলার কৃপারামপুর গ্রামের আর্টিস মনির জানায়, গোলাম রসুলের কাছে সাইনবোর্ড বাবদ ১৭ শত টাকা পাই।

টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। ওই বিষয়ে গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুঃ৭টার পর পুলিশ আমাকে ও গোলাম রসুলকে ক্যাম্পে ডেকে নেয়। তেল ব্যবসায়ী সোহাগ আমার টাকার জামিন হলে আমি ও গোলাম রসুল ক্যাম্প থেকে চলে আসি। মানিকনগর গ্রামের আনারুল ইসলাম জানায়, সাংবাদিক আব্দুর রহমান ভাইকে সাথে নিয়ে বিশেষ কাজে শুক্রবার রাত আনুঃ ৮টার দিকে সরসকাটি ক্যাম্পে যাই।

ক্যাম্পে যাওয়ার মুখে মনির ও রসুলকে ক্যাম্প থেকে চলে আসতে দেখি। সরসকাটি বাজারের ব্যবসায়ী দবিরের ভাই মামুন জানায়, সে গোলাম রসুলের কাছে ১৫ হাজার টাকা পায়। টাকা চাইলে আজ না কাল বলে মাসের পর মাস টাল বাহনা করে। আজও পর্যন্ত টাকা আদায় করতে পারেনি। ওই বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আঃ মান্নান জানায়, গোলাম রসুল প্রতারক ।

তার কাছে আমি টাকা পেতাম। তার কাছে টাকা আনতে গেলে অপমান করার জন্য তার স্ত্রীকে লেলিয়ে দেয়। সরসকাটি বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি আঃ রহমান মোড়ল জানায়, গোলাম রসুল একজন ধূর্ত মানুষ। ইতোপূর্বেও মানুষের টাকা না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ফন্দি ফিকির করেছিলো। তদন্ত অনুষ্ঠানে শতাধিক জনতা ও ওই বাজারের ব্যবসায়ী উৎসুখ মানুষ হাজির হয়ে জানায়, গোলাম রসুল একজন প্রতারক। তার কাছে বিভিন্ন এনজিও সহ বাজারের একাধিক দোকানদার ও এলাকাবাসি টাকা পায়। সে সব টাকা আত্মসাত করার জন্য বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কুট কৌশল আঁটে। মূলতঃ মনির আর্টের টাকা সহ এলাকার বহু মানুষের টাকা আত্মসাত করার একটা কুট কৌশল এটা।

অনুষ্ঠানে পুলিশের বিরুদ্ধে গোলাম রসুলের আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমানিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া ব্যক্তিরা জানায়, এলাকার কতিপয় কুচক্রি ব্যক্তিদের পরামর্শে গোলাম রসুল পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা কল্প কাহিনী সাজিয়ে অভিযোগ খাড়া করেছে। তারা প্রতারক গোলাম রসুল ও ওই ঘটনায় জড়িত কুচক্রি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি করেছে।






মন্তব্য চালু নেই