মেইন ম্যেনু

কারাগারেও নূর হোসেনের টাকার জোর!

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি ভারতে পালিয়ে যাওয়া নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিনই সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সাধারণ কয়েদির মতো হলেও নূর হোসেন টাকার জোরেই ভালো থাকছেন বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী নূর হোসেনের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রিমান্ডের আবেদন জানান। কিন্তু পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা একই সময় নূর হোসেনের রিমান্ড চাওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করেন। কারণ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, যেহেতু এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তাই কোনো রিমান্ড হতে পারে না।

শুনানি শেষে আদালত নূর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আদালতে নূর হোসেন নিজের পক্ষে ডিভিশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১১টি মামলায় নূর হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নূর হোসেন একজন সাধারণ কারাবন্দি। তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ বন্দিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নূর হোসেনকে সাধারণ হাজতিদের ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ ওয়ার্ড হলেও এখানে ভিন্ন কোনো অর্থ বোঝায়। যারা সমাজের উঁচু শ্রেণির সাধারণ হাজতি, তাদের জায়গা হয় শাপলা ভবনের দ্বিতীয় তলায়। সেখানেই আরো যারা সাধারণ হাজতি রয়েছে তাদের সঙ্গে নূর হোসেনকে রাখা হয়েছে। সব সাধারণের জন্য যা খাবার তাই দেওয়া হচ্ছে তাকে। নিয়ম অনুযায়ী সকালে একটি বড় আকারের রুটির সঙ্গে সামান্য গুড়, দুপুর ১২টার দিকে ভাতের সঙ্গে সবজি এবং রাতে ভাতের সঙ্গে মাছ অথবা মাংস; তার সঙ্গে সবজি ও ডাল দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ হাজতিরা লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করলেও নূর হোসেনের খাবার সংগ্রহ করছেন অন্য এক হাজতি। টাকার জোরে কারাগারেও নূর হোসেন একজনকে কিনে ফেলেছেন। তার কাপড়চোপড় অন্য আরেকজন ধুয়ে দিচ্ছেন। এ ছাড়া শরীর পর্যন্ত তার মালিশ করে দেওয়া হচ্ছে।

ওই সূত্রটি আরো জানায়, শনিবার কারাগারে জেল কোড অনুযায়ী নূর হোসেনের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় শুকনো খাবার, বিস্কুট, চানাচুর, আপেল, কলা, আঙ্গুর ফল, ১০ কেসের মতো পানি ও শীতের পোশাক তার হাতে তুলে দেন স্বজনরা। কারা কর্তৃপক্ষও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলগেটের বাইরে একজন কারারক্ষী বলেন, ‘নূর হোসেন কারাগারে আসার পরপরই কয়েকজন কারারক্ষী তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কেন এ যোগাযোগ, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বোঝেন না কেন! নূর হোসেনের অনেক টাকা আছে। যেকোনো উপায়ে নূর টাকার বিনিময়ে ভালো থাকতে চাইবেন। আর এ সুযোগটা কারারক্ষীরা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

ওই কারারক্ষী আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে হয়তো কারো যোগাযোগ হয়েছে। নাহলে নূর হোসেনের জন্য এত সব জিনিসপত্র এত তাড়াতাড়ি কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করল। সাধারণত বন্দিদের জন্য একই দিনে এত জিনিসপত্র কারাগারে প্রবেশ করে না। মনে হয় টাকার জোরেই তিনি ভালো থাকবেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর একে একে শীতলক্ষ্যা নদীতে সাতজনের লাশ ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল সাত খুন মামলায় র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর আরিফ, লে. কমান্ডার এম এম রানা এবং নূর হোসেনসহ ৩৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভারতে পালিয়ে যান প্রধান আসামি নূর হোসেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালি এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

গত ১৬ অক্টোবর উত্তর চব্বিশ পরগনার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম সন্দীপন চক্রবর্তীর আদালত নূর হোসেনের বিরুদ্ধে এই অবৈধ প্রবেশের মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই