মেইন ম্যেনু

কুমিল্লায় সাত মাস পর সৌদি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

মাসুদ আলম, কুমিল্লা থেকে : কুমিল্লার সৌদি প্রবাসী ময়নাল হোসেন হত্যার প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ মঙ্গলবার মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি ডোবার ৩ ফুট পানির নিচ থেকে ওই সৌদি প্রবাসী ময়নালের মরদেহের উদ্ধার করে ডিবি।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, প্রবাসীর স্ত্রী গত ৭ নভেম্বর মুরাদনগর থানায় স্বামী নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার স্বামী ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেননি। স্ত্রীরির করা মুরাদনগর থানা পুলিশ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করলেও ঘটনার রহস্য বের করতে পারেনি। পরে ওই প্রবাসীর মা আমেনা খাতুন কর্তৃক কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ এরই মধ্যে প্রবাসী ময়নালের স্ত্রীর নিকটাত্মীয় জাকির ও জুয়েলকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ গত ৮ মার্চ কুমিল্লা থেকে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ ও এসআই সহিদুল ইসলামসহ ডিবির একটি টিম তাসলিমাকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার রোমহর্ষক কাহিনী। পরদিন গ্রেফতার করা হয় তাসলিমার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে। গত ১০ মার্চ নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ডোবা থেকে নিহত ময়নালের মরদেহ উত্তোলন করা হবে।

এনিয়ে সোমবার বিকেলে মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে গ্রেফতারের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ফেলার সম্ভাব্য স্থান সনাক্তের চেষ্টা করলেও সেখানে মরদেহ পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমরাও (ডিবি) হাল না ছেড়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করার পরই মরদেহ ফেলার স্থানের সন্ধান মিলে।

মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে গ্রেফতাররা মরদেহ ফেলার স্থানটি নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করতে না পারায় মরদেহের সন্ধানে একাধিক স্থানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রোববার মরদেহ ফেলার স্থানটি নিশ্চিতভাবে সনাক্তের পর আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি ডোবার ৩ ফুট পানির নিচে থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হবে।

এছাড়াও আদালত মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ফরেনসিক বিভাগকে ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই