মেইন ম্যেনু

কারো বোঝা হয়ে থাকার চেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুই ভালো : স্টিফেন হকিং

কারো বোঝা হয়ে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে বেছে নিতেই আগ্রহী বলে জানালেন পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তিনি বলেন, কারো বোঝা হয়ে গেলে কিংবা তার আর কিছু দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে স্বেচ্ছা মৃত্যুকেই বেছে নিবেন তিনি।

কিন্তু বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে স্টিফেন জানান, এখনো বিশ্বকে অনেক কিছুই দেয়ার আছে তার। বিজ্ঞানে এখনো তার অনেক কাজ বাকি।

৭৩ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বাঁচিয়ে রাখা একটি চরম ঘৃণিত কাজ। আমার যদি কখনো মনে হয় যে আমি সমাজের কাছে বোঝা হয়ে যাচ্ছি এবং বিশ্বকে দেয়ার আমার আর কিছুই নেই তবে আমি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার জন্য সহায়তা চাইবো। ’

তার সাক্ষাৎকার নেয়া পদার্থবিদ দারা ও ব্রায়ান জানান, হকিং তার কাছে বেশ খোলামেলা আলোচনা করেছে। তবে আত্মহত্যার জন্য এবারই প্রথম সহায়তা চাননি হকিং। ২০১৪ নালে বিবিসি’র এক সাক্ষাতকারেও তিনি এমন কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৮০ ট্রেচিওস্টোমি অপারেশনের সময় তিনি শ্বাস বন্ধ রেখে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর থিওরেটিকাল কসমোলজি রিসার্চ এর পরিচালক স্টিফেন হকিং বলেন, যেসকল ব্যক্তিরা তাদের কাছের মানুষকে স্বেচ্ছা মৃত্যুতে সাহায্য করেছেন তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত নয়।

কিন্তু তিনি আরো বলেন যে স্বেচ্ছা মৃত্যুর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে নেয়া জরুরি। এ সময় তিনি তার জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন ১৯৮৫ সালে তার নিউমোনিয়া অপারেশনের সময় তিনি তার স্ত্রীকে লাইফ সাপোর্ট বন্ধ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু তার স্ত্রী সে অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এরপরই স্টিফেন হকিং নিউমোনিয়া থেকে সেড়ে উঠেন এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ টাইম’ এর লেখার কাজ শেষ করেন।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি জানান, তার এখনো অনেক কিছু দেয়ার বাকি। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই হতাশ হবো যদি আমি মহাবিশ্বের আরো রহস্য উদ্ঘাটন না করেই মারা যাই।’

তবে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে না পারার হতাশা তাকে সবসময়ই পোড়ায় বলে জানান এই বিজ্ঞানী। তিনি বলেন, যন্ত্রের মাধ্যমে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থায় তিনি মোটেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এবং প্রায় সময়ই তিনি নার্ভাস হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমি সত্যিই অনেক একা বোধ করি কারণ অনেকেই আমার সঙ্গে কথা বলতে ভয় পায় এবং অনেকসময় আমার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করেনা। মাঝে মাঝে আমি বেশ লজ্জিত এবং ক্লান্ত অনুভব করি। যাদের আমি চিনি না, তাদের সঙ্গে আমার কথা বলতে অনেক বেশি কষ্ট হয়।’

মাত্র ২১ বছর বয়সেই স্টিফেন হকিংকে বলা হয় যে তিনি আর মাত্র দুই বছর বেঁচে থাকবেন। কিন্তু ১৯৬০ সাল থেকে এখনও হুইলচেয়ারে জীবিত আছেন তিনি। তবুও তার চলাচলে অক্ষমতা এখনো তাকে হতাশ করে দেয় বলেও জানায় স্টিফেন হকিং।

তিনি বলেন, আমি আবার সাঁতার কাটতে চাই। যখন আমার বাচ্চারা ছোট ছিলো তখন আমি তাদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারিনি। এ যন্ত্রনা সত্যিই আমাকে পীড়া দেয়।’

তবে যুক্তরাজ্যে কাউকে আত্মহত্যায় সাহায্য করা এখনো একটি বড় অপরাধ। তবে শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি লর্ড ফ্যালকনার এমন ইস্যু নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি এমন একটি বিল তৈরি করতে চান যেখানে এমন রোগীদের আত্মহত্যার জন্য সহযোগিতাটি কোনো অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না। তবে সরকারের সহায়তা ছাড়া এমন আইন পাশ হওয়া অসম্ভব।






মন্তব্য চালু নেই