মেইন ম্যেনু

কাটা হাত নিয়ে কোহলির ৭৫!

ব্যাট হাতে তার বাঁশি। বাজিয়েছেন ক্রিকেটের নন্দনকাননে। তবলা হয়ে তাল দিয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার আগে মুখরা গেয়ে চলে যান গেইল। আহা, এ যেন ত্রিলোক হতে আগত ক্রিকেট-সঙ্গীত। মুগ্ধ ইডেন। মুগ্ধ ক্রিকেট পিপাসীর চোখ। মঞ্চের পেছনে থাকে অনেক না বলা কথা। বিন্দু বিন্দু ঘাম। যারা সংগঠক শুধু তারাই জানেন সেই সব কথা। কলকাতার হাত থেকে ম্যাচ বের করে নেয়া সংগঠক কোহলিও জানতেন তাকে খেলতে হবে। ওই রক্তাক্ত হাত নিয়ে হলেও!

ফিল্ডিংয়ের সময় হাত ছিঁড়ে যায়। ড্রেসিংরুমে ফিরে ফিজিওকে তাগাদা দেন, যে করে হোক হাত খেলার মতো সুস্থ করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ওই অবস্থায়ই মাঠে নেমে পড়েন বেঙ্গালুরু কাপ্তান। অপরাজিত ৭৫ রান করে মাঠ ছাড়েন।

ম্যাচ শেষে বলে যান, ‘মনে হচ্ছে সাত/আটটা সেলাই নিতে হবে। হাতে প্রচুর ব্যথা হচ্ছে। দশটা সেলাই নিতে হলেও আমার কষ্ট হতো না!’

দলঅন্তপ্রাণ এমন নায়ক ক্রিকেট বিশ্বে হাতেগোনা। অসুস্থ শরীর নিয়ে মাশরাফির বল করার নজির আছে। হাতে ব্যথা নিয়ে শচীনের ব্যাট করার গল্প আছে। এবার রক্তাক্ত হাত নিয়ে ব্যাট করার রূপকথা খোদাই হলো ক্রিকেট জগতে!

গতকাল বেঙ্গালুরু হারলে প্লেঅফ হুমকির পড়ে যেত। কলকাতা আগে ব্যাটে করে ১৮৩ রানের বড় স্কোর গড়ে ফেলে। গেইল ৪৯ করে মাঠ ছাড়ার পর ভিলিয়ার্সকে নিয়ে কোহলি শুরু করেন।

ক্রিজে বসে বেঙ্গালুরু কাপ্তান ভিলিয়ার্সকে বলেছিলেন তিনি থাকতে চান, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য কৌশলী ছিল। আমি টিকে থাকতে চেয়েছিলাম। এবিও বলল, সে চেজ করতে চায়। এতে আমার কাজটা সহজ হয়ে যায়। ও কখনো আমার ওপর এতটুকু চাপ ফেলেনি।’

‘ফিজিওকে বলেছিলাম যে করে হোক আমাকে ব্যাট করতে হবে। আমাদের আসলে ভুল করার কোনো জায়গা ছিল না। জয় নিয়ে বেঙ্গালুরু ফিরতে পেরে সামনে কাজটা একটু সহজ হলো।’

ভিলিয়ার্স মোকাবিলা করেন মাত্র ৩১টি বল। আর তাতেই ৫১ রান বের করেন তিনি। আইপিএলের ইতিহাসে এত রান চেজ করে ৯ উইকেটে কিংবা উইকেট না হারিয়ে জেতার নজির একটি আছে। সেই ২০১২ সালে হায়দ্রাবাদ ডেকান চার্জার্সের ১৮৮ টপকে গিয়েছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।

কোহলি-ভিলিয়ার্স এবার আইপিএলে অতিমানবীয় সব কাজ করছেন। কোহলি ইতিমধ্যে দুটি শতক তুলে নিয়েছেন। এর আগে এক আইপিএলে যা কেউ করতে পারেননি। এই জুটি এ বছর ৮০০’র বেশি রান এনে দিয়েছেন দলকে। আইপিএলে এখন অবধি কোনো জুটি ৭০০ রানও করতে পারেনি!






মন্তব্য চালু নেই