মেইন ম্যেনু

কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও : ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, সেবা বঞ্চিত জনগণ

গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ইউনিয়ন বাসী দিন দিন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কে বা কারা ভবনটি সংস্কার করতে এসে না করেই বিল ভাউচার নিয়ে চলে গেছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ২৯ এপিল মের্সাস রিয়েল এন্টার প্রাইজ, ৯৪ সি/কে ঘোষ রোড ময়মনসিংহ নামীয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গোবিন্দ্রশী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি মেরামত/সংস্কার করার জন্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দ পায় এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথাও ছিল কিন্তু তা না করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। এ অবস্থায় থাকায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নিজেই রোগী হয়ে পড়েছে। গত বুধবার সরেজমিনে গেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালা বদ্ধ পাওয়া যায়।

কদশ্রী থেকে জ্বরের রোগী মনোয়ারা আক্তার জানান,আমি জ্বরের ঔধষ নিতে আসছিলাম এখানে কেউরে পাইলাম না ,তাই বাড়ী যাইতাছিগে।

কদশ্রী বাজারের টেইলার্স সজিবুল ইসলাম জানান, এখানে মূলত ডাক্তার প্রতি মঙ্গলবারে আসেন কিন্তু ঈদের পর কেহ আসেনি। তাই তালাও খোলা হয়নি।

এলাকাবাসী বলছে ভবনটি বর্তমানে মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে এ কেন্দ্রটি এমন অবস্থা থাকায় কেহ সেবা দিতে আসে না। দীর্ঘদিন ধরে ফার্মাসিস্ট , পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে চিকিৎসা সেবা চললেও বর্তমানে তারা যাচ্ছেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। ফলে চরম দুভোর্গের শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুরা। এ ইউনিয়নে ২২ হাজার জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে থাকায় এমনকি বর্ষা কালে নৌকা একমাত্র বাহন হওয়ায় এই কেন্দ্রটি ছিল চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। র্দীঘদিন ধরে এমন হাল থাকায় নিয়মিত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার হতদরিদ্র সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে পদমশ্রী এ ইউ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমির কুমার দাস বলেন,এ কেন্দ্রটি বিদ্যালয়ের পাশে থাকায় আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা যে কোন রোগ হলে সহজেই চিকিৎসা নিতে পারত। বর্তমানে কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকা এবং চিকিৎসক না থাকায় এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান একে এম নরুল ইসলাম ছদ্দু জানান,এ ভবনটিতে আমার আগে বাজেট এসে ছিল, কে বা কারা কাজ না করে চলে গেছে তা আমার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল করিম জানান,এ কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ৫টি পদ রয়েছে । বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় তারা বেশি যায় না। তবে আমি তাদের পাঠাব।

এ ব্যাপারে গোলাম মোঃ আজম, উপ-পরিচালক ,নেত্রকোণা জানান,সংস্কার/মেরামতের কাজটি শুধু মাত্র নেত্রকোণা স্বাস্থ্য প্রকৌশল দেখে থাকে,তারাই মূলত কাজ গুলো দেখে,টেন্ডার তারাই দেয়,এমনকি সব কাজ তারাই বুঝে নেয়,বিল ভাউচার ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে হয়,আমাদের কিছুই করার থাকে না। কাজ শেষে শুধু মাত্র উপজেলা অফিসকে বুঝিয়ে দেয়।

ফার্মাসিস্ট এনামূল ও পরিবার পরিকল্যাণ পরিদর্শিকার সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।






মন্তব্য চালু নেই