মেইন ম্যেনু

বানভাসির সংখ্যা বাড়ছে : আরো ১ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে পানিবন্দী সোয়া ৬ লাখ মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে ১১তম দিনে বানভাসির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সোয়া ৬ লাখে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দী মানুষের ভোগান্তি পৌছেছে চরমে। বিপুল সংখ্যক বানভাসি মানুষের জন্য সরকারি ত্রান অপ্রতুল। দুর্গম চরের মানুষ বন্যা ও বৃষ্টির মধ্যে অমানবিক জীবন-যাপন করছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ। বৃহস্পতিবার বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে নারু দাস (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এপর্যন্ত পানিতে ডুবে সলিল সমাধি হল ৩ জনের। জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় বন্যা কবলিত দেড় লাখ পরিবারের মধ্যে সোয়া ৬ লাখ মানুষ বন্যায় ভাসছে। ৭৭টি গবাদিপশু মারা গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার রিডিং অনুযায়ী চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার উপরে এবং কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেলা বন্যা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ৫৬টি ইউনিয়নের ৭১৯ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ১ হাজার ১৮৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পানিতে ডুবে আছে। পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৭০ জন। এছাড়াও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২২ হাজার ৩৭০ জন। মৃত গবাদি পশুর সংখ্যা ৭৭টি। বন্যায় বাঁধের ক্ষতি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজ ও কার্লভাটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংখ্যা ৫২৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এছাড়াও ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ২২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, ইউনিয়নের অনন্তপুর নামক এলাকায় নারু দাস জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়। সে ওই এলাকার কান্দুরা দাসের পূত্র।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্গত এলাকায় ৮৫টি মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য কাজ করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলমান বন্যায় ৮ হাজার ৩৭৩ হেক্টর ফসল জলমগ্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৮ জন কৃষক। এরমধ্যে শাকসবজি ১ হাজার ৮৯ হেক্টর, বীজতলা ২ হাজার ৪১৮ হেক্টর, রোপা আমন ৩ হাজার ১৪৯ হেক্টর, আউশ ৮৯১ হেক্টর ও পাট ৮২৬ হেক্টর। পাট কর্তনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, এ পর্যন্ত ৬৭৫ মে. টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ হয়েছে ৫৭৫ মে.টন। প্রাপ্ত ১৮ লাখ টাকার মধ্যে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আরো ২০ লাখ টাকা ও ৭০০ মে’ টন চাল চাওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই