মেইন ম্যেনু

কিভাবে আপনি একজন অমানব সৃষ্টি করবেন

প্রথমে আপনি একটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে, শিক্ষায় যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট করে একটা মানুষকে ঠিক সেই পরিমাণ এডুকেশন দিবেন, যেই পরিমাণ এডুকেশনে সে কোন সৃষ্টিশীল চিন্তা করতে না পারে, শিখতে না পারে, চাপ নিতে না পারে, ইংরেজি এবং অংকে দুর্বল ভিত্তি গড়ে ওঠে , বেচে থাকার প্রবলেম সল্ভিং এবং বেসিক লাইফস্কিল শিখতে না পারে কিন্তু কায়িক পরিশ্রমকে ঘৃণা করা শুরু করে। এমন পরিমাণ শিক্ষা যার থেকে প্রাপ্ত অহংকার থেকে সে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করাকে চরম রকম অসম্মানজনক কাজ মনে করে।

এরপর তাকে বলিউড সিনেমা দেখাবেন, যার থেকে তার ভ্যালু সিস্টেম বা বিবেকবোধ এবং স্বপ্ন গড়ে ওঠে। যেন সেই বলিউড ড্রিম, সেইরকম স্মার্ট লুক, চলা ফেরা সেই রকম গ্যাজেট গিজমো ব্যবহার করা, গাড়ি চালানো, সেক্সি সুন্দরী গার্ল ফ্রেন্ড বা সুন্দরি বউ, ফ্ল্যাট এবং কর্পোরেট চাকুরিকে তার জীবনের সবচেয়ে আরাধ্য মনে করে। এবং সেই গুলো প্রাপ্তিকে সাফল্য মনে করা শুরু করে।

তাকে আপনি ধর্মের মানবিক দিক গুলো উপেক্ষা করে তাকে এমন ভাবে ধর্ম শিখাবেন যেন সে অন্য ধর্মের লোককে ঘৃণা করতে পারে।তার ধর্মের মানবিক ভ্যালুগুলোকে আড়াল করে শিখাবেন তার বলিউড ড্রিম অর্জনের জন্যে সকল ধরনের মিথ্যা, অপরাধ, চুরি, অন্যায় গ্রহণযোগ্য।

এরপরে তাকে আপনি দিবেন সানি লিয়নঃ তার অবদমনকে নিয়ন্ত্রণের জন্যে। তার হাতে একটা চাইনিজ স্মার্ট ফোন দেবেন যা দিয়ে সে অন্তত ফেসবুক ব্রাউজ করতে পারে, কিন্তু না জানে জ্ঞানের আধার গুগল কিভাবে ব্যবহার করতে হয় ।

তারপর তাকে আপনি দেশপ্রেম শিখাবেন। শেখাবেন, আইন না মেনে,দেশের ক্ষতি করে, অন্যায় করে এসে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে বাসায় এসে হিন্দি গান শুনলে দেশপ্রেমিক হওয়া যায়। তাকে হয় পাকিস্তান নয় ভারতকে ঘৃণা করতে শিখাবেন। বলবেন, এই ঘৃণাই দেশপ্রেম। ক্রিকেট দিয়ে তার সেই দেশপ্রেমকে পুষ্ট করবেন।

তাকে নিজের দেশের মানুষকেও ঘৃণা করতে শিখাবেন। শিখাবেন এই দেশে বাস করে, একদল ভারতপ্রেমি বা পাকিস্তানপ্রমি। সে যে পক্ষের তার বিরোধী পক্ষের লোককে এমন ভাবে ঘৃণা করা শিখাবেন, যেন সে তাদেরকে এই দেশ থেকে মুছে দেয়ার স্বপ্ন দেখে।

তারপর আপনি তার তাকে বাস্তবতায় পিষে মারবেন। ভাঙ্গা রাস্তায়, ডাস্টবিনের গন্ধের পাশে, অনড় জ্যামে , বাসের ঘামে তার জীবনটাকে একটা যন্ত্রণাময় উপহাস করে তুলবেন। এবং তাকে কেন্দ্রে রেখে একটা মিথ্যাচারী বিভ্রমে দেশের উন্নয়নের গল্প ফেঁদে বসবেন । যেই গল্পে পৃথিবীর সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ৬% উন্নতিতে মাসে মাসে তার আয় বাড়ছে। দেশের শেয়ার বাজার ধ্বংস করে, ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস করে, সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকিকরন করে, দেশের উন্নয়নের সকল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ভেঙ্গে তার সকল সম্ভাবনা আপনি বিনষ্ট করবেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বাজার সৃষ্টি করার জন্যে, দেশের উৎপাদনমুখি সেকেন্ডারি ইকনমিকে মজবুত না করে, দেশকে একটা ট্রেডিং দেশে পরিণত করবেন। দেশের কাচামাল দেশের বাহিরে গিয়ে, পন্যে রুপান্তরিত হয়ে, সেই পন্য ইম্পোরট করে একটা ভোক্তামুখি বাজার গড়ে তুলবেন।

