মেইন ম্যেনু

কানের সুস্থতার জন্য করনীয়

সাবেরা খাতুন : কান আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয় এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ। বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তকর্ণ এই তিনটি অংশ নিয়ে কান গঠিত। কান সংক্রমণ বা আঘাতজনিত ক্ষতিসহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কানের রোগ হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া এবং ভারসাম্য রোগ যেমন- ভারটিগো হতে পারে। আমাদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা করা উচিৎ তা জেনে নিই চলুন।

১। নিরাপদ ভলিউমে গান শুনুন

গান শুনার সময় আইপডের ভলিউম কমিয়ে দিন এতে আপনার শ্রবণের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে। জেনারেশনড্যাফ.কম এর মতে আইপডে গান শোনার ক্ষেত্রে হেডফোন ব্যবহার করলে ভলিউম ১০-৫০% রাখাটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ভলিউম ৮০% হলে দেরঘন্টার বেশি শোনা উচিৎ নয়। ৯০% ভলিউম হলে ১৮ মিনিটের বেশি শোনা উচিৎ নয়।

২। কানের ময়লা পরিস্কারের সময় সতর্ক হোন

মূলত কানের সুরক্ষার কাজটিই করে থাকে কানের ময়লা। কানে যখন কটন বাড ঢুকানো হয় তখন এয়ার অয়াক্সকে আরো ভেতরের দিকে ঠেলে পাঠায়। তাই কটন বাড না ব্যবহার করা ভালো। কানে বেশি ময়লা জমলে এমনিতেই বেরিয়ে আসে। তাই বহিঃকর্ণের মুখটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলাই যথেষ্ট। সুচালো কিছু কানে ঢুকাবেন না। কারণ এর দ্বারা খোঁচা লেগে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। কানের ময়লা শক্ত হয়ে গেলে ২ফোটা অলিভ অয়েল কানে দিয়ে ঘুমান। ময়লা নরম হয়ে বেরিয়ে আসবে। খুব বেশি অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হলে ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন। তিনি প্রয়োজনে কান পরিস্কারের ব্যবস্থা করবেন।

৩। কানকে সুরক্ষা দিন

উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যেমন- মেশিনের শব্দ, রক কনসার্ট, ইত্যাদির সময় কানে এয়ার প্লাগ ব্যবহার করুন।

৪। বিমানে

বিমান নামার সময় বা টেকঅফ করার সময় ঢোক গিলুন এবং হাই তুলুন যাতে কানের ভেতরের চাপ সমান হয়। যদি আপনার ঠান্ডা বা সাইনাসের সমস্যা থাকে তাহলে ফ্লাইটের কয়েকঘন্টা আগেই ডিকনজেসটেন্ট ঔষধ সেবন করুন। এছাড়াও বিমান ভ্রমণের সময় ব্যবহারের জন্য বিশেষ ফিল্টার যুক্ত এয়ারপ্লাগ কিনে নিতে পারেন যা কানের ভেতরের বাতাসের চাপকে সমান করতে সাহায্য করবে।

৫। সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখুন

সূর্যালোকিত দিনে বাহিরে যাওয়ার সময় কানে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। কারণ কানের ত্বক খুবই সেনসিটিভ হয় ফলে অতিরিক্ত সূর্যতাপে কানের ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

৬। শ্রবণশক্তি হ্রাসের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সতর্ক হোন

কথোপোকতন শুনতে যদি সমস্যা হয়, অন্যদেরকে ঘন ঘন জিজ্ঞেস করা তারা কি বলছে, অন্য মানুষের কথা ভুল বুঝা এবং টেলিফোনে কথা শুনতে সমস্যা হলে শ্রবণ শক্তির সমস্যা হচ্ছে ধরে নেয়া যায়।

৭। সংক্রমণ প্রতিরোধ করুন

মধ্যকর্ণের সংক্রমণ হয় সাধারণত ঠান্ডা বা অন্য ধরণের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে। কানের ইনফেকশন তৈরি করার আগেই শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত নিরাময়ের ব্যবস্থা নিন।

৮। শ্রবণশক্তির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করুন

শ্রবণশক্তি খুবই নাজুক তাই সর্বদা এর নিরাপত্তার বিবেচনা করুন। প্রতিদিনই আমরা এমন কিছু কাজ করে থাকি যেমন- হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের সময় কানের খুব কাছাকাছি নিয়ে আসা যা শ্রবণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৯। ঔষধ

কিছু ঔষধ শ্রবণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোন ঔষধ সেবন করা কালীন যদি কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

আমেরিকার ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গবেষকদের ৪৯-৯৯ বছর বয়সের ২১১১ জন মানুষকে নিয়ে করা গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, যারা ভিটামিন সি, ই, রিবোফ্লাবিন, ম্যাগনেসিয়াম এবং লাইকোপেন সমৃদ্ধ খাবার খান তাদের শ্রবণ শক্তি ভালো থাকে। এছাড়াও তৈলাক্ত মাছ শ্রবণশক্তির সুরক্ষায় কাজ করে।






মন্তব্য চালু নেই