মেইন ম্যেনু

কিশোরগঞ্জ উপজেলা ২য় স্থান পাওয়া স্কুলটির কক্ষ সংকট ॥ ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি॥ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জেএসসিতে ২য় স্থান পাওয়া স্কুলটির কক্ষ সংকট থাকার পরেও শিক্ষা যুদ্ধে এগিয়ে চলেছে। কক্ষ সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত।

উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী হাজীর হাট জহুরিয়া শরীফ উচ্চ বিদ্যালয়টি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০কিলোমিটার দূরে হলেও শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর এই স্কুলে নিয়ম অনুযায়ী ১১টি কক্ষের প্রয়োজন হলেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৭টি কক্ষ। নেই ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোন কমন রুম। ফলে নিয়মতি টিফিনের সময়ে ছেলে মেয়ে মিলে দুপুরে একসাথে বসে টিফিন খেতে হয়। আবার টিফিনে মেয়ে আলাদা কক্ষ না থাকায় নিরিবিলিতে অবসর কাটাতে পারছেনা মেয়ে শিক্ষার্থীরা। ফলে মানসিক চাপের শিকার হতে হয় ছাত্রীদের। প্রয়োজনের তুলনায় কক্ষ সংকট থাকায় বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাশের সময় শিক্ষার্থীদেরকে আলাদা ভাবে পাঠদানের সুবিধার্থে শ্রেণী কক্ষের বাহিরে খোলা জায়গায়ও ক্লাশ করতে হয়। স্কুলটি কিশোরগঞ্জ রংপুর ভিন্ন জগত সড়কের সন্নিকটে হওয়ার ফলে এবং স্কুলের বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় সড়ক দিয়ে চলাচল করা পরিবহণের শব্দ দূষনের কবলে পড়ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৯৬জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মোট ২১জন জিপিএ ৫ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সূ-নাম অক্ষুন্ন রেখেছে। ভাল ফলাফল করে উপজেলা পর্যায়ে জেএসসিতে ২য় স্থানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শ্রেণীকক্ষ সংকট ও বাউন্ডারী ওয়াল না থাকার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা অচলের পথে। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করে বিশ্বের কাছে মাথা উচু করে দেশকে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু সরকারের এ চ্যালেঞ্জকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সহযোগীতা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা একেবারে নাজেহাল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জেলার মধ্যে স্থান দখল করতে পারবে। সিঙ্গেরগাড়ী জহুরিয়া শরীফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ গোলাম মোস্তফা রুনু বলেন,২০১১ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একতলা ভবন (তিন কক্ষ বিশিষ্ট) পেয়েছি। কিন্তু ২০১৪ সালে বালিকা বিদ্যালয় থেকে জেন্ডার নীতি পরিবর্তন করে (বালক বালিকা একসাথে) স্কুলকে উন্নতী করণের পর কক্ষ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর স্কুলের বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় টিন দিয়ে ঘিরে স্কুলের পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারী ভাবে সহায়তা পেলে স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাওয়া যাবে। তারপরেও জেএসসিতে উপজেলা পর্যায়ে ২য় স্থান হয়েছে স্কুলটি। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ নির্বাহী অসিফার এস এম মেহেদী হাসানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্কুলের উন্নয়নের জন্য আমি সুপারিশ করবো। স্কুলের শিক্ষা উপকরণ সংকটের বিষয়ে মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হোসেন শিহাবের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আগামী এলজিএসপির বরাদ্দে স্কুলের উন্নয়ন অবকাঠামোর জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান,২০১১ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ভবন দেয়া হয়েছে আরও কক্ষ প্রয়োজন হলে শিক্ষা দপ্তর বরাবর আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা আছে এবং মন্ত্রনালয়ে তালিকা দেয়া হয়েছে। স্কুলের বাউন্ডারী ওয়াল ও বিল্ডিং করে দেয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই