মেইন ম্যেনু

“কুনিওর খুনিরা গোয়েন্দা জালে: যে কোন সময় গ্রেপ্তার”

পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি আলোচিত হত্যার একটি গুলশানে তাভেল্লা সিজার খুনের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তবে অন্যটি রংপুরে হোশি কুনিও হত্যার কারণ এবং খুনি কারা-তা এখনও বলছে না পুলিশ। যদিও তদন্তে অগ্রগতির দাবি করছে তারা। খুনিরা এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে বলেও দাবি করছে বাহিনীটি।

রংপুরের পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি শুধু এইটুকু বলবো, ঘাতকরা এখন গোয়েন্দাজালে। যে কোনো সময় তারা গ্রেপ্তার হতে পারে’।

গত ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়ার কাচু আলুটারীতে খুন হন জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও। এর পাঁচ দিন আগে রাজধানীর গুলশানে খুন হন ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার। পর পর দুটি হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশের উদ্বেগ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে সরকারও। বিদেশিদের আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা দিতে হয়েছে সরকারকে।

এক মাসের মধ্যে তাভেল্লা হত্যায় জড়িত অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তথা বাংলাদেশের প্রতি বিদেশিদের মনোভাব পাল্টাতে সহায়ক হবে বলেও মনে করছে পুলিশ। তারা বলছে, কেবল তাভেল্লা নয়, কুনিও হত্যার রহস্যও দ্রুত উন্মোচিত হবে।

৩ অক্টোবর রংপুরে কুনিও হত্যার পর পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রংপুরের ডিআইজিকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তারা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করছে। খুনির খোঁজে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এখন দিনরাত মাঠে কাজ করছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, তাভেল্লার খুনিদের মতোই হোশি কুনিওর খুনি কারা, সে প্রশ্নের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন গোয়েন্দারা। এই সম্ভাব্য খুনিরা যেন পালাতে না পারে, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যে কোন সময় তাদেরকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হতে পারে।

কুনিও হত্যায় এরই মধ্যে বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের ভাই রাশেদ উন নবী খান বিপ্লব ও কুনির ব্যবসায়িক বন্ধু হুমায়ুন কবীর হিরাসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে হিরা ও বিপ্লবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিন দফায় রিমান্ড নেয়া হয়েছে তার ব্যবসায়িক বন্ধ হিরাকে। আটক করা হয়েছে হুমায়ুন কবীর হিরার স্ত্রী, হোসি কুনিও ভাড়া বাসার মালিক জাকারিয়া বালা এবং তার স্ত্রী, হিরার ভাই কালামসহ আরো বেশ কয়েজনকে।

একটি গোয়েন্দা সুত্র বলছে, পারিবারিক, ব্যবসায়িক, ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিকসহ বেশকয়েকটি সম্ভাব্য কারণ হিসাব করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। তবে তদন্তের স্বার্থে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে নারাজ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান হুমায়ুন কবীর জানান, ‘এই হত্যার ক্লু ও মোটিভ পাওয়া গেছে। অধিকতর সঠিক বিষয়ে যাচাই বাচাই এবং অধিকতর তদন্তের কারণে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না’।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই