মেইন ম্যেনু

কাউন্সিল প্রস্তুতি: দম ফেলার ফুরসত নেই বিএনপি নেতাদের

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই অবশেষে কাউন্সিল হতে যাচ্ছে বিএনপির। প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে এসে দলটির নেতারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন অনুষ্ঠানটি সফলভাবে শেষ করতে। শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় দিনরাত কাজ করছেন সব স্তরের নেতারা।

কাউন্সিল উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা ঢাকায় এসেছেন, তারাও ব্যস্ত নেতাদের কাছাকাছি থাকতে। সারাক্ষণ নেতাদের অনুসরণ করছেন তারা।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ের ভেতরে-বাইরে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়। কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে চলছে নানা কাজের ব্যস্ততা। কাউন্সিলের ভেন্যু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ। দুই জায়গাতেই কারও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পুরোদমে চলছে প্যান্ডেল ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ। কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে ইনস্টিটিউশনের টেনিস কোর্টের পাশে। অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন সেখানে। কেউ ফেস্টুনের ফ্রেম তৈরি করছেন। প্যান্ডেল আর মঞ্চের বাঁশ কাপড়ে মোড়াতে ব্যস্ত দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে।

জানতে চাইলে শ্রমিকদের একজন বলেন, “কালকের (শুক্রবার)সকালের মধ্যে আমরা সব কাজ শেষ করতে চাই। প্রয়োজনে রাতেও কাজ করব।”

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে একে একে কাউন্সিলের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা,ব্যবস্থাপনা,আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়করা অন্য সদস্যদের নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে আসেন। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের নিয়ে ইনস্টিটিউশনের ভেতরে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাংবাদিক শফিক রেহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আসাদুল হাবিব দুলু, মিজানুর রহমান সিনহা, গিয়াস কাদের চৌধুরী, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কাউন্সিল স্থল পরিদর্শন করেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় সাংবাদিকদের ফখরুল বলেন, “প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করি শনিবার সুষ্ঠুভাবে কাউন্সিল সম্পন্ন করতে পারব।” কাউন্সিলে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সেখানেই আপ্যায়ন কমিটির একজন সদস্যের কাছে প্রস্তুতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভাই, সময় নেই। সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে কাজ করছি। যতজনের খাবারের কুপন দেয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের খাবার প্রয়োজন হলে কী করব সেই চিন্তায় আছি।”

এদিকে বেলা একটার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা কাউন্সিলস্থল ত্যাগ করার পরপরই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ ব্যবহারে পুলিশের অনুমতি পায় বিএনপি। পরে শুরু হয় সোহরাওয়ার্দী ঘিরে প্রস্তুতির কাজ। কাউন্সিলের দিন সেখানে আমন্ত্রিত ডেলিগেটদের বসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।

এ তো গেল কাউন্সিলের ভেন্যু নিয়ে ব্যস্ততার খবর।

ওদিকে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ের ভেতরে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকে ভেতরে জায়গা না পেয়ে কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত ও রাস্তায় অবস্থান করছেন।

কাউন্সিল উপলক্ষে কার‌্যালয়ের সামনে ও আশপাশের ভবনের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে কাউন্সিল উপলক্ষে রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন। সামনের অংশজুড়ে টানানো হয়েছে কাউন্সিলের স্লোগান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি-সংবলিত বিশালাকার ব্যানার।

কার‌্যালয়ের নিচতলায় রাখা হয়েছে অসংখ্য ফেস্টুন। সাউন্ড বক্সে বাজছে জাসাসের গান। সামনের রাস্তা ও ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আলাপে ব্যস্ত বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেল আরেক দল ব্যস্ত নেতাকর্মীকে। কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক আর মহিলা দলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন পরিচয়পত্র।

ঠিক তার উল্টো দিকের মহিলা দলের রুমে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কাউন্সিলের দিনের জন্য কার্ড সংগ্রহ করছেন। কেউ আবার বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়েই সেরে নিচ্ছেন দুপুরের খাবার।

তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুম, দপ্তরের দায়িত্ব্প্রাপ্ত রুহুল কবির রিজভীর রুম, দপ্তরের রুম নেতাকর্মীতে ঠাসা। সেখানেও অনেককে কার্ড নিতে দেখা গেছে। আর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলছেন ও তথ্য সংগ্রহ করছেন।

কার‌্যালয়ের চতুর্থ তলায় দেখা গেছে ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে কাউন্সিলের দিনে পালনীয় নানা নির্দেশনা নিচ্ছেন। যাদের বিভিন্ন কমিটিতে নাম আছে, তাদের কার্ড বুঝে নিতেও দেখা গেছে।

নয়াপল্টনে আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাউন্সিল নিয়ে কথা বললে তারা সুষ্ঠুভাবে কাউন্সিল সম্পন্ন করার প্রত্যাশার কথা জানান। তবে তাদের অভিযোগ, সরকার নির্দিষ্ট সময় কাউন্সিলের ভেন্যুর অনুমতি দিলে আরও আগে প্রস্তুতি শেষ করা যেত। শেষ সময়ে অনুমতি দেয়ায় একটু বেগ পেতে হচ্ছে।

শনিবার (১৯ মার্চ) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বসবে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল।

কাউন্সিল করার জন্য ভেন্যু হিসেবে তিনটি স্থানের জন্য আবেদন করেছিল বিএনপি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশাপাশি অন্য দুটি হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি না পেয়ে দলটি যখন কাউন্সিল অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের অনুমতি পায় তারা। তবে এখানে কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার পর্বের অংশটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত দলটি। কেননা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনের আসনসংখ্যার চেয়ে দলের কাউন্সিলরের সংখ্যা তিন গুণের বেশি।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই