মেইন ম্যেনু

কি হয়েছিলো রাধা – কৃষ্ণের প্রেমের পরিণতি

তাঁকে চলে যেতেই হত! তাঁর জন্য তখন অপেক্ষা করছে সন্ত্রস্ত ধরা। সেই আকুতি কাটিয়ে ঈশ্বরের কি নারীর বাহুবন্ধনে ধরা দেওয়া মানায়? তাই রাধার প্রেমে বিচ্ছেদ নেমে এল! রাধার প্রেম, কেন না কৃষ্ণের জীবনে নারীর অভাব হয়নি। তিনি তাঁর সময়ের একমাত্র পুরুষ, সারা ভারত যাকে পাশে চায়। অর্জুন চান, দুর্যোধন চান- নারীদের কথা আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না! কিন্তু, মথুরা নগরপতির কি কোনও দিনই প্রথম প্রেমের কথা মনে পড়েনি?

ঋতুপর্ণ ঘোষ বড় সুন্দর করে লিখেছিলেন গানের কথাগুলো। তাই সেটা ব্যবহারের লোভ সামলানো গেল না। যদিও মথুরার নগরপতি কৃষ্ণ ছিলেন না, ছিলেন তাঁর দাদামশায় উগ্রসেন। তাহলেও রাজকাজে কৃষ্ণের একটা ভূমিকা ছিলই! সেই কাজের মাঝে মাঝে বৃন্দাবনের কান্না-হাসির দোলা কি ভারত-পুরুষটিকে উচাটন করে যেত না? প্রথম প্রেম তো ভুলে যাওয়া সহজ নয়! বিশেষ করে, যে তুমুল সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণ আদায় করেছিলেন রাধার প্রেম, তা বড় সহজ নয়। রাধা তো তাঁকে প্রথমে কাছে ঘেঁষতেই দেননি! ছলে, বলে, কৌশলে কৃষ্ণ ঠিক ভেঙে ফেলেন তাঁর মনের আগল। সেটা যেমন মুখের কথা নয়, তেমনই সহজ নয়, সব বাধা উপেক্ষা করে বয়সে অনেকটা বড় নারীর প্রিয় পুরুষ হয়ে ওঠাটাও! আরও সহজ নয়, সেই প্রেমকে এক কথায় ফেলে বেরিয়ে যাওয়া! কিন্তু, সব কটাই হল! আর, রাধা? তাঁর কি হল? তার পরে? বৈষ্ণব কবিরা তাঁদের পদাবলীতে বলেছেন ভাবসম্মিলন নামে এক প্রেমপর্যায়ের কথা। এ সেই পর্যায়, যখন প্রিয় পুরুষটির বিরহে সারা বৃন্দাবন আঁধার দেখছেন রাধারানি। সারাদিন তাঁর একলা কাটে। কৃষ্ণের কথা ভেবে। আর, রাতে? তখনই কৃষ্ণ আসেন তাঁর কাছে। স্বপ্নে।

সেই মিলন অনন্ত হয়ে ধরা দেয় রাধার জগতে। ভাবজগতে এই মিলনকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বর্ণনা করেছেন বৈষ্ণব কবিরা। কিন্তু, এর বাইরেও রয়েছে নানা গাথা। তার একটা বলে, প্রতি রাতে যমুনার তীরে, কদম গাছের তলায়, প্রদীপ নিয়ে কৃষ্ণের জন্য অপেক্ষা করেন রাধা। রাত যায়, কিন্তু তাঁর আশা যায় না! ভক্তের দাবি, এখনও বৃন্দাবনে অনুভব করা যায় রাধার সেই অনন্ত অপেক্ষা। সেই জন্য রাতে যমুনা তীরে এখনও যান না ভক্তরা। পাছে, রাধার প্রেমে ব্যাঘাত ঘটে! এভাবে দিনের পর দিন কারও জন্য অপেক্ষা করা কতটা সম্ভব? অপেক্ষা যেমন ভালবাসা বাড়িয়ে তোলে, তেমনই দীর্ঘ হলে অসহনীয়ও তো হয়ে ওঠে! রাধার সঙ্গেও সেটাই হল। থাকতে না পেরে তিনি চললেন কৃষ্ণের প্রাসাদে। জরাসন্ধের অত্যাচারে কৃষ্ণ তখন রাজধানী পেতেছেন দ্বারকায়। রাধা গেলেন সেখানে। এবং, দুজনে দেখা হল! যদিও মধুযামিনীতে নয়।

এক সময়ে বিবাহিতা রাধা যে কারণে লুকিয়ে আসতেন কৃষ্ণের কাছে, এবার বিবাহিত কৃষ্ণকেও যেতে হল সেই পথে। রাধাকে তিনি লুকিয়ে রাখলেন প্রসাদে। রাধাও থেকে গেলেন সামান্য দাসীর ছদ্মবেশে! প্রেম মানে বোধহয় দাসত্বই! যে টানে প্রতি দিন উতলা হচ্ছেন রাধা, সেটাই বা দাসত্ব ছাড়া কী! তাঁর মন তো আর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। অতএব, শুধু মাত্র রোজ চোখের দেখার আশাতেই দাসী হিসেবে থেকে গেলেন রাধা দ্বারকাপুরীতে। আপনার সঙ্গে কোনও দিন এরকম হয়েছে- দেখা করতে গিয়েছেন কারও সঙ্গে, কিন্তু সে আপনাকে সময়ই দিতে পারছে না? হলে, স্পষ্ট বুঝতে পারবেন রাধার এই সময়ের মনখারাপের কথা। কৃষ্ণ তাঁর সামনেই আছেন, অথচ তাঁর জন্য কৃষ্ণের কাছে সময় নেই। এমনকী, গোপন আলিঙ্গনেও জড়িয়ে থাকে কুণ্ঠা। যদি কেউ দেখে ফেলে? তাই, এক সময় প্রাসাদ ছাড়লেন রাধা। ফিরে গেলেন বৃন্দাবনেই। সেখানে যে নেই, তার জন্য অপেক্ষা করা অনেক সহজ।

কিন্তু, যে চোখের সামনে থাকলেও অপেক্ষা ফুরায় না, সেই ব্যথা সহ্য হয় কী করে? বৈষ্ণব পদাবলী বলে, কৃষ্ণ প্রেম না কি জ্বলন্ত ইক্ষু চর্বণের সামিল! মুখ থেকে ফেলাও যায় না, মুখে রাখাও যায় না। সে কথা রাধার থেকে ভাল আর কে জানে? তাই আবার রাধা বেরোলেন পথে। এবার কুরুক্ষেত্রের দিকে। লোকমুখে তিনি খবর পেয়েছেন যুদ্ধের। এও শুনেছেন, কৃষ্ণ যুদ্ধ করেননি, কিন্তু আগাগোড়াই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। ফলে, যুদ্ধে প্রিয় পুরুষটির কোনও ক্ষতি হল কি না, সেই ভাবনা থেকেই সম্ভবত কৃষ্ণদর্শনের আকাঙ্ক্ষা দমন করতে পারেননি তিনি! যখন দেখা হল, তার মাঝে কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। রাধা এখন বৃদ্ধা! কৃষ্ণেরও বয়স কিছু কম নয়। তাঁরও নাতিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে দ্বারকাপুরে। অথচ, প্রেম এখনও ফুরায়নি। দিনে দিনে কেবল তা বেড়েছে। লোকগাথা জানায়, এই শেষ দর্শনে কোনও কথা হয়নি রাধার সঙ্গে কৃষ্ণর। কৃষ্ণকে দেখার পরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাধা। মতান্তরে, তিনি জ্যোতিরূপে বিলীন হয়ে যান কৃষ্ণের শরীরে। রাধার প্রেম মর্মন্তুদ, সন্দেহ নেই! কিন্তু, রাধার মৃত্যুর পরে কৃষ্ণ দিন সাতেকও বেঁচে ছিলেন না।

একটি গাছের তলায় তিনি যখন বসে ছিলেন পা ছড়িয়ে, তখন হরিণের কান ভেবে ভুল করে এক ব্যাধ তীর মারে তাঁর পায়ে। সেই তীরের আঘাতে কৃষ্ণ প্রাণ ত্যাগ করেন। অন্য মনস্কভাবে, সেই মৃত্যুমুহূর্তে কৃষ্ণ তখন কী ভাবছিলেন? রাধার কথা? না যুদ্ধ পরবর্তী ভারত কথা? সেই উত্তর কেউ দিতে পারেন না! দেওয়ার দরকারটাই বা কী! সারা জীবন যতই দূরে থাকুন না কেন, রাধা এবং কৃষ্ণকে তো কেউ আলাদা করে কখনই দেখেননি! রাধাকৃষ্ণ বললেই তো তার প্রমাণ মেলে! তাঁকে চলে যেতেই হত! তাঁর জন্য তখন অপেক্ষা করছে সন্ত্রস্ত ধরা। সেই আকুতি কাটিয়ে ঈশ্বরের কি নারীর বাহুবন্ধনে ধরা দেওয়া মানায়? তাই রাধার প্রেমে বিচ্ছেদ নেমে এল! রাধার প্রেম, কেন না কৃষ্ণের জীবনে নারীর অভাব হয়নি। তিনি তাঁর সময়ের একমাত্র পুরুষ, সারা ভারত যাকে পাশে চায়। অর্জুন চান, দুর্যোধন চান- নারীদের কথা আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না! কিন্তু, মথুরা নগরপতির কি কোনও দিনই প্রথম প্রেমের কথা মনে পড়েনি? ঋতুপর্ণ ঘোষ বড় সুন্দর করে লিখেছিলেন গানের কথাগুলো। তাই সেটা ব্যবহারের লোভ সামলানো গেল না। যদিও মথুরার নগরপতি কৃষ্ণ ছিলেন না, ছিলেন তাঁর দাদামশায় উগ্রসেন। তাহলেও রাজকাজে কৃষ্ণের একটা ভূমিকা ছিলই! সেই কাজের মাঝে মাঝে বৃন্দাবনের কান্না-হাসির দোলা কি ভারত-পুরুষটিকে উচাটন করে যেত না?

প্রথম প্রেম তো ভুলে যাওয়া সহজ নয়! বিশেষ করে, যে তুমুল সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণ আদায় করেছিলেন রাধার প্রেম, তা বড় সহজ নয়। রাধা তো তাঁকে প্রথমে কাছে ঘেঁষতেই দেননি! ছলে, বলে, কৌশলে কৃষ্ণ ঠিক ভেঙে ফেলেন তাঁর মনের আগল। সেটা যেমন মুখের কথা নয়, তেমনই সহজ নয়, সব বাধা উপেক্ষা করে বয়সে অনেকটা বড় নারীর প্রিয় পুরুষ হয়ে ওঠাটাও! আরও সহজ নয়, সেই প্রেমকে এক কথায় ফেলে বেরিয়ে যাওয়া! কিন্তু, সব কটাই হল! আর, রাধা? তাঁর কি হল? তার পরে? বৈষ্ণব কবিরা তাঁদের পদাবলীতে বলেছেন ভাবসম্মিলন নামে এক প্রেমপর্যায়ের কথা। এ সেই পর্যায়, যখন প্রিয় পুরুষটির বিরহে সারা বৃন্দাবন আঁধার দেখছেন রাধারানি। সারাদিন তাঁর একলা কাটে। কৃষ্ণের কথা ভেবে। আর, রাতে? তখনই কৃষ্ণ আসেন তাঁর কাছে। স্বপ্নে। সেই মিলন অনন্ত হয়ে ধরা দেয় রাধার জগতে।

ভাবজগতে এই মিলনকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বর্ণনা করেছেন বৈষ্ণব কবিরা। কিন্তু, এর বাইরেও রয়েছে নানা গাথা। তার একটা বলে, প্রতি রাতে যমুনার তীরে, কদম গাছের তলায়, প্রদীপ নিয়ে কৃষ্ণের জন্য অপেক্ষা করেন রাধা। রাত যায়, কিন্তু তাঁর আশা যায় না! ভক্তের দাবি, এখনও বৃন্দাবনে অনুভব করা যায় রাধার সেই অনন্ত অপেক্ষা। সেই জন্য রাতে যমুনা তীরে এখনও যান না ভক্তরা। পাছে, রাধার প্রেমে ব্যাঘাত ঘটে! এভাবে দিনের পর দিন কারও জন্য অপেক্ষা করা কতটা সম্ভব? অপেক্ষা যেমন ভালবাসা বাড়িয়ে তোলে, তেমনই দীর্ঘ হলে অসহনীয়ও তো হয়ে ওঠে! রাধার সঙ্গেও সেটাই হল। থাকতে না পেরে তিনি চললেন কৃষ্ণের প্রাসাদে। জরাসন্ধের অত্যাচারে কৃষ্ণ তখন রাজধানী পেতেছেন দ্বারকায়। রাধা গেলেন সেখানে। এবং, দুজনে দেখা হল! যদিও মধুযামিনীতে নয়।

