মেইন ম্যেনু

কান্না আড়াল করতেই কি গেয়ে উঠলেন ওবামা? (ভিডিও)

বারাক ওবামা, মার্কিন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট তিনি। মার্কিন সমাজের অভিবাসী-কৃষ্ণাঙ্গ আর প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাঁকে ভরসা করেন এখনও। এদিকে ক্ষমতার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে ওবামার। তিনি তাই এখন আরও বেশি অনানুষ্ঠানিক, আরও বেশি খোলামেলা।

শুক্রবার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ কিশোরের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গদের গির্জায় নিহত রেভারেন্ড ক্লেমেনটা পিংকনের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দক্ষিণ ক্যারোলিনার চার্লসটনে ছুটে আসেন ওবামা। সেখানে সবাইকে খানিকটা অবাব করে দিয়ে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে গেয়ে ওঠেন ধর্মীয় প্রশস্তিমূলক গান ‘এমাজিং গ্রেস’।

এক মূহূর্তের জন্য চমকে উঠেন সবাই। পরমুহূর্তেই সবাই তার সঙ্গে যোগ দেন। নিজে যে কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের অংশ, তাদের প্রতি নিজের সহজাত অনুভূতি আর কান্না আড়াল করতেই কি গেয়ে উঠলেন তিনি? এর উত্তর ওবামা নিজেই জানেন। তবে চার্লসটনে তিনি ৫ হাজার মানুষের সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের সংকট নিয়ে এক আবেগঘন ভাষণও দেন তিনি। বন্দুকধারীদের সহিংসতা এবং বর্ণবাদ রুখতে চার্চে ৯ জনের নিহত হওয়ার এ ঘটনায় মার্কিন নাগরিকদের আরও উজ্জীবিত হওয়া উচিত বলে তার ভাষণে মন্তব্য করেন।

bar

ওবামা বলেন, ‘একটি জাতি হিসেবে এই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডিতে ঈশ্বর আমাদের অপার কৃপা করেছেন, কারণ আমরা কোথায় অন্ধ হয়ে আছি, তা আমাদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।’

ওবামা এতটাই আবেগপূর্ণ কণ্ঠে তার কথাগুলো উচ্চারণ করতে থাকেন, শুনে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন ধর্মীয় নীতি-উপদেশ দিচ্ছেন। চার্চের বাদকদের যন্ত্রসঙ্গীতে তার সবচেয়ে আবেগঘন কথা আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল।

ওবামা তার ভাষণে বলেন, গুলিবর্ষণকারী শ্বেতাঙ্গ কিশোরের মনে বর্ণবাদভিত্তিক বিভাজন গভীর করার ইচ্ছা থাকলেও ঈশ্বর তার ইচ্ছা পূরণ করেনি; বরং ঈশ্বরই তাকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ওই হত্যাকারী কল্পনাই করতে পারেনি তাকে যখন আদালতে তোলা হবে, তার দিকে ঘৃণা বর্ষণের বদলে নিহতদের স্বজনরা ক্ষমা বর্ষণ করবেন।

ওবামা মন্তব্য করেন, বর্ণবাদী বিভাজন বাড়ানোর পরিকল্পনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে নিহতের স্বজনরা। এ সময় তিনি ‘ঘৃণার জয় হতে পারে না’ নামে বর্ণবাদবিরোধী একটি প্রচার অভিযানের প্রতিও সমর্থন জানান। বর্ণবাদের সংকট একদিনে শেষ হওয়ার নয় এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ওবামা। তা ছাড়া শুধু প্রত্যক্ষ নয়, বর্ণবাদের পরোক্ষ দিকগুলোর উপরেও ব্যাপক মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কনফেডারেট পতাকা যে অসংখ্য মানুষকে আহত করে আসছে, সেদিকটার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অন্ধ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই