মেইন ম্যেনু

কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন যে বলিউড তারকারা…

স্বপ্ন, জীবনযাত্রা থেকে ফ্যাশন ট্রেন্ড- সব কিছুতেই ভক্তদের আদর্শ তারাই। তাদের জীবনের গল্প ভক্তদের আগ্রহের বিষয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে প্রযুক্তি- কিন্তু তারাই রয়ে গেছে কুসংস্কারাচ্ছন্ন! তারকাদের অন্ধ বিশ্বাসের ছায়া পড়ছে জীবনযাত্রায়- স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে অনুসরন করছে ভক্তরা। হয়তো নিজেদের অজান্তেই কুসংস্কার ছড়াচ্ছেন, এমনই ক’জন বলিউডি তারকা-

অমিতাভ বচ্চন: পরিশ্রম ও অভিনয় ক্ষমতার জেরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছলেও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বিগ বি কিন্তু ক্রেডিট দিতে চান নিজের ভাগ্যকেই। জন্ম ছক অনুযায়ী গ্রহ, নক্ষত্রের অবস্থান দেখে নীলা, পান্না ধারণ করেছেন আংটিতে। এমনকি পুত্রবধূর মাঙ্গলিক দশা কাটাতে সঙ্কটমোচন মন্দিরে গাছের সঙ্গে বিয়েও দিয়েছেন তিনি!

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন: শশুড়ের যোগ্য পুত্রবধু! মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের সৌন্দর্য্যে জিতে নিয়েছেন বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট। কিন্তু বেরুতে পারেননি কুসংস্কারের ছায়া থেকে। শ্বশুর মশাইয়ের পরামর্শে আংটিতে ধারণ করেছেন নীলা, হিরা। অভিষেক বচ্চনকে বিয়ের আগে লক্ষ্মী মেয়ের মতো বিয়ে করেছেন গাছকে।

শাহরুখ খান: কোনও গডফাদার ছাড়াই বলিউডের বাদশা হয়েছেন তিনি। কিনেছেন আইপিএল টিম। ২৫ বছর ধরে রাজত্ব করেও ইনিও নিজের থেকে বেশি ভরসা রাখেন ভাগ্যের ওপরই। তাই গ্রহরত্ন ধারণ নয় শুধু, গাড়ির নম্বর প্লেটও বদলে দিয়েছেন, কারণ তার লাকি নম্বর ৫৫৫।

করিনা কাপুর: কাপুর খান্দানের সাইনবোর্ড না থাকলেও বলিউড কাঁপাতেন তিনি- এমন কথাই বিশ্বাস করেন সিনেপাড়া। তবে নিজের ওপর বোধহয় বিশেষ ভরসা ছিল না তার। তাই ক্যারিয়ারের শুরুতেই ধারণ করেন পোখরাজ ও পলা। নিজের উর্ধ্বমুখী ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে নবাব ঘরণী হওয়া সব ক্রেডিটই তিনি দিতে চান পাথরকে!

সালমান খান: ভাই বলতে বলিউড অজ্ঞান, মাথায় তার হাত থাকলে বলিউড ক্যারিয়ার নিশ্চিত। তবুও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি আছে তার। ডানহাতের কবজিতে বাবার দেওয়া নীল পাথর বসানো ব্রেসলেট তাই তার নিত্যসঙ্গী। সালমানের লাকি চার্ম এখন হয়ে দাড়িয়েছে ভক্তদের স্টাইল স্টেটমেন্ট।

ক্যাটরিনা কাইফ: শুরু থেকেই উর্দ্ধমুখী তার ক্যারিয়ারগ্রাফ। একের পর এক হিট ছবি দিয়ে বলিউডে রাজত্ব করছেন ১২ বছর। কিন্তু প্রত্যেক ছবি মুক্তির আগে খাজা মইনুদ্দিন চিস্তির দরগায় যান ক্যাটরিনা।

আমির খান: মুখে যুক্তিবাদ নিয়ে সরব হলেও ব্যক্তিগত জীবনে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খানও। তিনি মনে করেন ডিসেম্বর তার লাকি মাস। প্রত্যেক ছবির মুক্তির জন্য তাই ডিসেম্বর মাসকেই বেছে নেন তিনি। এমনকি, ছেলে আজাদের জন্মও ডিসেম্বরে পরিকল্পনা করেছিলেন আমির

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া: টিনএজ বয়স পেরিয়েই করেছেন বিশ্বজয়। শুধু রূপ বা সৌন্দর্য্য নয়- নিজের অভিনয় ক্ষমতার গুণে ধরে রেখেছেন শীর্ষস্থান। তিনিও বিশ্বাস করেন পাথরে! রাশি স্টোনের ওপর গভীর বিশ্বাস থেকেই প্রিয়াঙ্কা সময় অনুযায়ী বদলাতে থাকেন আংটি।

সঞ্জয় দত্ত: ‘মুন্নাভাই’ মনে করেন তার লাকি নাম্বার ৯। গাড়ির নম্বর প্লেটে তাই দেখা যায় ৪৫৪৫। তবে এই লাকি নাম্বারও আটকাতে পারেনি তার হাজতবাস।

দীপিকা পাডুকোন: দৃঢ়চেতা দীপিকা মুক্ত হতে পারেননি কুসংস্কার থেকে। ক্যাটরিনার মতোই তিনিও প্রত্যেক ছবি মুক্তির আগে সাফল্য কামনায় সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে যান।

অক্ষয় কুমার: সাহস, পরিশ্রম, অভিনয় ক্ষমতা, সুঠাম চেহারা- বলিউডে খ্যাতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোন উপাদানের ঘাটতি নেই তার। খান খান্দানের দাপটেও খিলাড়িকে টলাতে পারেনি নিজের আসন থেকে। তবুও সব ছবির মুক্তির আগে বিদেশে থাকেন অক্ষয়। তার অন্ধ বিশ্বাস মুক্তির সময় দেশ থেকে দূরে থাকাই সাফল্য এনে দেবে তাকে।

শিল্পা শেঠি: ‘বিগ ব্রাদার’ জয় থেকে আইপিএল টিম- সব সাফল্যেরই ক্রেডিট তিনি দেন তার হাতের পান্না ও পোখরাজ পাথরকে। রাজস্থান রয়্যালসের খেলা চলাকালীন হাতে দুটো ঘড়ি পরেন তিনি, টিম যখন ব্যাট করে তখন বসে থাকেন পা সোজা করে!

রনবীর কাপুর: মা আর ৮ নম্বর- এই দুইয়ের বাইরে আর কিছু বোঝেন না রনবীর। প্রমাণ আছে দীপিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ আর তার গাড়ির নাম্বার প্লেটে।

বিপাশা বসু: ভূতের ছবিতে অভিনয় করতে করতে নিজেও বোধহয় অশুভ শক্তি দূরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বঙ্গকন্যা। নিজের গাড়িতে তাই প্রতি শনিবার লেবু-লঙ্কা ঝোলাতে ভোলেন না তিনি।






মন্তব্য চালু নেই