মেইন ম্যেনু

কীভাবে বুঝবেন অফিসের কেউ আর বিশ্বাস করছে না আপনাকে?

প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু সাহায্য চেয়ে থাকে আপনার কাছ থেকে আপনার সহকর্মীরা। নিজের কাজের পাশাপাশি সেসব ছোটখাটো আবদার আর নির্ভরশীলতাকে পূরণ করতে গিয়ে অনেকটাই মেজাজ গরম হয়ে ওঠে আপনার। কিন্তু হঠাৎ একদিন অফিসে গিয়ে দেখলেন পরিস্থিতি পুরো পাল্টে গিয়েছে। এখন আর নিজেদের কাজ নিয়ে আপনার কাছে আসে না কেউ, লাঞ্চ আওয়ারে জুড়ে দেয়না অহেতুক কান ঝালাপালা করে দেওয়া গল্প। ভাবছেন এমনটা হলে তো ভালোই হয়। কিন্তু আসলে কি তাই? একদমই না। মানুষ তাকেই নিজের কাজটুকুর দায়িত্ব দেয়, নিজের সব কথা বলে যাকে কিনা সে বিশ্বাস করে। আর যদি সে নিজের এই আচরণ বন্ধ করে দেয় তবে? এইবার কি চিন্তার একটা বলিরেখা কপালে ফুটলো আপনার? সত্যিই তো! আপনার সহকর্মীরা কি আপনাকে আর বিশ্বাস করছে না আগের মতন? জেনে নিন সত্যটা এই কয়েকটা চিহ্ন মিলিয়ে।

১. নির্ভরশীলতার ব্যাপারটা আর নেই আপনাদের ভেতরে

সেই উপরের কথা অনুসারেই বলতে হয় যে নির্ভর মানুষ নিজের দরকারী কাজগুলোতে তার ওপরেই করে যাকে সে বিশ্বাস করে। “টেম ইউর টেরিবল অফিস টিরান্ট: হাউ টু ম্যানেজ চাইল্ডিশ বস বিহ্যাভিয়র এন্ড থ্রাইভ ইন ইউর জব “ বইটির লেখক লিন টেইলের মতে- “ নির্ভরশীলতা আপনার ভালো কাজ আর সুদৃঢ় ফলাফল তৈরি করতে পারার সামর্থ্যের মূল। যদি আপনাকে নির্ভরশীল হিসেবে ভাবা হয় এর মানে আপনি সহযোগিতা রক্ষা করতে, অন্যদেরকে সাহায্য, সামলে নেওয়া আর পরিচালিত করতে, প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধায়মান নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সবচাইতে সেরা।”

একই কথা প্রযোজ্য অফিসের বসের ক্ষেত্রেও। আর এসব ব্যাপারে যদি বারবার কোন ধরনের সমস্যা দেখা যায়, সহকর্মী বা বস যদি আপনাকে দেওয়া জায়গাটিকে আপনি অপব্যবহার করছেন বলে মন করে থাকেন তাহলে বলতেই হবে যে আপনার কপালে শনি নাচছে। “এটি আপনার প্রকল্প, চাকরি, পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীলতা, এমনকি পেশাগত জীবনকেও হঠাৎ থামিয়ে দিতে পারে।” জানান টেইলর। এ সমস্যা দূর করতে গেলে প্রথমেই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে সমস্যার মূল কারণটিকে খুঁজে বের করা। সাধারণত এই ব্যাপারগুলো ঘটে থাকে দুর্বল যোগাযোগ আর ভুল বোঝাবুঝির কারণে ( বিজনেস ইনসাইডার )। বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার কারণটিকে খুঁজে বের করে দ্রুত তাই এই ভুলকে ভাঙিয়ে দিন আর হয়ে যান অফিসে আবার সবার বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। বসের কথায় নেতিবাচক উত্তর দেওয়া যাবেনা তা ঠিক। তবে বিশ্বাস ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ার পর এমন কোন কাজ হাতে নেবেন না যেটা আপনার সামর্থ্যের বাইরে ( লাইফহ্যাকার )। কারণ এতে আবার এত কষ্টের গড়ে তোলা বিশ্বাস হারিয়ে যেতে পারে।

২. সবকিছুর সর্বশেষ শ্রোতা হন আপনি

অফিসে অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে গত কয়েকদিনে। অথচ আপনি কিছু জানেনই না। অফিসের সবাই কিছু গোপন ব্যাপার জানলেও জানেননা কেবল আপনি। জানলেও সবার পরে। অনেকটাই অসতর্কতায়। তাহলে বুঝে নিন নীচের কথাটি আপনার জন্যেই। দ্যা হিউমার অ্যাডভান্টেজের লেখক মাইকেল কের এমনই অবস্থায় পড়া মানুষদেরকে বলেন- “ যদি কোনকিছু জানার ক্ষেত্রে আপনিই শেষ ব্যাক্তিটি হন, তাহলে বুঝে নিন যে মানুষ আপনাকে তথ্যের ব্যাপারে ঠিক বিশ্বাস করতে পারেনা। “ ( বিজনেস ইনসাইডার )

৩. ব্যক্তিগত আর বুদ্ধিগত নিষেধাজ্ঞা

অফিসের কারো বাসায় সবার দাওয়াত। কেবল আপনার নামটিই নেই সেই তালিকায়। অফিসের যেকোন বড় রকমের কাজে আপনাকেই প্রথমে রেখে দেওয়া হয় তালিকার বাইরে। এমনকি কোন ছোটখাটো কাজে যদি আপনাকে ডাকাও হয় সেখানেও একা আপনি নন, সাথে দিয়ে দেওয়া হয় আরো কয়েকজনকে। পাছে ভুল করে বসেন আপনি! আর কালেভাদ্রে যদিও একলা কাজের দায়িত্ব আপনার ওপরে দেওয়া হয় সেটাও পুনরায় ঠিকঠাক করে আরেকজন। কোন গোপন কথা জেনে ফেললে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয় এটা যেন কাউকে না বলে ফেলেন আপনি। ( বিজনেস ইনসাইডার )। এ ব্যাপারগুলো কি অফিসে কেবল আপনার সাথেই হচ্ছে? তাহলে বুঝে নিন যে কোন কারণেই হোক আপনার সাথে বিশ্বাসের সম্পর্কটি ঠিক নেই সহকর্মী বা উর্ধ্বতনদের।






মন্তব্য চালু নেই