মেইন ম্যেনু

কিশোরীর কানে পিঁপড়ার বাসা!

এক কিশোরীর কানে বাসা বেঁধেছে পিঁপড়া। বড় বড় পিঁপড়া। কখন, কীভাবে কানের ভেতরে ঢুকে বাসা বেঁধেছে পিঁপড়াগুলো, তা মেয়েটি বলতে পারে না। তবে কান থেকে সেগুলো বের হওয়ার সময় টের পায় সে। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা কখনো এমন ঘটনা দেখেননি।

ভারতের গুজরাটের দেসা শহরে ১২ বছর বয়সি এক কিশোরীর কান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি বড় পিঁপড়া বেরিয়ে আসে। মেয়েটির বাবা-মা জানার পর তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

চিকিৎসকরা হতবাক! বেশ কয়েকজন ইএনটি (নাক, কান, গলা) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেয়েটির কান পরীক্ষা করে দেখেছেন। কিন্তু এত পিঁপড়া কীভাবে তার কানে থাকে, সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা নেই। তাদের ভাষ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন ঘটনা নেই।

শ্রেয়া দর্জি নামে ১২ বছর বয়সি এই কিশোরী গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কানে জীবিত পিঁপড়ার দল নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। শ্রেয়ার বাবা সঞ্জয় দর্জি মেয়ের কানে ১০ থেকে ১২টি পিঁপড়া দেখতে পান। তিনি মেয়েকে নিয়ে ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে যান। চিকিৎসক তার কান থেকে পিঁপড়াগুলো বের করে দেন।

প্রায় দুই সপ্তাহ পরে শ্রেয়া তার বাবাকে জানায়, তার কানে আবার পিঁপড়া ঢুকেছে। মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান সঞ্জয় দর্জি। কান থেকে আবার পিঁপড়াগুলো বের করে দেন চিকিৎসক। কোনো কাজ হয়নি। কয়েক দিন পর আবার কানে পিঁপড়ার দল খোঁচাখুঁচি শুরু করে। মেয়েকে নিয়ে দেসা, পাটনা, আহমেদাবাদের ইএনটি বিশেষজ্ঞদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন সঞ্জয় দর্জি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।

দেসা শহরের ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. জওহর তালসানিয়া শ্রেয়ার কানে পিঁপড়ার বাসা বাঁধা দেখে বিস্মিত। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসক হিসেবে তিনি ৩৫ বছর কাজ করছেন। কিন্তু এমন ঘটনা দেখেননি এবং শোনেননি কখনো।

দুর্ঘটনাক্রমে কানে পিঁপড়া ঢুকে গেলে অস্বস্তি ও যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ওঠে মানুষ। কিন্তু শ্রেয়ার কানে ১০ থেকে ১২টি পিঁপড়া একসঙ্গে বাস করে। বের করে দিলে আবার কানে পিঁপড়া পাওয়া যায়। কীভাবে এমনটি হচ্ছে, তার কারণ এখনো উদঘাটন করা যায়নি। চিকিৎসকরা খতিয়ে দেখেছেন, কানে কোনো রানি পিঁপড়া আছে কি না, যেটি ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করছে। তাও নেই। তবে কেন এমন হচ্ছে- তা-ই জানার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই