মেইন ম্যেনু

কার পার্কিংয়ে ভূমিকম্প ঝুঁকি, কোড মানতে আউটসোর্সিং

পরপর কয়েকটি ভূমিকম্পে কেঁপেছে বিশ্ব। এরমধ্যে একটি বড় ভূমিকম্প কাঁপিয়ে গেছে বাংলাদেশকেও। তবে, আশঙ্কা এখনও বড় মাত্রার ভূমিকম্পের। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কার পাশাপাশি জোর দিচ্ছেন ভূমিকম্প প্রতিরোধক ভবন নির্মাণের ওপর।

এক্ষেত্রে ভবনগুলোর ‘কারপার্কিং প্লেস’-এর পিলারে অতিরিক্ত রড ব্যবহার নিশ্চিত ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণ তদারকির নির্দেশনা দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঢাকাকে ৮ টি জোনে ৮ টি কনসালটিং ফার্মের অধীনে বিল্ডিং কোড অনুসরণের বিষয় তদারকি করতে রাজউককে তারা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, সেই আলোকে কাজ শুরু করেছে রাজউক।

খ্যাতিমান প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘বিল্ডিং কোড ব্যবহার করে প্রকৌশলী ও স্থপতিরা ভবন নির্মাণ করতে বাধ্য। কিন্তু সমস্যা হলো বেশিরভাগ ভবন নির্মাণে এই কোড মানা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, শতকরা মাত্র এক থেকে দুইভাগ বেশি খরচ পড়বে যদি ভবন নির্মাণের জন্য বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে যাওয়া হয়। আর এটা না করলে সবসময় ভয় থাকে কখন বিল্ডিং ভেঙে পড়বে।

‘ডিজাইন পাস করে দিচ্ছে রাজউক তারপর নির্মাণ ঠিকমতো হলো কিনা তা দেখার কেউ নেই’ উল্লেখ করে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘গত সপ্তাহে বৈঠক করে এটা ঠিক করা হয়েছে যে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকা মহানগর এলাকায় ৮ টি জোনের প্রত্যেক জোনে কিছু কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, বিল্ডিং ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা বিভিন্ন সময় ইনস্ট্রাক করা জন্য।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদি হাসান আনসারী এ বিষয়ে বলেন, ঢাকার ভবনগুলোর কার পার্কিংটা মজবুত করতে হবে। এজন্য কলামের মধ্যে অতিরিক্ত রড দিতে হবে। এর ফলে ভূমিকম্পে ভবন দুলবে, কিন্তু হঠাৎ ভেঙে পড়বে না।

খরচের বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি স্কয়ারফিটে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি খরচ পড়বে।’

তিনি বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রাজউকের ৮ টি জোন করে তদারকির জন্য যে প্রতিবেদেন দিয়েছে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল। এই কনসালটেন্ট ফার্মগুলো কংক্রিট ও রড কোয়ালিটিসহ প্রত্যকটি পদে পদে তারা সার্টিফিকেট ইস্যু করবে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা নিয়ে সরকারের সহযোগিতায় ইউএনডিপির অর্থায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের (সিডিএমপি) যে প্রজেক্ট হয়েছিলো, সেই কমিটির টেকনিক্যাল সদস্য ছিলেন অধ্যাপক আনসারী।

সেই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রজেক্টটি কিছু তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ৩ লাখ ২৬ হাজার ভবনের মধ্যে ৭২ হাজার ভবন ঝুঁকির মুখে জানা গিয়েছিলো। কিন্তু সেই ৭২ হাজার ভবন কোনগুলো তা কেউ জানেন না।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় এখন প্রায় ৪ লাখ বাসা আছে, এটার সঠিক ঝুঁকি পরিসংখ্যান করতে গেলে প্রায় ৫ বছর লাগবে। বাংলানিউজ






মন্তব্য চালু নেই