মেইন ম্যেনু

কেনিয়ার এক মুসলিম হিরো

কেনিয়ার মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় একটা নাম সালাহ ফারাহ। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। দেশটিতে তিনি এখন সবার কাছে একজন খাঁটি ‘হিরো’। আর হবেনই বা না কেন? নিজের জীবন দিয়ে খ্রিস্টান শিশু এবং এক গর্ভবতী নারীকে বাঁচিয়েছেন তিনি। আর একারণেই সবাই তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছে। সম্প্রতি একটি সামাজিক মাধ্যম তার পরিবারকে সাহায্যের জন্য ফান্ড গঠনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসে মান্দেরা থেকে নাইরোবিতে যাচ্ছিলেন ফালাহ। পথে আল শাবাবের এক যোদ্ধা ওই বাসে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা খ্রিস্টান যাত্রীদের আলাদা করার জন্য ফালাহকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ফালাহ সেই নির্দেশ অমান্য করায় তাকে গুলি করা হয়।

তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন। অবশেষে রোববার তিনি জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরেন। নিজে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই থেকে ১০ বছরের চার শিশু এবং এক গর্ভবতী নারীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।

ফালাহর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য অনলাইনে একটি ফান্ড গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের একজন সদস্য হলেন আব্দুল্লাহী দেরো। মান্দিরার ২৬ বছর বয়সী এই কর্মী বলেন, ‘ফালাহ একজন হিরো।’। তিনি আল জাজিরার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ‘ফালাহ তার পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা এবং তার ছোট ছোট সন্তানদের দেখার কেউ নেই।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘আমি ভাবছি কিভাবে আমরা এই অসহায় পরিবারকে সাহায্য করতে পারি। কেনিয়ার প্রত্যেকেরই এই হিরোকে সম্মান জানানো উচিত। কেননা তিনি যা করেছেন তা শুধু কেনিয়ার মানুষের জন্য নয় তা ছিল মানবিকতাও।’

ফালাহন সন্তানদের অভিভাবক হিসেবে রয়েছেন তার চাচাতো ভাই রশিদ। রশিদ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ফান্ড গঠনের জন্য যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তাতে ফালাহর পরিবারের সম্মতি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এই ছোট শিশুদের আশ্রয় প্রয়োজন, তাদের শিক্ষা এবং একটু যত্ন প্রয়োজন।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, ধার্মিক হিসেবে ফালাহ তার গ্রামে খুবই সম্মানিত। সম্প্রতি একটি বড় প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার পদোন্নতি হয়েছিল। গ্রামে সবাই তাকে অনেক সম্মান করত।

ফালাহর পরিবারের জন্য এ পর্যন্ত দেড় লাখ সিলিং (কেনিয়ার টাকায়) জমা হয়েছে। এ সম্পর্কে দেরো বলেন, ‘যদি কেউ সামান্য সিলিংও পাঠায় তবে এটা আমাদেরকে একটি বড় ফান্ড গঠনে সহায়তা করবে।’






মন্তব্য চালু নেই