মেইন ম্যেনু

অস্বচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্টর সরবরাহের আহ্বান

কলারোয়ায় হাইস্কুলগুলোতে এগিয়ে চলেছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের কার্যক্রম

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সফল ভাবে এগিয়ে চলেছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কার্যক্রম। সেকায়েপ প্রকল্প’র সকল কার্যক্রম যেমনিভাবে প্রশংসিত হয়েছে ঠিক একইভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রমও প্রশংসিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ। তবে এ ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলা পুরাতন প্রজেক্টরগুলো।

অনেক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাদের সরকার প্রদত্ত প্রজেক্টরগুলো ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে, যেগুলো মেরামত করা খুবই ব্যয়বহুল। এখনও শিক্ষকরা সবাই বেতন পায় না বা শুধুমাত্র নি¤œ মাধ্যমিকে বেতন পায় এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোটা অংকের টাকা দিয়ে প্রজেক্টর ক্রয় করা বা মেরামত করা মোটেও সম্ভবপর নয় বলে জানান অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান।

এ ব্যাপারে বিকল হওয়া প্রজেক্টরের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কলারোয়া বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ইআইআইএন-১১৮৬৫৩) প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে বিগত ১২ বছর শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতা অর্জন করেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা আজও সরকারি বেতন পান নি। বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাঁরা। এরমধ্যে তার প্রতিষ্ঠানে একটি প্রজেক্টর’র মাধ্যমে সফল ভাবে মাল্টিমিডিয়ার কার্যক্রম চলে আসছিলো। তবে বুধবার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ সচল প্রজেক্টরটিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালানোর আর কোন প্রজেক্টর না থাকায় তাদের পাঠদানে দারুন অসুবিধা হবে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে এমন প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসকার্যক্রম চালানো কিছুটা অসুবিধায় পড়বে বলে ধারণা করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অস্বচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে নতুন প্রজেক্টর সরবরাহের দাবি জানানোর বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশের অনুরোধও জানান।
প্রকৃতপক্ষে বলা যায় যে, কলারোয়া উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে পালন করে জেলার মধ্যে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব ওয়েবসাইট নির্মাণ করার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে।

এদিকে, সেকায়েপ’র প্রকল্প পরিচালক ড.মাহমুদ-উল-হকসহ সেকায়েপ’র একটি টিম গত ২৯জুলাই কলারোয়ার কয়েকেটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এসে প্রকল্প’র কার্যক্রমসহ সকল বিষয় দেখে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানান দিয়ে যান। যে পরিদর্শনটিমে আরও ছিলেন সেকায়েপ’র ডিডি মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন উইন ড. মাহবুবা ইসলাম, পাঠাভ্যাস কর্মসূচির কো-টিম লিডার শরিফ মোহাম্মদ মাসুদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকারসহ দায়িত্বরত সেকায়েপ’র কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার পাল, কলারোয়ায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাজেদুল ইসলাম রাজু। তাঁরা সকলে কলারোয়ার শিক্ষাকার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সকলকে আন্তরিক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তাই সরকারকে প্রজেক্টর নষ্ট হওয়া অস্বচ্ছল বিদ্যালয়গুলো চিহ্নিত করে জরুরী ভিত্তিতে প্রজেক্টর সরবরাহ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার শিক্ষানুরাগি সুধি সমাজ।






মন্তব্য চালু নেই