মেইন ম্যেনু

জমে উঠেছে ঈদ বাজার

ভারতীয় সিরিয়ালের দখলে গোটা দেশ

আগের বছরগুলোর মত এ বছরও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের বিপনী বিতানগুলোতে রয়েছে ভারতীয় পোশাকের আধিপত্য। ভারতীয় পণ্যে ছেয়ে গেছে গোটা ঠাকুরগাঁওয়ের ঈদ বাজার। কলকাতার টিভি সিরিয়াল ও ডেইলি সোপের নায়ক-নায়িকাদের নামের পোশাকের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে দেশীয় পোশাক। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও।

ঠকুরগাঁও শহরের প্রায় প্রতিটি দোকানেই দেশি তাঁতের শাড়ি, সুতির থ্রি-পিছ সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি পোশাক থাকলেও তা কম বিক্রি হচ্ছে। অবিক্রিত দেশী পণ্য গোডাউনে রেখে ডলের শরীরে বিদেশি পোশাক পড়িয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করছেন বিক্রেতারা।

ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা, টাউন প্লাজা, মৌচাক মার্কেট, হাওলাদার সুপার মার্কেট, মাসুদ হাইডস, বাসষ্ট্যান্ড, মসজিদ মার্কেট, তাজিম প্লাজা, ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার মার্কেট ও হকার্স মার্কেটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও হাটবাজারের মার্কেটগুলোতে জনসাধারণের উপচে পড়া ভীর লক্ষ্য করা যায়।

এ বছর ঈদের বাজাওে মেয়েদের জন্য থাকা থ্রি-পিছের মধ্যে রয়েছে, কিরণনমালা, ঈষা, ফ্লোর টাচ লং স্টাইল, সিক্সকাট, চোখের তারা তুই, পাখি, কানামাছি, উশষী।

মহিলাদের জন্য রয়েছে ভারতীয় শাড়ির মধ্যে রয়েছে টুসি, থাই পারুল, আভা, ঐশী, প্যাসেলা, লুঙ্গি ড্যান্স, সিল্ক, টাপুর-টুপুর, উত্তরা সিল্ক। সিরাজগঞ্জের তাঁতের শাড়ি, টাঙ্গাইলের জামদানি, রাজশাহীর সিল্কসহ দেশীয় বিখ্যাত কাপড় অনেকটাই যেনো চাপা পড়েছে ভারতীয় পোশাকের চাকচিক্যের আড়ালে।

আর ছেলেদের জন্য এবারের ঈদে মূল আকর্ষণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম করনে তৈরি মোদি সেট। যদিও ছেলেদের শর্ট পাঞ্জাবি, লং পাঞ্জাবি, শার্ট, জুতা, ফতুয়া, জিন্সসহ শিশুদের নানা বৈচিত্রের দেশী পোশাক রয়েছে। কিন্তু দেশী পোশাকের চাইতে বিদেশী পোশাকের দিকে বেশি ঝুঁকছে ক্রেতারা।

হাওলাদার সুপার মার্কেটের এক পোশাক ব্যবসায়ী জানান, এসব পোশাকের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে। মেয়েদের কিরণমালা, ঈষা, ফ্লোর টাচ লং স্টাইল, সিক্সকাট, চোখের তারা তুই, পাখি, কানামাছি, উশষী প্রকার ভেদে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ছেলেদের ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবি ও মোদি সেট পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে তিন হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায়। ছেলে শিশুদের মোদি সেট পাওয়া যাচ্ছে চার হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। মেয়ে শিশুদের ভারতীয় পোশাকের দাম সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঠাকুরগাঁও শহরের জগন্নাথপুর থেকে মার্কেট করতে আসা ফারহানা শারমিন জানালেন, এবার ঈদে শাড়ি কাপড় থেকে শুরু করে সব জিনিসের দাম একটু বেশি। তবে কিছুই করার নেই, ঈদ বলে কথা। আমার জন্য এবং মা, শাশুড়ি, স্বামী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছি।

সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাকিয়া তাবাসসুম জানালেন, সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিয়ে একটা কিরণমালা ড্রেস কিনেছি। ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচিং করে কসমেটিকস ও জুতা কেনা হয়েছে। তবে অন্যান্য বারের চাইতে দাম একটু বেশি।

এদিকে ছেলের জন্য ঈদ মার্কেট করতে আসা আশ্রমপাড়ার আনিসুর রহমান জানান, ছেলের জন্য কাপড় কিনতে আসছি। ঘুরে যা দেখলাম তাতে মনে হয়েছে দাম একটু বেশি। কিন্তু সব দোকানেই দেখছি ইন্ডিয়ান পোশক। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৬ বছরের ছেলের জন্য সাড়ে চার হাজার টাকায় মোদি সেট কিনেছি।
ব্যবসায়ীরা ক্রেতা আকর্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম রাখছেন ইংরেজিতে। বড় বড় মার্কেটের পাশাপাশি রাস্তার পাশের গড়ে উঠা ছোট ছোট দোকান গুলোতেও ভারতীয় পণ্যের বিপুল সমারোহ।

এ ব্যাপারে শাহজালাল শপিং মলের পোশাক ব্যবসায়ী ক্লাসিক হাউজের মালিক আব্দুল লতিফ বলেন, বিদেশি পণ্য হলেও আমরা তো এসব পোশাকগুলো ঢাকা থেকে ক্রয় করি। বাজারে ইন্ডিয়ান পোশাকের চাহিদা বেশি তাই আমরা শুধু ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছি। এসব পোশাকের নাম আমরা দেই না। পাইকার ও ঢাকার ব্যবসায়ীরাই নাম নির্ধারণ করে দেয়, সেই নামেই আমরা বিক্রি করি।

এদিকে ঠাকুরগাঁও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজন ভারতীয় চ্যানেল ও পোশাক পরিহার এবং বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, বাজার মনিটরিং করার জরুরি। দেশি পণ্য বিক্রি বাধ্যতামূলক করা দরকার। বিদেশি পোশাকের গুণগত মান ভালো নয়, এক্ষেত্রে ক্রেতাদেরকে ঠকানো হচ্ছে।

জানা গেছে, শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, গোটা উত্তরাঞ্চলের জেলা উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর ঈদ বাজার ছেয়ে গেছে ভারতীয় পোশাকে। এভাবে আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন ও দেশাত্ববোধহীন মানসিকতায় পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে উঠলে একসময় নিজেদের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না। এমনটাই অভিমত দেশের সচেতন নাগরিকদের।






মন্তব্য চালু নেই