মেইন ম্যেনু

কলারোয়ায় খরিদ্দারসহ ‘কথিত রানী’কে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিলো জনতা

সাতক্ষীরার কলারোয়ার সেই ‘কথিত রানী’কে ১০বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ব্রজবাকসা গ্রামের কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অতিষ্ঠ হয়ে হাতেনাতে ‘খরিদ্দার’সহ ওই ‘রানী’ ও তার মাকে সোমবার রাতে আটক করে ট্রাকযোগে থানায় এসে পুলিশে সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলো- ‘সেই’ ‘কথিত রানী’ সেলিনা ওরফে শিলা, সেলিনার মা শ্রীসন বিবি ও সন্দেহভাজন খরিদ্দার জসিন উদ্দিন। জসিম লক্ষ্মীপুর জেলার চরডাক্তার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি সেলিনার ঘরে ঢোকেন। এসময় নজদারীরত স্থানীয় জনতা ওই তিনজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ব্রজবাকসা গ্রামের বাসিন্দা অধ্যক্ষ আবির হোসেন বিলাল, মাস্টার আব্দুল গফুর, ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনসহ বেশ কয়েক ব্যক্তি জানান, সেলিনার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজ চলে আসছে। বাড়িটিতে এই ‘কারবার’ বন্ধে পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর কলারোয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় স্থানীয়রা ওই বাড়ির আশপাশে নজরদারী বসান। সোমবার রাত ১০টার দিকে গরু ব্যবসায়ী ওই লোকটি সেলিনার ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে আটক করে সেখান থেকে ট্রাকযোগে শতাধিক নারী-পুরুষ একযোগে কলারোয়া থানা কম্পাউন্ডে এসে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ সেলিনাকে জনতা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

কে এই সেলিনা: গত ১৫ অক্টোবর কলারোয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসির পক্ষে হেলাতলা ইউনিয়নের ৪, ৫ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুন বলেন, ব্রজবক্সা গ্রামের আব্দুস সোবহানের মেয়ে সেলিনা খাতুন বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতের অন্ধগলি মুম্বাই শহরে অবস্থানকালে নারী ও শিশু পাচারকারীচক্রের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর সেলিনা খাতুন মাঝে মাঝে দেশে ফিরে নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও শিশু ভারতে পাচার করতে থাকে। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে থানা পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পিতার দেয়া জমিতে বাড়ি তৈরি করে নিজে দেহ ব্যবসা শুরু করে। এরপর কলারোয়া উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী শার্শা, ঝিকরগাছা, বাকড়া, রাজগঞ্জ, মনিরামপুর, কেশবপুর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, আশাশুনি, তালা ও শ্যামনগর উপজেলা থেকে স্বামী পরিত্যক্তসহ বিভিন্ন ধরণের মেয়ে নিয়ে ওই বাড়িতে দেহ ব্যবসা চালায়। এক পর্যায়ে সেলিনা খাতুন বাড়িটি ‘মিনি পতিতলায়’ গড়ে তুলে নিজেকে পতিতার সর্দারনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এর ফলে এলাকার কিছু শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থীনি ওই অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়।

ইতোমধ্যে স্থানীয় অভিভাবক, চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ এলাকার সচেতনমহল ওই কাজে বাধাঁ দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে ধর্ষণ মামলা দেবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে ‘কথিত রানী’ সেলিনা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এরই মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিনাকে দুইবার অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। জেল থেকে বাড়িতে এসে আবারও দেহ ব্যবসা শুরু করে সে। এভাবে সে রাতারাতি লাখপতি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুন আরো বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা চালিয়ে তাদের নিকট থেকে ঘর ভাড়া, খাওয়া খরচ কেটে রেখে বাকি টাকা তাদেরকে দেয়া হয়। তবে প্রতিটা খরিদার নিকট থেকে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। তাই এভাবে বছরের পর বছর যদি কাজটি চলতে থাকে তাহলে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা ওই কাজে আসক্তি হয়ে পড়বে এবং এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হবে।

তিনি আরো বলেন, সেলিনার মাদকাসক্ত ছেলে আজিজুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সাইকেল, মটরসাইকেল, মটরসহ পানির পাম্প, সোলারের ব্যাটারী, সিঙ্গার মেশিন চুরি করে আসছে। এরই জের ধরে গত ৭ অক্টোবর আজিজুলের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ডাকাত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে ব্রজবাক্সা গ্রামের আব্দুল গনি সরদারের বাড়িতে হানা দেয়। এসময় বাড়ির লোকজন জাহিদ নামে একজনকে হাতে নাতে ধরে থানায় পুলিশে সোর্পদ করে। এরপর ৯ অক্টোবর এলাকার সচেতন নারী-পুরুষ সংঘবন্ধ হয়ে আজিজুলের মা দেহ ব্যবসায়ী সেলিনার নিকট ছেলে কোথায় আছে জানতে যায়। এসময় সেলিনাসহ তার ঘরে থাকা দুই দেহ ব্যবসায়ী ওই সচেতন নারী-পুরুষের উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে এলাকার নারী-পুরুষরা সেলিনাসহ ওই দেহব্যবসায়ীকে ধরে থানা পুলিশে সোর্পদ করে। থানা থেকে ‘অসামাজিক কাজ আর করবে না’ বলে মুচলিকা দিয়ে এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট ক্ষমা চেয়ে বাড়ি আসে। পরের দিন রাজগঞ্জ এলাকার রোজি ও ঝিকরগাছার নাইড়া এলাকার আরেকজন দেহব্যবসায়ীকে নিয়ে নির্যাতনে আহত হয়েছে মর্মে চিকিৎসার নামে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দেয়ার হুমকি-ধামকিও দেয়।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ‘কথিত রানী’ সেলিনা পুলিশের কাছে আটক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।






মন্তব্য চালু নেই