মেইন ম্যেনু

কৃষ্ণপক্ষ’র শেষ দৃশ্যে আমি আছি: শাওন

‘দখিনা হাওয়া’ হুমায়ূন আহমেদের বাসা। আশেপাশে সবাই চেনেন। কাউকে জিগেস করলেই দেখিয়ে দিবে এখনো। হুমায়ূন যতদিন বেঁচে ছিলেন, ‘দখিনা হাওয়া’র দরজা খোলাই থাকতো। হিমুর বাসার দরজাও যেমন কখনো বন্ধ থাকেনা। কিন্তু এখন বন্ধ। নক করতে হলো। ভেতরে ঢুকতেই জানলাম বসতে হবে। শাওন প্রশ্ন ছুঁড়ে পাঠালেন, কি শাড়ি? নীল না সাদা? সাদা বলতে গিয়ে থমকে গেলাম। ‘নীল’। নীল শাড়ি পরে এলেন হুমায়ূনের শাওন।
দুপুরে খেয়েছেন?
হু
চা তো খাবেন?
হ্যঁ চা খাওয়া যেতে পারে।
বাইরে খুব রোদ। ছবিটা পরে তুলি। চলুন আলাপ শুরু করা যাক।

আলাপ শুরু…
যেটা বলছিলাম। সম্ভবত ‘শ্রাবণে মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রের সময়। পরিণত বয়সে প্রথম চলচ্চিত্র এটি। আমার সিকোয়েন্স ছাড়াও পুরো সিনেমার দৃশ্যেগুলোর শুটিং খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি আমি। দেখতে ভালো লাগতো। খুবই ভালো লাগতো। কেন এখানে ক্যামেরা বসালো কেন ওখানে বসালো না এইসব জিগেস করতাম ওনাকে। বিরক্ত করতাম। এরপর ‘দুই দুয়ারী’ নির্মাণ করলেন ‍হুমায়ূন। ওটাতে আমি খুব একটা থাকতে পারিনি। তবে, ‘চন্দ্রকথা’য় পুরোপুরি ছিলাম। এরপর প্রায় সবক’টা চলচ্চিত্রেই আমি ছিলাম তার সঙ্গে। আস্তে আস্তে একটা সময় ইচ্ছা হয়, উনি যেভাবে করছেন অন্যভাবে করলে কেমন হতো। আমার এই কৌতুহলে হুমায়ূন আমাকে একদিন জিগেস করলেন, এটা ‘শ্যামল ছায়া’ ছবির শুটিং চলাকালীন সময়ে, বললেন, নাটক বানাবা নাকি? তখন তিনি আমাকে একটা স্ক্রীপ্ট লিখে দিলেন; নাম-পক্ষীরাজ। বললেন, সম্পূর্ণ নিজে নিজে বানাবা। কিচ্ছু জিগেস করতে পারবা না। আমিও শর্ত দিলাম, ‘তাহলে আপনিও লোকেশনে যেতে পারবেন না।’ ২০০৩ সালে নাটকটা বানালাম। এরপর থেকে হুমায়ূন কিছুটা টেনশন ফ্রি হলেন। এরপর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কাজগুলো করা শুরু করলাম। ঈদের ছয়টা নাটক করতে হবে, হুমায়ূন বললেন, প্রেশারে আছি, আমি করতে পারছিনা। দু’টা তুমি করে দাও। এভাবেই শুরুটা…

কিন্তু আপনার খুব একটা স্বাতন্ত্র ছিলো কি? হুমায়ূনের স্টাইল থেকেতো ব্যতিক্রম কিছু হয়নি খুব একটা…
যেহেতু সেসব হুমায়ূন আহমেদের স্ক্রিপ্ট ছিলো। হুমায়ূন আহমেদের যারা দর্শক আছে তাদের কাছে কিন্তু হুমায়ূনের নির্দেশনার বাইরে যেসব নির্মিত হয়েছে তা কিন্তু তাদের কাছে খুব একটা সমাদৃত হয়নি। নির্মাণ হয়তো ভালো হয়েছে। হুমায়ূনও যখন দেখেছেন বলেছেন, ভালো হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথের যেমন নিজের একটা স্টাইল আছে। হুমায়ূনেরও একটা স্টাইল আছে। আমি খুব সচেতনভাবেই সেটা রক্ষা করেছি। প্রশ্নটা আসে যে, আমার আইডেনটিটি কোথায়। বেঁচে থাকার সময় আমি কিছু আইডেনটিটি দেখিয়েছি। হুমায়ূন বলতেন, মানুষ সাধারণ চোখে যা দেখে ক্যামেরায় তাই দেখাতে হবে। কিন্তু আমি উনার সঙ্গে তর্ক করেছি। প্রচুর লং শর্ট ব্যাবহার করেছি। কিন্তু ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রে আমি হুমায়ূন আহমেদিয় সহজ প্যাটার্নটা ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি। এখানে আমি নিজস্ব আইডেনটিটি তৈরীর কোন চেষ্টা করিনি। আর আমার কাছে এখনও মনে হয় হুমায়ূনের কাজ করতে গিয়ে আইডেন্টিটি তৈরী করা অসম্ভব। সবকিছু ছাপিয়ে হুমায়ূনের কাজে তার কাহিনিটাই প্রাধান্য পাবে।

তারপরও, ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রে আপনার নিজস্বতার কোন জায়গা কি আপনি অনুসন্ধান করতে চান?
স্ক্রিপ্টটা হুমায়ূনের করা ছিলো। তবে মূল লেখার বাইরে চরিত্রটা নির্মাণ করতে গিয়ে কিছু বিষয় যোগ হয়েছে। চেষ্টাটা সফল হয়েছে কিনা সেটা বলতে পারছি না। আর মুল উপন্যাসের কাহিনিটা আসেইনি। উপন্যাসে একটা পরিশিষ্ট ছিলো। সেটা দেখাতে চাইনি। যারা পাঠক তারা হয়তো দর্শক হিসেবে হলে গিয়ে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।

চলচ্চিত্রটি যেহেতু আমার দেখা হয়েছে প্রিমিয়ারে, ব্যক্তিগত উপলব্ধির জায়গা থেকে মনে হয়েছে যে, হুমায়ূনের শেষদিনগুলির সঙ্গে ‘কৃষ্ণপক্ষ’র একটা অংশের মিল আছে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় মরণাপন্ন মুহিবের জন্য অরুর বিষন্নতা কি আপনাকে প্রভাবিত করেছিলো কিনা? যেহেতু আপনিও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিলেন…

‘কৃষ্ণপক্ষ’র অরু কিন্তু ভয়ংকর অভাগা। স্বামী অ্যক্সিডেন্ট করলে জানতেও পারেনা। আমি পরম করুনাময়ের কাছে কৃতজ্ঞ। হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসাকালীন সময়ে পুরোটাজুড়েই আমি ছিলাম। তবে চলচ্চিত্রটির নির্মাণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এটির কোন যোগ নেই। এটা ঠিক কৃষ্ণপক্ষ’র শেষ দৃশ্যের ভেতর আমি আছি। আর ব্যাক্তিগত আবেগের জায়গাটা যদি বলেন, তাহলে সিনেমা শেষের গানটা, ‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো…’ গানটার ভেতর আমি নিজের আবেগটা অনুভব করেছি।

হুমায়ূন আহমেদের আর কি কি ধরনের ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আছে?
হুমায়ূন আহমেদে নিজস্ব করা স্ক্রিপ্ট আছে, যেগুলো উনি সিনেমার জন্য করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ আমার জন্য দু’জনকে দিয়ে স্ক্রিপ্ট করিয়েছিলেন। একটা করিয়েছিলেন শিবব্রত বর্মণকে দিয়ে। ২০০৮সালে। এটা ছিলো ‘গৌরীপুর জংশন’। হুমায়ূন আহমেদের নিজের স্ক্রীপ্ট আছে তিনটি। আর ওয়াহিদ ইবনে রেজা বাপ্পির করা একটি স্ক্রীপ্ট আছে। সিনেমার জন্য এখনো পাঁচ পাঁচটা ফুল স্ক্রীপ্ট এখনো রেডি।

