মেইন ম্যেনু

কিশোরীকে লাঞ্ছনা, বৃদ্ধকে উলঙ্গ করায় পুলিশকে গণধোলাই

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : কিশোরীকে লাঞ্ছিত করার জের ধরে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন উলিপুরের সাহেবের আলগা (নামাজেরচর) তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ অব ক্যাম্প (আইসি) হারুন অর রশিদ। দালালীর টাকা তুলতে গিয়ে গত রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে গোটা গ্রাম প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

সোমবার প্রত্যন্ত ওই এলাকায় গেলে গ্রামবাসী জানায়, কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার এলাকা উত্তর কাজকাটায় সাহেবের আলগা (নামাজের চর) তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ অব ক্যাম্প হারুন অর রশিদ এক গরু দালালীর টাকা তুলে দিতে ওই এলাকায় যান। এ সময় গরু ব্যবাসায়ী রফিকুলের দেখা না পেয়ে তার বাবা ষাটোর্ধ্ব আব্দুল বারেককে আটক করেন।

এর আগে আব্দুল বারেককে চিনতে না পেরে তার কিশোরী ভাগ্নি রাজিয়া খাতুনকে টেনেহিঁচড়ে বারেককে চিনিয়ে দিতে বলেন। মেয়েটি ভয়ে কাঁদতে থাকলে তার পিঠে কয়েক ঘা বেত্রাঘাতও করেন ওই ইনচার্জ। এরপর বারেককে দেখিয়ে দিলে তাকে ধরে পরনের লুঙ্গি খুলে উলঙ্গ করে ফেলেন। শতশত নারী-পুরুষের সামনে পুলিশের এহেন তাণ্ডবে হতবম্ব হয়ে যান এলাকার মানুষ।

উপস্থিত গ্রামবাসী একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে এবং বারেকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না জানতে চায়। এটা দেখাতে না পারলে জনতা তাদের উপর চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান ফজলুল হককে ফোন দেন ওই ইনচার্জ। পরে চেয়ারম্যান এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে আটক বারেকের বিরুদ্ধে তদন্তকেন্দ্রে কোনো অভিযোগ করেননি তথাকথিক গরু ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। এলাকাবাসী জানায়, কামাল আসলে একজন দালাল ও মাদকব্যবসায়ী। পুলিশের সহযোগিতায় সে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনার পর নিজে বাঁচতে রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ করেছে কামাল।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি (হারুন) রৌমারী এলাকায় ঢোকার আগে আমার কাছে কোনো অনুমতি নেননি। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সবখানে যেতে পারেন।’

বিষয়টি নিয়ে আইসি হারুন অর রশিদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে চরকাজকাটা এলাকায় গেলে তারা আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচণ করে। তবে বারেকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি।’






মন্তব্য চালু নেই