মেইন ম্যেনু

কলারোয়ায় এবার ৪০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা প্রতিমা রাঙিয়ে দিতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীরা

কলারোয়ায় এবার ৪০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা

কামরুল হাসান, কলারোয়া: শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কলারোয়া উপজেলাব্যাপি চলছে প্রতিমায় শিল্পময় রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা। সকল মন্ডপেই ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিমা পরিচর্যা ও রঙের প্রলেপের শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে। রঙ-তুলির অনুপম পরশে দেবি দুর্গাকে মোহনীয় সাজে সজ্জিত করা হবে দু’এক দিনের মধ্যেই। কোন কোন প্রতিমায় রঙের কাজ মোটামুটি সম্পন্নের পথে। কেননা, হাতে তেমন সময় নেই। আবহাওয়া সুপ্রসন্ন না থাকায় প্রতিমা সম্পন্নের কাজে বিঘœ ঘটতে পারে কোথাও কোথাও। কাজ চলছে বিরামহীনভাবে। হাতে ফুরসত নেই প্রতিমা শিল্পীদের। উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে প্রায় অভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সবখানেই প্রতিমা তৈরি হয়ে গেছে। অধিকাংশ স্থানে কেবল রঙ-তুলির কাজ বাকি। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল মন্ডপে রঙের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজা মন্ডপে যেয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। প্রতিমায় রঙের পরশও বুলানোর অপেক্ষায়। কথা হয় উদযাপন কমিটির সভাপতি অর্জুন পাল, সম্পাদক মাস্টার কৃষ্ণ পাল ও ক্যাশিয়ার মাস্টার প্রদীপ পালের সাথে। তারা জানান, শনিবারের মধ্যে প্রতিমার সব কাজ সম্পন্ন হবে। এ সময় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার টিকেট’র প্রতিমা শিল্পী সাধন সরকার জানান, নজরকাড়া প্রতিমা গড়তে গেলে নিবিড় পরিশ্রম করতে হয়। আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে সৃষ্টি করতে হয় প্রতিমার অবয়ব। রঙের মিশেলে শতভাগ দক্ষতা ও কারু কাজ দেখাতে হয়। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব এই দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রতিটি ঘরের সব বয়সী মানুষ সময় পেলেই চলে আসেন মন্ডপে প্রতিমা তৈরি ও রঙের কাজ নিজ চোখে দেখতে। তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীর সকল দুর্গতির অবসান ঘটিয়ে শান্তির বাতাবরণ দিতে দেবি দুর্গার মর্ত্যে আবির্ভাব ঘটে। তাই তো তিনি দুর্গতিনাশিনী। তাই দেবির মর্ত্যে অবস্থানের দিনগুলো তাদের বিশ্বাসমতে অতি তাৎপর্যপূর্ণ। সেকারণে একই সাথে আনন্দ ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই দুর্লভ সুযোগ ভক্তবৃন্দ ছাড়তে চান না। আনন্দ চিত্তে দেবিকে বরণ আর বেদনা বিধূর বিদায়-ভক্তগণকে মোহিত করে রাখে সারাটি বছর। প্রতীক্ষা থাকে পরবর্তী বছরে আবার দেবিকে বরণ করার বাসনা। এবারের দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কথা হয় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তীর সাথে। এবার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৩২টি ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ৮টিসহ সর্বমোট ৪০টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজন প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। পারিবারিক ও সার্বজনীন এ পূজা মন্ডপগুলোতে দুর্গোৎসবের আয়োজনের শেষ প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। যেন এতটুকু দম ফুরোনের সময় নেই। দেবি মা দুর্গাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিমা ইতোমধ্যে তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। চলছে রং-তুলির প্রস্তুতিও। ডিজিটাল ও আধুনিক অনেক প্রযুক্তির ব্যবহারও সংযোজন করা হচ্ছে প্রতিমা ও মন্ডপগুলোতে। আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, দুর্গা পূজার আয়োজনকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার নিশ্চিত করছে আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী। আমাদের প্রতিনিধি কামরুল হাসানকে এ কথা জানিয়েছেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ। জানা গেছে, কলারোয়া পৌর সদরের ঝিকরা হরিতলা পূজা মন্ডপ, গোপিনাথপুর ঘোষপাড়া পূজা মন্ডপ, গোপিনাথপুর দাস পাড়া পূজা মন্ডপ, মুরারীকাটি দক্ষিণ পাড়া পূজা মন্ডপ, মুরারীকাটি হরিসভা পূজা মন্ডপ, মুরারীকাটি উত্তর পালপাড়া পূজা মন্ডপ, তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া পূজা মন্ডপ, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৩২টি মন্ডপ ও মন্দিরে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে। উপজেলা পূর্জা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সাহা সাংবাদিকদের জানান, আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দুর্গা পূর্জার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দেবী দুর্গার ঘোটকে (ঘোড়া) আগমন এবং ঘোটকেই গমন করবেন। আগামি ৭ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের মুল পূজা শুরু হয়ে ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে। তিনি জানান, দুর্গা পূজাকে ঘিরে এবারের আয়োজনের মধ্যে থাকছে ৭ অক্টোবর দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, ৮ অক্টোবর সপ্তমীতে সকালে মহাসপ্তমী, ৯ অক্টোবর সকালে দেবীর মহাষ্টমী পূজা আরম্ভ, রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫২ মিনিটে সন্ধি পূজা, ১০অক্টোবর পূর্বাহ্নে দেবীর মহানবমী পূজা উদযাপন ও ১১অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে দশমী পূজা আরম্ভ ও রাতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার উপজেলার সকল মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে তাঁরা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অনুকূল আবহাওয়া ও সর্বোপরি সকল এলাকার আপামর মানুষের প্রাণঢালা সহায়তায় আনন্দঘন পরিবেশে এবার দুর্গোৎসব উদযাপন করা হবে। এজন্য তাঁরা উপজেলার সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উপজেলায় এ বছর ৪০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা পালিত হচ্ছে বলে জানান কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায়। এর আগের বছর দুর্গাপূজা হয়েছিলো ৩৬টি মন্ডপে।






মন্তব্য চালু নেই