তাহলে, এখন আপনার পরিকল্পনাটা কি?
রুদ্র, আমি না ভয়ংকর অগোছালো। কোন কিছুই প্ল্যান করে করতে পারিনা। প্ল্যানিং করে আজ পর্যন্ত কোনকিছুই শেষপর্যন্ত করতে পারিনি। কৃষ্ণপক্ষ নিয়েও আমি কখনো প্ল্যান করিনি। আমি যখন একদিন ‍দুপুরবেলা চ্যানেল আই-তে দাওয়াত পেয়ে উপস্থিত হলাম। এবং সিনেমা বানানোর প্রস্তাব পেয়ে দশ মিনিটের মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম ছবি বানাবো, তাহলে আমার কি করা উচিৎ ছিলো? হুমায়ূনের যে পাঁচটা স্ক্রিপ্ট রেডি ছিলো সেগুলো থেকে কি করার কথা ছিলো না? কিন্তু আমার মনে হলো, ওই পাঁচটা স্ক্রীপ্ট থেকে কাজ করতে গেলে যে আয়োজন দরকার সেগুলো একমাসে কিছুতেই সম্ভব না। তাছাড়া হুমায়ূনের নিজের করা স্ক্রীন প্লে থেকে স্বল্প-সময়ে এই কাজটা করা খুবই অন্যায় হবে। আমি বলছি না এখনো আমি ন্যায় করেছি। সুতরাং প্ল্যানিং হিসেবে এটাও করতে পারিনি। প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা ছিলো ‘গৌরীপুর জংশন’। আবার মনে হলো, হুমায়ূন আহমেদ শুরু করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’ দিয়ে, আমিও করি ‘নির্বাসন’ দিয়ে। কিন্তু তাও হলো না। কিভাবে কিভাবে যেন ‘কৃষ্ণপক্ষ’ হয়ে গেলো প্রথম ছবি।

এখন মনে হয়, বছরে একটি যদি সিনেমা নির্মাণ করতে পারতাম তাহলে খুব ভালো হতো। সেই লজিস্টিকস যদি থাকতো, যদি এমন হতো যে, নাটক বানাতে হবেনা। তাহলে তো খুবই ভালো হতো। তবে আশা করছি সিনেমাই বানাবো।

চা এলো। চা খেতে খেতে প্রশ্ন এলো, হুমায়ূন থাকতে তো ‘দখিনা হাওয়া’র দরজা খোলা থাকতো। এখন কেন বন্ধ? হাসতে হাসতে শাওন জানালেন, দখিনা হাওয়ার দরজা এখনো খোলা থাকে। নিষাদ-নিনিত ঘরে নেই তা আগেই টের পাওয়া গেছে। তারা নানীর বাসায়। শাওনও ছিলেন সেখানেই। সকালে এলেন। বাসা খালি থাকলে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন তিনি। তাই দরজা বন্ধ। দেখা গেলো ড্রয়িং রুমের কোনেএকটা সিসি ক্যামেরাও বসানো আছে।

প্রিমিয়ারের পর কেমন কমেন্টস পেলেন?
দর্শক হিসেবে প্রিমিয়ারে সিনেমাটি যারা দেখেছে তারা অনেক ভালো বলেছে। কিন্তু আমার কল্পনায় জায়গাটা অনেক বিস্তৃত ছিলো। কাজটা খুব দ্রুত শেষ করতে হয়েছে। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’, ‘আমার আছে জল’ সিনেমায় দেখা গেছে দিনে তিন চারটা সিকোয়েন্স নিয়েছি। এমনও হয়েছে সারাদিন বসে থেকে একটা শর্ট নিয়েছি। প্রোপার টাইম, লাইটের জন্য। কিন্তু ‘কৃষ্ণপক্ষ’-এ একদিনে সাতটা সিকোয়েন্স করেছি। একবার রেলওয়ে হাসপাতালে কাজ করেছিলাম। জানানো হলো, আজকের পর আর এখানে শুট করা যাবেনা। রাত তখন এগারোটা। সেটও রেডি না। রাত একটায় শুরু করে সকাল আটটায় পর্যন্ত পাঁচটা সিকোয়েন্সের কাজ শেষ করলাম। কিন্তু আগে যদি জানতাম, ফেব্রুয়ারিতে রিলিজ হবে ছবিটা তাহলে আরেকটু রিল্যাক্স হযে করতে পারতাম। কিন্তু কাজতো করে ফেলেছি। কিছুটা অসন্তুষ্টি আছে। প্রি প্রোডাকশনের জন্য মাত্র তিনদিন সময় পেয়েছি। শুটিং করতে গিয়ে দেখা গেলো ওয়ালের রঙ পছন্দ হচ্ছেনা। একদিকে শুটিং হচ্ছে অন্যদিকে দেয়ালে রঙ হচ্ছে। এভাবেই কাজটা করতে হয়েছে।

মাহীকে নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট আপনি?
মাহির মধ্যে একটা স্বভাবসুলভ চঞ্চলতা আছে। ভাবলাম, ও রাজিও হবে কিনা। হুমায়ূন আহমেদকে বুঝতে পারবে কিনা। একদিন ডাকলাম অফিসে, কোরবানি ঈদের আগে। বেশ লেট করে এলো। এসেই বললো কেন দেরি হলো। জানালো, রাস্তায় যতোগুলো গরু দেখেছে সবগুলোর দাম জিজ্ঞেস করেছে। ওর কথা বলার ভঙ্গিটা সুন্দর। বয়সের চঞ্চলতা কন্ট্রোল করলেই তাকে নেয়া যায়। তাকে জানালাম। শুনে সে এক্সাইডেট হয়ে গেলো। বললো- শাওন আপু, আমি কি পারবো? অরু চরিত্র জানিনা। অরু মিরু যা দেবেন তাই করবো।’ হুমায়ূন আহমেদের তার প্রতি শ্রদ্ধার জায়গাটা পজেটিভ মনে হল। তাই নিলাম। উপন্যাসটা আগে পড়া ছিল। আবারও পড়েছে। হুমায়ূনের নারী চরিত্রগুলো কিন্তু অনেক ম্যচিউরড হয়। ক্যামেরার সামনে বয়সের কারণে মাহি একটু ফার্স্ট কথা বলেছে। ধীরস্থির কথা বলার ব্যাপারটা তুলে আনার চেষ্টা করেছি। অনেক নিজেও চেষ্টা করেছে।

অনেক সাটিসফাইড ওকে নিয়ে আমি তবে পরিপূর্ণ বলবো না। আমরা যদি আরো সময় দিতে পারতাম তাহলে আরো পরিশিলিত হতে পারতো ও। আমরা তিনদিন শুটিং করেছি। শুটিংয়ের সময়ই সেই ফুটেজগুলো এডিট করা হয়েছে। আমি এডিটিংয়ে থাকতে পারিনি। ডাবিংয়ের সময়ও আমাকে কাছে পায়নি মাহি। একটু ভুল উচ্চারণ করেছে, সেটা ঠিক হয়নি। সে ক্ষেত্রে পরে আরেকটা শুটিং সেট থেকে মাহির ভয়েসটা আনা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মনে করি অনেক সাটিসফাইড।

রিয়াজকে নিয়েও তো ইশ্বর অনেক টানা হেঁচড়া করলেন…
রিয়াজের হঠাৎ স্ট্রোকটা আমাদের স্পিডে বড় ধরণের ব্রেক করেছে। যদি এটা না হতো তাহলে হয়তো ১৩ নভেম্বর রিলিজ করতে পারতাম। দর্শকদের কাছেও কমিটমেন্ট টা রক্ষা করতে পারতাম। এখন যে ভুলগুলো বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে তা তখন হয়তো দর্শকও মেনে নিতো যে তাড়াহুড়োয় সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে, তারপরও রিয়াজ ভাই যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছে। সেকেন্ড টাইম যখন শুটিং করলেন তখন বেশি কাজ বাকি ছিলোনা। কিন্তু অতটুকু ছাড়া সিনেমাটাও মুক্তি দেয়া সম্ভব না। গান একটিও শুটিং হয়নি। আমরা অনেক ভেবেছিলাম অন্যকোনভাবে এটা শেষ করা যায় কি না। কিন্তু সম্ভব ছিলো না। অসুস্থতার পর গানের শুটিং শুরু করলেন রিয়াজ ভাই। বৃষ্টির গান। শীতকাল। রিয়াজ ভাইকে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। মানসিক টানাপোড়েনে পড়লাম। অসুস্থ একটা লোক কে ভেজাতে হবে এটা ভাবতেই পারছিলাম না। প্ল্যানিং ছিলো যেভাবে সেভাবে করতে পারিনি। একটা সিনে বৃষ্টিতেও ভেজাইনি। আরেকটা দৃশ্য ছিলো গাড়ি উল্টে পড়ে আছে। ভেতরে রিয়াজ। রিয়াজ ভাইকে কিভাবে বলবো গাড়িতে ঢোকেন। উনিই বললেন, ‘বুবু আমি পারবো’। গাড়িতে ঢোকানোর তিন মিনিট পর তিনি প্রচুর ঘামা শুরু করলেন। পরে বললাম সব অফ। গাড়ির এসিটা ছেড়ে দা্ও। রিয়াজ ভাইকে বসাও। এদিকে টাইম পার হয়ে যাচ্ছে। সানডাউন হয়ে যাচ্ছে। সিনেমা বানানোটা আসলে ভয়ংকর মানসিক চাপ। আমার মনে হয় জীবন থেকে দশ বছর আয়ু নাই।

