মেইন ম্যেনু

কুলাউড়ায় ইস্পাহানী গ্রুপ ও বন বিভাগ মুখোমুখি

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জেলার কুলাউড়ায় উপজেলা বনবিভাগ ও ইস্পাহানী গ্রুপের মালিকানাধীন গাজীপুর চা বাগান মুখোমুখি অবস্থানে। বনবিভাগের নির্মাণাধীন ভবনের কাজে চা বাগান বাধা দেয়। অপরদিকে চা বাগানের অভিযোগ তাদের প্রায় এক একর মুল্যবান জমি জবর দখল করতেই ভবন নির্মাণের নামে পায়তারা করছে বনবিভাগ। ওই ভবন নির্মাণে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ে তিন দিন থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বনবিভাগ অতিরিক্ত বনকর্মী ও ভাড়াটিয়া লোক জড়ো করায় উভয়পক্ষে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। গাজীপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, কুলাউড়া রেঞ্জ অফিস যে স্থানটিতে রয়েছে সেখানে ইস্পাহানী গাজীপুর চা বাগানের ৯৬ শতক জায়গা। যেটি বাগানের ক তপশীল অর্থাৎ রেজিস্ট্রিকৃত। যা তাদের এসএ খতিয়ান নং ২৫ দাগনং ১৩৫৯ এর ৬০ শতক এবং খতিয়ান নং ৩৮ দাগ নং ৩৮৫৯ এর ৩৬ শতক জমি রয়েছে। সর্বশেষ স্যাটেলমেন্ট জরিপের তসদিককৃত পর্চায় সংশোধিত দাগ নং ৩৬৬৬ এ ৯৬ শতক জমি উল্লেখ রয়েছে। সকল রেকর্ডে জমির মালিক ইস্পানী গাজীপুর চা বাগান এবং মন্তব্য কলামে রেঞ্জ অফিসের অবস্থান উল্লেখ করা হয়। বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সরকারি এই বিভাগের কাজের সুবিধায় জমিটি ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এখন তাদের বিশাল নিজস্ব অফিস ও সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া এখানে তাদের অস্থায়ী অফিসের পেছনে একটি পাকা দালান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ফলে এই জায়গা থেকে তাদের উচ্ছেদের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষ গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করে। বাগানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন জেলা প্রশাসক বনবিভাগকে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নির্দেশ উপেক্ষা করে বনবিভাগ পাকা দালান নির্মাণ অব্যাহত রাখে। এনিয়ে গত ৩ দিন বাগান নির্মাণ কাজে বাধা দিলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্থক্ষেপে উভয়পক্ষ শান্ত হয়। সরেজমিন কুলাউড়া রেঞ্জ অফিসে গেলে দেখা যায়, অন্য রেঞ্জ থেকে বনকর্মীদের আনা হয়েছে। যারা পোশাক পরা সশস্ত্র অবস্থায় রেঞ্জ অফিসের বারান্দা ও ঘরে অবস্থান করছে। তাছাড়া স্থানীয় ভাড়াটে লোকও বাইরে অবস্থান করছে। এ ব্যাপারে কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম ভুইয়া জানান, বর্তমানে যে স্থানে রেঞ্জ অফিস রয়েছে সেখানে মোট জমির পরিমান ১০৫ শতক। যার মধ্যে ইস্পাহানী গাজীপুর চা বাগানের ৬০ শতক এবং বাকি ৪৫ শতক ডিসির ১নং খতিয়ানের। তবে এর স্বপক্ষে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তারা চা বাগানের জায়গাটির বন্দোবস্ত বাতিল করে তাদের নামে বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করবেন। রেঞ্জ অফিসের এই ভবনটি নির্মাণ কাজ শুরুর আগে বাগান বাধা দেয়নি। এখন ৮০ ভাগ কাজ সম্পাদনের পর বাগান নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। এব্যাপারে বাগান ব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ জানান, বনবিভাগ বহিরাগত লোকজন এনে একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও বনবিভাগ পাকাদালান নির্মাণ করতে গেলে বিষয়টি মৌখিকভাবে ইউএনও এবং সহকারি কমিশনার ভুমিকে অবহিত করা হয়। কিন্তু তারপরও বনবিভাগ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, বিষয়টি বাগানের পক্ষ থেকে আমাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে কাগজপত্র দেখে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেবো।






মন্তব্য চালু নেই