এক সময়ে বিবাহিতা রাধা যে কারণে লুকিয়ে আসতেন কৃষ্ণের কাছে, এবার বিবাহিত কৃষ্ণকেও যেতে হল সেই পথে। রাধাকে তিনি লুকিয়ে রাখলেন প্রসাদে। রাধাও থেকে গেলেন সামান্য দাসীর ছদ্মবেশে! প্রেম মানে বোধহয় দাসত্বই! যে টানে প্রতি দিন উতলা হচ্ছেন রাধা, সেটাই বা দাসত্ব ছাড়া কী! তাঁর মন তো আর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। অতএব, শুধু মাত্র রোজ চোখের দেখার আশাতেই দাসী হিসেবে থেকে গেলেন রাধা দ্বারকাপুরীতে। আপনার সঙ্গে কোনও দিন এরকম হয়েছে- দেখা করতে গিয়েছেন কারও সঙ্গে, কিন্তু সে আপনাকে সময়ই দিতে পারছে না? হলে, স্পষ্ট বুঝতে পারবেন রাধার এই সময়ের মনখারাপের কথা। কৃষ্ণ তাঁর সামনেই আছেন, অথচ তাঁর জন্য কৃষ্ণের কাছে সময় নেই। এমনকী, গোপন আলিঙ্গনেও জড়িয়ে থাকে কুণ্ঠা। যদি কেউ দেখে ফেলে?

তাই, এক সময় প্রাসাদ ছাড়লেন রাধা। ফিরে গেলেন বৃন্দাবনেই। সেখানে যে নেই, তার জন্য অপেক্ষা করা অনেক সহজ। কিন্তু, যে চোখের সামনে থাকলেও অপেক্ষা ফুরায় না, সেই ব্যথা সহ্য হয় কী করে? বৈষ্ণব পদাবলী বলে, কৃষ্ণ প্রেম না কি জ্বলন্ত ইক্ষু চর্বণের সামিল! মুখ থেকে ফেলাও যায় না, মুখে রাখাও যায় না। সে কথা রাধার থেকে ভাল আর কে জানে? তাই আবার রাধা বেরোলেন পথে। এবার কুরুক্ষেত্রের দিকে। লোকমুখে তিনি খবর পেয়েছেন যুদ্ধের। এও শুনেছেন, কৃষ্ণ যুদ্ধ করেননি, কিন্তু আগাগোড়াই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। ফলে, যুদ্ধে প্রিয় পুরুষটির কোনও ক্ষতি হল কি না, সেই ভাবনা থেকেই সম্ভবত কৃষ্ণদর্শনের আকাঙ্ক্ষা দমন করতে পারেননি তিনি! যখন দেখা হল, তার মাঝে কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। রাধা এখন বৃদ্ধা! কৃষ্ণেরও বয়স কিছু কম নয়। তাঁরও নাতিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে দ্বারকাপুরে।

অথচ, প্রেম এখনও ফুরায়নি। দিনে দিনে কেবল তা বেড়েছে। লোকগাথা জানায়, এই শেষ দর্শনে কোনও কথা হয়নি রাধার সঙ্গে কৃষ্ণর। কৃষ্ণকে দেখার পরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাধা। মতান্তরে, তিনি জ্যোতিরূপে বিলীন হয়ে যান কৃষ্ণের শরীরে। রাধার প্রেম মর্মন্তুদ, সন্দেহ নেই! কিন্তু, রাধার মৃত্যুর পরে কৃষ্ণ দিন সাতেকও বেঁচে ছিলেন না।

একটি গাছের তলায় তিনি যখন বসে ছিলেন পা ছড়িয়ে, তখন হরিণের কান ভেবে ভুল করে এক ব্যাধ তীর মারে তাঁর পায়ে। সেই তীরের আঘাতে কৃষ্ণ প্রাণ ত্যাগ করেন। অন্য মনস্কভাবে, সেই মৃত্যুমুহূর্তে কৃষ্ণ তখন কী ভাবছিলেন? রাধার কথা? না যুদ্ধ পরবর্তী ভারত কথা? সেই উত্তর কেউ দিতে পারেন না! দেওয়ার দরকারটাই বা কী! সারা জীবন যতই দূরে থাকুন না কেন, রাধা এবং কৃষ্ণকে তো কেউ আলাদা করে কখনই দেখেননি! রাধাকৃষ্ণ বললেই তো তার প্রমাণ মেলে!






মন্তব্য চালু নেই