মেইন ম্যেনু

কান পেতে মনের কথা শোনে ঘরের দেওয়াল অতএব সাবধান!

এক বন্ধুর নতুন বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল এক-একটা ঘর সেজেছে এক এক রকম ছবিতে।

বন্ধু বলল, ‘দেওয়াল দেখেই বুঝে নাও, কোনটা কার ঘর।’

তাঁর তিন কন্যের ঘরের দেওয়াল সত্যিই তিন প্রকার। এক জনের ঘরে শুধুই বাউল-ফকির-রবীন্দ্রনাথ-বিথোভেন। মেজো মেয়ে আবার মনের দিক থেকে একেবারেই পশ্চিমী। ঘরে ঢুকলেই তা বলে দিচ্ছে দেওয়াল। পিঙ্ক ফ্লয়েড- বিটেলস্‌ সঙ্গে বেকেটের বাণী, রয়েছে অ্যাডেলও। ছোট জন সবে ক্লাস সিক্স। দেওয়ালই বুঝিয়ে দেয় সে এখনও কতটা আহ্লাদে আছে। ডিজনি, পোকেমন, স্নো হোয়াইটের স্টিকারে ভর্তি তাঁর ঘর।

আর মা? বিবাহ বিচ্ছিন্না ৫৪ বছরের সুন্দরী। তাঁর দেওয়াল কী বলে? সুসজ্জিত বেডরুমের দেওয়ালে মানানসই রঙের প্রলেপ। ফাঁকা দেওয়াল বলে দেয় যেন, মনটা এখনও হু হু করছে। কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে তাঁর দেওয়ালও।
বাড়ির দেওয়ালকে ক্যানভাস বানানো আজকের ফ্যাশন নয়। বহু প্রাচীন সময় থেকেই উৎসব-পার্বণে দেওয়াল সাজানোর চল রয়েছে। শুধু এসেছে সে সাজে কিছু রকম ফের। মনের মতো করে দেওয়াল সাজিয়ে ফেলা তাই এখনও রীতিমতো ট্রেন্ডি। যদি না কিছু বলার থাকে নিজের থেকে, তবুও ব্যবস্থা আছে দেওয়াল সাজানোর।
অত্যাধুনিক সব ওয়াল স্টিকারই এখন বলে দেবে, কোন ঘর কাকে চায়।

যেমন সে দিন দিদির বাড়ি গিয়ে ঢুকতেই এক দারুণ চমক। বসার ঘরের সাদা দেওয়ালে সাঁটা ফুলের স্টিকার। খাওয়ার ঘরে ডাইনিং টেবিলের ঠিক উপরে আবার রয়েছে চা-ফলের স্টিকার। দিদির ছেলের ঘরে ঢুকতেই বড়সড় দেওয়ালে আবার লম্বা লেজ ঝুলিয়ে গাছের ডাল ধরে ঢুলছে হনু। গেস্ট রুমের দেওয়ালে আবার আড্ডায় মশগুল দুই তরুণীর স্টিকার। প্রতিটা ঘরে প্রতিটা স্টিকারের বক্তব্য খুব স্পষ্ট।

অনলাইন দোকানগুলো খুললেই এখন দারুণ মজার মজার স্টিকারে ভর্তি। চোখ বন্ধ করে নিজের ঘরটার কথা ভেবে বেছে নিন তার থেকে দু’-একটা। পুজোয় নিজের ঘরটাকেও তো নতুন কিছু দিতে হবে। অ্যাক্সেসরিজ কি সব নিজের সাজের জন্য কিনলেই হবে নাকি? আত্মীয়-বন্ধুরাই বা তবে রাস্তার এত সাজগোজ ছেড়ে, শুধু শুধু আপনার বাড়ি আসবেন কেন শুনি? আড্ডার মরসুমে ঘরটা সাজুক আড্ডার জন্য আদরে-আহ্লাদে।
করা যায় একটা ছোট্ট মজাও। নিজের পরিবারের একটা ছবি দিয়েই বানিয়ে ফেলুন না স্টিকার। সাঁটা থাকুক বড় একটা দেওয়ালে।

দেওয়ালের কি শুধুই কান থাকলে চলবে নাকি? চোখ, নাক, মুখের কী হবে? এ পুজোয় জুড়ে দিন না সেগুলোও।






মন্তব্য চালু নেই