এবং সেই রাষ্ট্রে তার জন্যে থাকবে, এমন একটা অর্থনীতি যেখানে গ্রাজুয়েশন শেষে তার সর্বোচ্চ চাকুরীর সম্ভাবনা হবে, ৭০০০ থেকে ১০০০০ টাকার একটা চাকুরী, যেই বেতনে একটা নিজের একটা পরিবার একজন স্ত্রী আর দুইজন সন্তানকে পালন করার কোন সুযোগ নাই। তার চাকুরীর কাজ হবে, চাইনিজ বা ইন্ডিয়ান মাল মার্কেটিং করা। অথবা টুকটাক ফুটফরমাইশ খাটা বা অল্প কিছু টুকটাক টেকনিকাল কাজ করা। যেই চাকুরীতে সে পরিষ্কার বুঝতে পারবে, তার যে যোগ্যতা, তার যে শিক্ষা তাতে তার আগামী ১০ বছরে, কোন দক্ষতা অর্জন এবং বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাই।

তার এই হেলহোল বা নরককুণ্ড থেকে বের হয়ে, বিদেশে গিয়ে কামলা দেয়ার যে সুযোগ সেইটা আপনি নষ্ট করবেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে, নিকট প্রাচ্যের লোক পাঠানোর ব্যবসা সরকারী লোকদের হাতে দিয়ে। এমনকি যারা সাগরে পালাতে গিয়ে গণকবরে মারা পরে, তাদেরকে আপনি জেলে ঢুকানোর হুমকি দিবেন।

কিন্তু, তবুও তার রাষ্ট্রের মিডিয়াতে আপনি একটা অলীক রাষ্ট্র সৃষ্টি করবেন, যেই খানে কুলনেস আসে চুলের জেল দিয়ে, কুলনেস আসে বিশেষ স্টাইলে কথা বললে, কুলনেস আসে বাংলালিংকের সিম ব্যবহার করলে। কুলনেস আসে, গ্যাজেট গিজমোতে।

এরপরে সেই স্বপ্ন-হীন জগতে তাকে আপনি পিষবেন। সে বিয়ে করতে পারবেনা। সে, পিতামাতা অসুস্থ হলে কোন সাহায্য করতে পারবেনা। একটা ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার চাকুরীতে সে তার স্বপ্নহীন, সম্ভাবনাহীন জীবনকে ধারণ করবে, কিন্তু সেই জীবন থেকে মুক্তির কোন উপায় তার চোখের সামনে থাকবেনা। এরপর আপনি তাকে ক্রিকেটে কিছু বিজয় দিবেন। তাকে দেবেন রেডিও মুন্না। তার সকল স্বপ্ন সম্ভাবনা কেড়ে, তাকে দেবেন ফ্রি ফেসবুক ।

এই ভাবে আপনি, একটা স্বপ্ন বিবর্জিত, সম্ভাবনাহীন অমানব সৃষ্টি করবেন। যে কোন অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলে, মেয়েদেরকে নিপীড়ন করবে, বা বাসে গায়ের উপরে পরবে , ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে ভইরা দিসি। যে ফেসবুকে, তার প্রিয় খেলোয়াড়ের বোনের ছবিতে লিখবে, মালটা ভালো। যে, নিয়মিত নিগৃহীত হতে হতে, তার হাতে নিগৃহীত হওয়াতে কোন অপরাধ দেখবেনা।

এই অমানবদের এই রাষ্ট্র সচেতনে সৃষ্টি করেছে। এই প্রক্রিয়া যারা নির্মাণ করেছে তাদের অপরাধের দায়, আগে রাষ্ট্রকে নিতে হবে। তারপর, পরিবেশের শিকার অমানবদের দায়ী করা যাবে।






মন্তব্য চালু নেই