মেইন ম্যেনু

প্রাকৃতিক ভূস্বর্গ ভারতের কাশ্মির : পর্ব-৫

কাশ্মির নামের সাথেই জড়িয়ে আছে আপেল, শাল, উইলো গাছের ব্যাট

ভারতের জম্মু ও কাশ্মির (জে.কে) রাজ্য ব্যাপী রয়েছে নানান ঐতিহাসিক ও প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী আর যার কারণেই কাশ্মিরকে প্রাকৃতিক ভূস্বর্গ বলে অনেকে অবহিত করেন। প্রকৃতির অপরূপ লীলাখেলার কোন কমতি নেই কাশ্মিরে।

ক্রিকেট ব্যাট তৈরীর অন্যতম কাঠ এখান থেকেই রপ্তানি হয় কিংবা এখানেই তৈরী হয়। ‘উইলো’ গাছের কাঠ সাধারণত ক্রিকেট ব্যাটের তৈরী জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শ্রীনগর থেকে প্যাহেলগাম যাওয়ার পথে বিজবেহারা নামক এলাকায় ব্যাপক হারে ক্রিকেট ব্যাট তৈরী করা হয়ে থাকে। সেখানে সরাসরি ব্যাট তৈরী করা হয় কিংবা উইলো ট্রি থেকে ব্যাটের আকৃতির সাইজের কাঠ কেটে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

আর সমগ্র কাশ্মির জুড়ে যে প্রাকৃতিক গাছগাছালীর সৌন্দর্য পরিলক্ষিত হয় সেই সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে অনেকাংশে দেখা যায় পাইন গাছ, রেইন পাইন, দেবদারু, লম্বু গাছ ইত্যাদি। পাহাড়ের গায়ে এগুলো দেখলে মনে হবে কেউ যেন নিপুণ হাতে গাছগুলো শুধু রোপণই করেন নি বরং তা সারাক্ষন অতিযত্নে রক্ষাণাবেক্ষণ করছেন। গাছগুলো থেকে প্রাকৃতিক ভাবে বীজ পড়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গাছ জন্মাচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি গাছই কোন না কোন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। লম্বু গাছের কাঠ দিয়ে আপেলের বাক্স তৈরী করা হয়। এরূপ বহু আপেল বাক্স তৈরীর কারখানা চোখে মেলে কাশ্মিরের বিভিন্ন এলাকায়।

আপেল গাছের নিচে

আপেল গাছের নিচে

আপেলের কথা যখন এসেছে তখন আপেল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার কৌতুহল আর জিইয়ে রাখার ধৈর্য্য নিজেই আর সংবরণ করতে পারছি না। কাশ্মির বললে কাশ্মিরের নামের সাথে মূলত দু’টি জিনিষ স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে। আর তা হলো আপেল ও শাল। শুধু ভারত বর্ষে নয় কাশ্মিরি আপেলের বিশেষভাবে সুখ্যাতি রয়েছে নানান দেশে। আমাদের দেশে যেমন বাড়ির আঙ্গিনায় বা ঘরের পাশে কাজি পেয়ারার গাছ, বিভিন্ন ফুলের গাছ কিংবা ছোট খাটো অন্যান্য ফলের গাছ লাগিয়ে থাকি ঠিক তেমনি কাশ্মিরের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায়, ঘরের পাশে কিংবা হাতের কাছে আপেল গাছ ঠিকই থাকবে। আর বানিজ্যিক ভাবে আপেল বাগান তো রয়েছেই। কাশ্মিরের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কমবেশি বিঘা বিঘা আপেল বাগান রয়েছে। তবে সুপিয়ান, সোপর, বারোমোল্যা, কোপরা এলাকাগুলো বিশেষ ভাবে আপেল বাগানের জন্য বিখ্যাত। এখানে হাজার হাজার বিঘা জমিতে আপেল বাগান করে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও দর্শণীয়স্থান গুলোতে যাওয়ার পথে ছোট ছোট সুস্বাদু কাশ্মিরি আপেল বাগান চোখে পড়বে। আবার অনেক এলাকার আপেল বাগান পরিদর্শন করার জন্য রীতিমত টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। আর সবখানেই প্রতি কেজি ১০ থেকে ৫০রূপি বা অত্যন্ত সস্তায় আপেল কেনা যায়। গাছভর্তি থোকা থোকা লাল আপেল দেখতে এক মনোমুগ্ধকর রোমাঞ্চের সৃষ্টি হয়।

কাশ্মিরি আপেলের পাশাপাশি কাশ্মিরি শাল ও সোয়েটারও অন্যতম বিখ্যাত পণ্য। ভেড়া ও ছাগলের লোম দিয়েই মূলত কাশ্মিরি শাল তৈরী হয়। অত্যন্ত আরামদায়ক গরম কাপড় হিসেবে কাশ্মিরি শালের বিভিন্ন ফ্যাক্টরি সারা কাশ্মির জুড়ে রয়েছে। ২/৩’শ থেকে শুরু করে লক্ষাধিক রূপি দামের শালও পাওয়া যায়।

স্তুপাকারে রাখা ক্রিকেট ব্যাটের উইলো কাঠ

স্তুপাকারে রাখা ক্রিকেট ব্যাটের উইলো কাঠ

এখানে একটি বিষয় না বলে রাখলেই নয়- শীতের গরম পোশাক বিক্রয় করাই স্থানীয় কাশ্মিরীদের মূলত অন্যতম ব্যবসা। বছরের ৮মাসই তারা এ ব্যবসা ঢাকঢোল পিটিয়ে করে থাকেন শুধুমাত্র শীতকালীন ৪মাস বাদে। শ্রীনগরের বিভিন্ন হোটেলের সামনে, বিভিন্ন রাস্তায় মোটারসাইকেল, সাইকেল, অটো, কারযোগে ভ্রাম্যমান বিক্রেতারাও সস্তা থেকে দামী শাল, সোয়েটার, জ্যাকেট, টুপিসহ অন্যান্য শীতকালীন গরম পোশাক বিক্রি করে থাকেন। এছাড়াও পুরুষ, মহিলা, শিশুসহ সব বয়সীদের বিভিন্ন পোশাক বড় বড় মার্কেটেও হাতের কাছে পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানালেন, শীতকালীন ৪টি মাসে শ্রীনগর সহ কাশ্মিরে অত্যন্ত বরফ পরায় মূলত ওই ৪মাস কাশ্মির রুদ্ধ হয়ে পড়ে বা বন্ধ থাকে বললেও ভুল হবে ন। আর সেই কারণে অনেকেই ওই ৪মাস অন্যত্র ব্যবসা বা অবস্থান করে থাকেন। বরফের আধিক্যতা এতোটাই বেশে যে শহরের রাস্তা ঘাট ৮/১০ফুট বরফে আচ্ছন্ন থাকে।

চলবে… ৬টি পর্ব…

 

লেখক:
আরিফ মাহমুদ
সম্পাদক
আওয়ার নিউজ বিডি ডটকম

পর্ব-১ : জম্মু থেকে একমাত্র দূর্গম পাহাড়ি পথে রয়েছে আড়াই কি.মি’র জওহার ট্যানেল

পর্ব-২ : শ্রীনগরের ডাল লেক যেমন বিখ্যাত তেমনি ভেড়া-ছাগলের পালও প্রসিদ্ধ

পর্ব-৩ : এশিয়ার বৃহত্তম শ্রীনগর জামে মসজিদ, ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাল দরগাহ শরিফ মসজিদ

পর্ব-৪ : প্রকৃতির হৃদয়স্পর্শী অপরূপতায় সজ্জিত প্যাহেলগাম, গুলমার্গ






মন্তব্য চালু নেই