মেইন ম্যেনু

কাঁকড়ার খামার

কাঁকড়ার কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। এই প্রাণীটি কোথায় কিভাবে বাস করে এবং তাদের চলাচল মোটামোটি সবারই জানা। তবে কাঁকড়ার খামারের কথা! অবিশ্বাস্য হলেও এটি সত্য। কক্সবাজারে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রযুক্তিনির্ভর কাঁকড়া চাষ।

উদ্যোক্তারা কাঁকড়া চাষে বিনিয়োগ করেছেন কোটি কোটি টাকা। গড়ে তুলছেন কাঁকড়া উৎপাদনকারী ফার্ম। অনেক আগেই কাঁকড়া চাষ শুরু হলেও এখন এটি দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

বিদেশের বাজারে কাঁকড়ার দারুণ চাহিদা থাকায় এবং স্বল্প পরিশ্রমেই অল্প সময়ে লাভবান হওয়া সম্ভব। এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজারের কাঁকড়া জাপান, হংকং, থাইল্যান্ড ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। কক্সবাজারে মূলত দুই ধরনের কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে।

একটি সফট সেল ক্র্যাব, অন্যটি হার্ড সেল ক্র্যাব। হার্ড সেল ক্র্যাব জীবিত অবস্থায় এবং সফট সেল ক্র্যাব হিমায়িত অবস্থায় বিদেশে রফতানি করা হয়। এরই মধ্যে সদর উপজেলার খুরুশকুল, চৌফলদ-ী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া ও টেকনাফসহ জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২০টিরও বেশি কাঁকড়া উৎপাদনকারী ফার্ম গড়ে উঠেছে। এসব ফার্ম থেকে উৎপাদিত কাঁকড়া জাপান, থাইল্যান্ড, হংকং ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।

কাঁকড়া চাষিরা জানান, এসব ফার্মে শক্ত কাঁকড়ার খোলস পাল্টে নরম খোলসে পরিণত করে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। ২০ দিনের মধ্যেই প্লাস্টিকের বক্সের মাধ্যমে শক্ত কাঁকড়ার খোলস থেকে নরম খোলসে পাল্টে যায়। এতে খাওয়ার উপযোগী হয়। এ ধরনের চাষ উপকূলীয় মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভজনক হওয়ায় কাঁকড়া চাষে আগ্রহী অনেকেই। তবে কাঁকড়ার ফার্মে মড়ক দেখা দিলে বিপদে পড়তে হয়। সদর উপজেলা খুরুশকুলে এসএফ কাঁকড়া ফার্মের ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, প্রতি বছর কাঁকড়া রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।

চিংড়ি মাছের মতো কাঁকড়া যে কোনো তরকারির সঙ্গে রান্না করা যায়। শুধু কাঁকড়া রান্না করলে এর স্বাদ আরও বেশি। এটি জন্ডিস রোগীদের জন্য উপকারী। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন বলেন, কক্সবাজারের কাঁকড়া বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে, সেভাবে তা পূরণ করতে পারছেন না এখানকার চাষিরা।

কারণ কাঁকড়ার বাচ্চার সঙ্কট রয়েছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে যদি একটি কাঁকড়ার বাচ্চা উৎপাদনকারী হ্যাচারি গড়ে তোলা হয়, তাহলে এ সঙ্কটের সমাধান হবে। বাচ্চা কাঁকড়া উৎপাদনকারী হ্যাচারি গড়ে তোলা খুবই ব্যয়বহুল। তাই স্বল্প আয়ে অনেক লাভ হওয়ায় উপকূলে গড়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর ফার্ম।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান, এক সময় কক্সবাজারে কাঁকড়া চাষ ও ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো ধারণা ছিল না। তাই কোথাও কাঁকড়া দেখা গেলে ক্ষতির আশঙ্কায় সঙ্গে সঙ্গে তা মেরে ফেলত। কিন্তু এখন সেই কাঁকড়া এ অঞ্চলের মানুষের ভোগ্যপণ্যে পরিণত হয়েছে। চাষ হচ্ছে ব্যাপক। গড়ে তোলা হয়েছে কাঁকড়া উৎপাদনকারী ফার্ম।






মন্তব্য চালু নেই