মেইন ম্যেনু

কামরুলের বাড়িতে তালা

সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজনের খুনি কামরুল ইসলামের বাড়িতে তালা ঝুলছে। নিস্তব্ধ ওই বাড়িতে এখন কেউ নেই। শুধু আছে নিরবতা।

রোববার রাতে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার শেখপাড়ার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে কামরুলের পরিবারের সদস্যরা কোথায় গেছে পাড়া প্রতিবেশিরা তা বলে পারছেন না।

রোববার আলোচিত ওই মামলার রায় হয়েছে। রায়ে কামরুলসহ চার জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। কিন্তু রায় ঘোষণার পর রোববার রাতেই কামরুলের পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া জানতে তার গ্রামের বাড়ি শেখপাড়ায় যায় আমাদের টিম।

কামরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, কামরুলের ঘরের বারান্দায় একটি বাতি জ্বলছে। গেইটে তালা ঝুলানো। এক পর্যায়ে হাঁক-ডাক দিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারপাড়ায় একটি গ্যারেজে খুটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের বাসিন্দা শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে শেখ সামিউল আলম রাজনকে। চুরির অপবাদে রাজনকে খুন করার পর হত্যা কাণ্ডের ভিডিওচিত্র সামাজিক ফেসবুকে আপলোড করে দেয়া হয়। এরপর দেশে জাতীয় ও স্থানীয় গণ্যমাধমগুলোতে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এক পর্যায়ে রাজন খুনের ঘটনা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আসামি করে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু কৌশলে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল ইসলাম দেশ ত্যাগ করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। সৌদি আরবেই তাকে আটক করে সেই দেশের পুলিশের কাছে তুলে দেয় প্রবাসীরা।

এদিকে, দেশে থাকা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা কামরুল ইসলামের তিনভাই আলী হায়দার ওরফে আলী, মুহিদ আলম, শামীম আলম ও মুহিদের স্ত্রী পপি বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পরিবারের বাকি সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

গতকাল রোববার পর্যন্ত ওই বাড়িতে কেউ আসেনি বলে জানিয়েছেন কামরুলের প্রতিবেশীরা।

আছকর আলী নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আমরা সব সময় ভয়ে থাকি। কামরুলের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরা কাউকে কিছু বলতে চাই না।’

কেন বলেতে চান না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা তো রাজন হত্যা মামলার আসামি। তাদের ব্যাপারে কোনো কথা বলে যদি আমাদের বিপদ হয়, এই ভয়ে কথা বলে না কেউ।’

আছকার আলী জানান, কামরুল, মুহিদ, আলী হায়দার, পপি, শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সেখান থেকে চলে গেছেন। এর পর থেকে ওই বাড়িতে কেউ থাকে না।

প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আদালত একজনকে যাবজ্জীবন, ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার শেখপাড়ার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে কামরুল ইসলাম, সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার ও সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমানের ছেলে জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু। এর মধ্যে পাভেল পলাতক রয়েছে। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চারজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজার আদেশ দেন আদালত।

এদিকে আলোচিত এই হত্যা মামলায় সিলেট সদর উপজেলার পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুইমাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা কামরুল ইসলামের তিনভাই আলী হায়দার ওরফে আলী, মুহিত আলম ও শামীম আলমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে শামীম আলম পলাতক রয়েছে। মামলায় একবছর করে সাজা ও ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে একমাসের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মুজতবা আলীর ছেলে আয়াজ আলী ও সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদের। আর বেকসুর খালাস পেয়েছেন ফিরোজ আলী, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিন।বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই