মেইন ম্যেনু

কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামজেলার ফুলবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত দাসিয়ারছড়ায় (সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল) মানুষের হাতে তুলে দেয়া হলো স্মার্ট কার্ড। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজারে আয়োজিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ অনষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট কার্ড নারিগকত্ব পরিচয়ের অনন্য দলিল।

আপনারা এটি যতœ সহকারে রাখবেন। সরকার আপনাদের উন্নয়নে অনেক কিছু করছে। আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এরপর তিনি দাসিয়ারছড়ার নতুন ২০জন নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেন। এসময় উপস্থিত দাসিয়ারছড়া বাসিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। করতালির মধ্য দিয়ে অভিবাদন জানায় উপস্থিত জনতা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ আরো বলেন, অতীতে রাজা, জমিদারদের দাবাখেলায় হারজিতের মধ্য দিয়ে এই ছিটমহলের জন্ম হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার কিংবা পাকিস্থান সরকার এ ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেননি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধির প্রচেষ্টায় ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুটনৈতিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ১ আগস্ট ছিটমহলবাসী স্বাধীন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী জাতীয় পরিচয়পত্র লাভের গৌরব অর্জণ করল।

তিনি বিলুপ্ত ছিটমহল ছিটমহলবাসীদের উদেশ্যে বলেন, স্মার্ট কার্ড বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়েছে। কাজেই যতেœর সাথে রাখতে হবে এ মুল্যবান কার্ড। এ কার্ড কাউকে দেয়া যাবে না। বা হারিয়ে গেলে এ কার্ড পেতে ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হবে। এ কারণে এটি সংরক্ষণে অনেক বেশী সাবধান হতে হবে। এই কার্ড অন্যের হাতে গেলে অপব্যবহারে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করুন। আর এসব সুযোগ যথাযথ কাজে লাগাতে হলে নিজেদের যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলুন।

জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ, কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, এন আই ডি প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালেউদ্দিন, জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত সচিব, বেগম জেসমিন তুলি, অতিরিক্ত সচিব ডঃ শাহজাহান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ্ । স্মার্ট কার্ডপেয়ে অনুভুতি ব্যক্ত করেন-চম্পা খাতুন ও আশরাফুল আলম। তারা বলেন-‘আমরা আজ বাংলাদেশী । আজ আমার হাতে নাগরিকত্বের স্মার্ট কার্ড। আমরা স্মার্ট নাগরিক। এ আমাদের পরম প্রাপ্তি।’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন-সহকারি অধ্যাপক মামুনুর রশিদ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামিমা সুলতানা।

নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, দাসিয়ারছড়ার ২হাজার ৫৬২জন নাগরিককে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে নারী এক হাজার ৩০৬জন এবং পুরুষ এক হাজার ২৫৬জন। এসবভোটারদের ফুলবাড়ী সদর, কাশিপুর ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এসব মানুষ অনুষ্ঠিতব্য ৩১ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এন আই ডি প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালেউদ্দিন জানান, এই স্মার্ট কার্ডে ৩স্তর বিশিষ্ট ২৫টি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এটি নকল করা অসম্ভব। এ কার্ডের মাধ্য নাগরিকরা সরকারের ২০টি সেবা গ্রহন করতে পারবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীনের কাছ থেকে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার ছোট কামাতের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সুজনেরকুটি গ্রামের অধিবাসী ১০জন নারী এবং ১০ জন পুরুষ স্মার্ট কার্ড গ্রহন করেন। এরা হলেন, মোঃ ইব্রাহীম খাঁ, মোছাঃ চম্পা খাতুন, মোঃ আশরাফুল আলম, মোছাঃ মছিরন বেগম, মোঃ মজনু শেখ, মোছাঃ জয়নব বেওয়া, মোঃ মোসলেম উদ্দিন শেখ, শ্রীমতি রঞ্জিতা রানী, মোঃ ছবুর উদ্দিন, মোছাঃ আম্বিয়া বেগম, মোঃ আব্দুস ছালাম, মোছাঃ জমিলা বেওয়া, মোঃ আব্দুল কাদের কান, মোছাঃ হামিদা বেগম, শ্রী রতিকান্ত বর্মন, মোছাঃ ছকিনা বেগম, আব্দুল মজিত, শ্রীমতি সাবেত্রী বালা, মোঃ আবু তাহের আলী শেখ ও ছামিরন বেগম। এরা সবাই ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

পর্যাক্রমে অন্যান্যদের কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, ছিটমহল বিনিময়ের এক বছরের মাথায় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীরা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েই পাচ্ছেন স্মার্টকার্ড এনআইডি। পাইলট প্রকল্প হিসাবে এই কাজটি হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা নাগরিক সুবিধে পাওয়ার ক্ষেত্রে ১০ ডিজিটের এই স্মার্টকার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। কাজের শুরুতে কোন ধরনের জটিলতা এড়াতে কাজটিকে দাসিয়ারছড়ায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তিতে ফুলবাড়ী উপজেলায় এক লাখ ১৪ হাজার ৩১৯জন নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌছে দেওয়া হবে। স্মার্টকার্ড বিতরণের সময় দশ আংগুল ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি সংগ্রহ করা হবে। তবে এক্ষেত্রে ভোটাদের হাতে থাকা পুর্বের লেমিনেটেড আইডি কার্ড ফেরত দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির আন্দোলনের সাবেক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চির কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদেরকে ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে গত বছর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এক বছরের মাথায় প্রথম বারের মত স্মাার্টকার্ড তুলে দিয়েভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার দিয়েছেন। এ আনন্দ শুধু আমাদের নয় গোটা দেশবাসীর।

উল্লেখ্য,দু’দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়াসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি বাংলাদেশে ও ভারতের অভ্যন্তরের বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের মূল ভূখন্ডে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে অর্ন্তভূক্তি হয়। সেই সাথে অবসান ঘটে দীর্ঘ দিনের পরাধীনতার।






মন্তব্য চালু নেই