মেইন ম্যেনু

কাঁধ থেকে মাথা পর্যন্ত লোহার পেরেকে বিদ্ধ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য!

কাঁধ থেকে মাথা পর্যন্ত সারি সারি লোহার পেরেক গাঁথা। একটু দূর থেকে দেখলে মনে হয় তীরের মতো অনেকগুলো পেরেক বিদ্ধ হয়ে আছে। আর যিনি বিদ্ধ হয়ে আছেন তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাতির পিতার একমাত্র ভাস্কর্যের এই বেহালদশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে অবস্থিত এই প্রতিকৃতিতেই শোক দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার বুদ্ধ ও হাফিজ উদ্দিনের নকশায় নির্মিত এই প্রতিকৃতিটির উন্মোচন করেন তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির।

ফলকের ঠিক নিচেই বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্বৃতি দিয়ে লেখা রয়েছে ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা, বাংলাদেশের মানুষ যেন তাদের খাদ্য পায়, আশ্রয় পায় এবং উন্নত জীবনের অধিকারী হয়- বঙ্গবন্ধু।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গবন্ধু হলের এক নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, ‘প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে হল অফিসের নির্দেশে কোনো এক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এভাবে পেরেক লাগানো হয়। প্রতিদিনই বাইরে থেকে ঘুরতে আসা লোকেরা ছবির এই অবস্থা দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে, না হয় হাসি-ঠাট্টা করে। এতে করে আমরাও লজ্জা পাই।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, ‘বছরখানেক আগে আলোকসজ্জার কারণে ওখানে পেরেক গাঁথা হয়েছিল। ওই পেরেকগুলো উঠালে প্রতিকৃতিটির বর্তমান অবস্থা নষ্ট হয়ে যাবে, তাই পরে আর পেরেকগুলো তোলা হয়নি। এখন যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে কী করা যায় তা ভেবে দেখবো।’

কিন্তু সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এ ধরনের পেরেকের অবস্থান অবমাননাকর। বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম রায়হান বলেন, আলোকসজ্জার কথা বলে এভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির উপরে পেরেক লাগানো ঠিক হয়নি। এটা তার জন্য অবমাননাকর। প্রশাসনকে দ্রুত প্রতিকৃতির উপর থেকে পেরেক সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব সাদী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের এসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পেরেক লাগানো দেখে খুব খারাপ লাগলো। এটা বঙ্গবন্ধুর জন্য অবমাননাকর। দ্রুত এটির সংস্কার প্রয়োজন।’

জাতির পিতার ছবির উপর পেরেক গাঁথা থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘এটা জাতির পিতার জন্য যেমন সম্মানহানিকর, আমাদের জন্যও লজ্জাজনক। আমরা আশা করবো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে এই প্রতিকৃতির সংস্কার করে জাতির পিতার যথাযথ সম্মানের ব্যবস্থা করবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতিকৃতিতে পেরেক গাঁথার বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে পরে কথা বলবো।’

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ২৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।






মন্তব্য চালু নেই