নিশাদ-নিনিতের ভুমিকা কেমন ছিলো সিনেমায়?
কয়েকদিনের জন্য ওরা আমাকে কোন প্রেসার দেয়নি। ওরা আমার মার কাছে ছিলো, শুটিংয়ের আঠারো দিন আমিও ওদের কাছে গিয়ে থেকেছি। ওদের ভূমিকা ছিলো একদম বড় বাচ্চাদের মতো। একদিনের ঘটনা বলি, আমি ক্লান্ত, ঘুমুচ্ছিলাম। সারারাত শুটিং হয়েছে। ছোটজন ঘুম থেকে তুলে মা..মা ডাকছে। বড়জন বলছে ‘মা অনেক টায়ার্ড। মাকে ডাকা যাবেনা। এটা আট বছরের ছেলের জন্য এক্সপেক্ট করা যায়না।

আপনার বর্তমান যাপনটা জানতে চাই…
আমার একটা আর্কিটেকচার ফার্ম আছে। সেই ফার্মের বেশ কিছু কাজ চলছে। সেটার কাজি কিছুটা দেখি। বাবার অফিসে বসি। বাচ্চাদের দেখাশোনা। আর সারাবছর চারপাশটা নাটক বানাই। দু’একটা রিয়েলিটি শো’র কাজ করছি। এইতো…

গান করছেন না কেন?
আমি গান করছি বা গান করছি না এটা বোঝার আসলে পারিবারের মানুষ ছাড়া বাইরের কারো উপায় নেই। কেননা, আমার গান যিনি সবচেয়ে ভালোবাসতেন, যিনি মনে করতেন গানটা মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার তিনিই নেই। আর এখন অ্যালবাম কিভাবে করে আমার জানা নেই। তবে গান করছি। নিজের জন্য করছি। রেডিও টিভিতে গাইছি না হয়তো।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম পা রাখলেন। কেমন বুঝছেন?
আপনারা সবাই জানেন। আসলেই অবস্থা ভালোনা। যেই ছবিই বলি, ভালো ছবি হচ্ছে। তাহলে কেন লগ্নীকৃত টাকা তুলতে পারছেনা। ঠিক বুঝতে পারছিনা। আমরা বলছি হলের পরিবেশ ভালো না বলে হলে যাচ্ছিনা। আবার আমরা বলছি দর্শক হলে যাচ্ছেনা বলেই ছবিগুলো ব্যবসা করতে পারছেনা। হুমায়ুন আহমেদের প্রচুর দর্শক আছেন। তারা বলেছেন ছবিটা কবে টিভিতে আসবে। এর চেয়ে দু:খের আর কিছু হয়না। চলচ্চিত্র হলে গিয়ে দেখতে হয়। হলে যাওয়ার অনাগ্রহটা কেন দর্শকদের সেটা বুঝতে পারছি না। এ অনাগ্রহের কারণেই প্রযোজকরা বাজেট কমিয়ে দিচ্ছে।

হুমায়ূনের স্মৃতিগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
হুমায়ূন আহমেদের ব্যবহৃত যা আমার কাছে আছে সব যত্নসহকারে রেখে দিয়েছি। ভালোমতো আছে। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা হুমায়ূন এখন যেখানে আছেন, অর্থ্যাৎ নুহাশপল্লীতে একটা জাদুঘর করার। যখন সামর্থ্য হবে তখন করবো। যার যার কাছেই স্মৃতি আছে, সংগ্রহ করবো। প্রকাশকদের কাছে আছে, ছেলে-মেয়েদের কাছে আছে। তার একটা ওয়েবসাইটও আছে। জীবিতাস্থায় করেছিলেন। সেটার এখন কি অবস্থা বলতে পারছিনা। তবে ওনার সবচেয়ে বেশি ছবি আছে মাজহার ভাইয়ের কাছে আছে। প্রতিদিনই তিনি ছবি তুলেছেন। আর প্রফেশনাল ফটোগ্রাফরদের মধ্যে মামুন ভাইয়ের কাছে আছে। এছাড়া, হুমায়ূনের গানের সংকলন বের করার ইচ্ছা আছে আমার। শুধু গান দিয়ে না, গানগুলো লেখার পেছনের গল্পগুলোও যোগ করবো বইয়ে। বইটা শিগগিরই বের হবে।

এবার ভিডিও বার্তা। কৃষ্ণপক্ষ নির্মাণের সময় তার নানা সংকটের কথা, হুমায়ূনকে কতোটা মিস করছেন তিনি, আর দর্শকদের কাছে চাওয়াটুকু ধারণ করে রাখা হলো স্মৃতিতে…বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই