মেইন ম্যেনু

কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে ‘কে’ হচ্ছেন নৌকার মাঝি বা ধানের শীষের বাহক?

কে হতে পারেন নৌকার মাঝি কিংবা ধানের শীষের বাহক? সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে নৌকার মাঝি বা ধানের শীষের বাহক ‘কে’ হতে পারেন তা নিয়ে দল সমর্থিত ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও যেন কৌতুহলের শেষ নেই। কেননা নির্বাচনে ‘দলীয় প্রতীক’ যে বড় ফ্যাক্টর সেটা প্রায় সকলেই স্বীকার করে থাকেন।
মেয়র পদে প্রায় হাফ ডজন আ.লীগ ও একাধিক বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় যখন অনেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আসছিলেন ঠিক তখনই সোমবার মন্ত্রিসভায় জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক ঠিক রেখে স্থানীয় বিভাগের পাঁচটি আইনের খসড়া নীতিমালা অনুমোদিত হয়েছে।
ফলে কিছুটা নিশ্চিত হতে চলেছে যে, এবার থেকে স্থানীয় সরকারের সবধরনের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও ব্যানার ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। সোমবার দুপুরে মন্ত্রিসভার নিয়মিত ৮০তম বৈঠকে পাঁচটি আইনের খসড়া নীতিগত ভাবে ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
আইন পাঁচটি হলো- স্থানীয় সরকার (ইউনিয়র পরিষদ) আইন ২০১৫, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৫, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৫, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন আইন ২০১৫ ও স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০১৫। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, ‘এই আইনে দলীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা যেসব প্রতীক ব্যবহার করেছেন, সেসব প্রতীক ও ব্যানার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন।’ অর্থাৎ দলীয় সমর্থনে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন।
আর এরই ফলে কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ‘কে’ পাবেন নৌকা বা ধানের শীষের টিকিট তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের মধ্যে কিংবা আগামি বছরের প্রথম দিকে পৌরসভা নির্বাচন হতে পারে। আসন্ন ওই নির্বাচনকে ঘিরে কলারোয়া পৌরসভায় নির্বাচনী আমেজ শুরুও হয়ে গেছে। সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা জনসংযোগে নেমে পড়েছেন কোমড় বেধে।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মেয়র পদে আ.লীগ দলীয় নেতাদের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ ও কার্যক্রম শুরু করেছেন কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা আ.লীগের সাবেক আহবায়ক সাজেদুর রহমান খাঁন চৌধুরী মজনু, উপজেলা আ.লীগের অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ আমজাদ হোসেন, জেলা আ.লীগ নেতা ও কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরাফাত হোসেন এবং পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। বিগত কয়েক মাস আগে একটি অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র পদে মজনু চৌধুরীকে দল সমর্থিত প্রার্থী ঘোষনা করা হয়। তবে সেটা নাকচ করে দিয়ে অতিসম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু নিজেও জনসংযোগে নেমে পড়েছেন।
অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য দু’জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- সাময়িক বরখাস্ত পৌর মেয়র উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক বর্তমানে কারান্তরীণ গাজী আক্তারুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শরীফুজ্জামান তুহিন। এদের মধ্যে শেখ শরীফুজ্জামান তুহিন ইতোমধ্যে ‘শান্তভাবে’ নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এম মুনছুর আলীও মেয়র প্রার্থী হতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।
তবে দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়া ও স্থানীয় নেতাদের আত্মগোপনের কারণে দলীয় ভাবে জামায়াতের কোন প্রার্থীর নাম এখনো পর্যন্ত শোনা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন আলহাজ্ব শেখ আমজাদ হোসেন ও বিএনপির শেখ শরীফুজ্জামান তুহিন।
এদিকে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে উভয় দলের একাধিক প্রার্থীরা নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ‘কে’ নৌকা বা ধানের শীষ প্রতীক পাবেন সেটা নিয়েও আলোচনার পাশাপাশি ‘দুশ্চিন্তা’য় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।






মন্তব্য চালু নেই