মেইন ম্যেনু

কালোবাজারিদের দখলে লঞ্চের টিকিট

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো নৌপথের লাখো যাত্রী এবার কালোবাজারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। লঞ্চের প্রতিটি কাউন্টার থেকে হাওয়া হয়ে গেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের বিশেষ সার্ভিসের টিকিট।

যাত্রীরা লঞ্চের কেবিনের টিকিটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরলেও জুটছেনা টিকিট নামের সোনার হরিণ। তবে অধিক টাকার বিনিময়ে হাত বাড়ালেই কালোবাজারীদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত ও বিশেষ সার্ভিসের যেকোন ধরনের টিকিট।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, এ রুটের বিলাসবহুল সুরভী, সুন্দরবন, কীর্তনখোলাসহ বিলাসবহুল লঞ্চের সিংহভাগ টিকিটই চলে গেছে কালোবাজারীদের হাতে। যাত্রীদের ভুয়া নাম-ঠিকানা লিখে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কালোবাজারে টিকিট ছেড়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ।

সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করেন, লঞ্চের টিকিট কালোবাজারীদের কাছে অধিক মূল্যে বিক্রি করেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। কালোবাজারিরা সে টিকিট দুই থেকে তিনগুণ বেশি মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন।

সরকারিভাবে কোন মনিটরিং না থাকায় লঞ্চ মালিকেরা ইচ্ছেমতো আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাংখী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টিকিট দিয়ে বাকিটা কালোবাজারীদের দিয়ে দিয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা কোনভাবেই টিকিট পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সাধারন যাত্রীরা।

সূত্রমতে, লঞ্চের টিকিট কালোবাজারিদের প্রধানের নাম হচ্ছে লেদু (দালাল)। তিনিই মুলত লঞ্চের টিকিট কালোবাজারি শুরু করেছেন। এরপর এ কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন দালাল হাসেম, সেলিম, কবির জাহাঙ্গীর ও আরও অনেকে। তবে লেদু ও হাসেমই বর্তমানে এ চক্রটা নিয়ন্ত্রণ করছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এরা মুলত টিকিট কালোবাজারি করে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় বসে। এদের কাছে কাউকে পাঠিয়ে দিলে পাওয়া যায় লঞ্চের কাঙ্ক্ষিত টিকিট। ঈদ সামনে রেখে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সিঙ্গেল কেবিনের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১১শ থেকে ১২শ টাকা আর ডাবল ২২শ থেকে ২৩শ টাকা। কিন্তু সে টিকিট কালোবাজারি দালালদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে সিঙ্গেল কেবিন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা ও ডাবল ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়।

শনিবার কেবিনের একটি টিকিট হন্যে হয়ে খুজছিলেন রাজধানীর নতুন বাজার এলাকা থেকে লঞ্চ টার্মিনালে আসা শুভ নামের একজন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে স্বজনরা বরিশালে যাবেন। তাই কেবিনের অগ্রিম টিকিটের জন্য প্রায় ৭ দিন আগে থেকে কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরছি। কিন্তু টিকিট পাচ্ছি না। টিকিট ছাড়ার আগে কাউন্টার থেকে টিকিট পাবেন বলে একটা স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাউন্টারে এ কয়দিন ধরে যোগাযোগ করলেও টিকিট নেই বলে জানাচ্ছেন তারা।’

তিনি আরো বলেন, ‘কালোবাজারী লেদু মিয়ার কাছে ডবল এবং সিঙ্গেল দুই শ্রেণির কেবিনের টিকিটই পেয়েছি। কিন্তু একটি সিঙ্গেল কেবিনের টিকিটের দাম চেয়েছে ৩ হাজার টাকা।

রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের আগের চারদিনের অগ্রিম টিকিট কোনো লঞ্চ থেকেই দেওয়া হচ্ছে না । ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী সুরভী-৯ লঞ্চেসাধারন যাত্রী পরিচয়ে গিয়ে অগ্রিম টিকিট চাইলে লঞ্চের ক্লার্ক শফিক বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে কোনো টিকিট লঞ্চ থেকে দেওয়া হয় না। অগ্রিম টিকিট পেতে হলে যোগাযোগ করতে হবে বরিশালের অফিসে।’

এ সময় বরিশাল অফিসের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। তার কথামত সে নম্বরে ফোন করা হলে টিকিট নেই বলে জানান কাউন্টারের কর্মচারী রাকিব।
এই পরিস্থিতিতে লঞ্চের টিকিট নামক সোনার হরিণের জন্য অনেকেই কালোবাজারিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

কালোবাজারে লঞ্চের টিকিট বিক্রি ঠেকাতে নৌ-মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেটা জানার জন্য নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল জোনের বিআইডব্লিউটিএ-এর উপ-পরিচালক আবুল বাশার বলেন, ‘কালোবাজারি ঠেকাতে আমরা ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছি। বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশ কর্তৃপক্ষ মিলে কিছুদিন আগে আলোচনায় বসেছিলাম। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত বলে যে কয়জনের নাম উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই